আরবী সংখ্যার নকশার মাধ্যমে রুকিয়াহ্ করা জায়েজ কি না?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
হুজুর আরও বলেছে জাদু কাটাতে হলে পাল্টা জাদু করতে হবে। কিন্তু বোনটি এতে রাজি হয়নি। সে ইউটিউবে একজন রাকীর ভিডিও দেখেছে যেখানে বলা হয়েছে আরবী সংখ্যা দিয়ে তৈরি একটা নকশা জাফরান বা লাল কালিতে লিখে আতর এ ডুবিয়ে গায়ে বেঁধে রাখলে এটা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এখন প্রশ্ন হলো এই ধরনের কাজ করা জায়েজ কি না?
Answer
আরবী সংখ্যার নকশার মাধ্যমে রুকিয়াহ করা জায়েজ কি না?
উত্তর
না, প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে—অর্থাৎ আরবী সংখ্যা দিয়ে তৈরি নকশা জাফরান বা লাল কালিতে লিখে আতরে ডুবিয়ে গায়ে বেঁধে রাখা—এভাবে রুকিয়াহ করা জায়েজ নয়। এটি শরীয়তসম্মত রুকিয়াহর অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ বলেন:
"যদি তাবিজে কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম থাকে এবং তা আরবী ভাষায় স্পষ্টভাবে লেখা হয়, তবে তা জায়েজ—শর্ত হলো, তাতে কোনো রহস্যময় সংখ্যা, অক্ষর বা অজ্ঞাত নাম থাকবে না। আর যদি তা বোধগম্য না হয় বা রহস্যময় হয়, তবে তা নিষিদ্ধ।" — (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৩)
আরবী সংখ্যা দিয়ে তৈরি নকশা সাধারণত বোধগম্য নয়, বরং রহস্যময় ও জাদুকরদের পদ্ধতির অনুরূপ। তাই তা নিষিদ্ধ।
৩. ফাতাওয়া উসমানীতে স্পষ্ট বক্তব্য
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) ফাতাওয়া উসমানি-তে বলেন:
"আজকাল কিছু রাকী (ঝাড়ফুঁককারী) আরবী সংখ্যা, অক্ষর বা জাদুকরদের নকশা ব্যবহার করে তাবিজ তৈরি করে। এগুলো শরীয়তসম্মত রুকিয়াহ নয়; বরং এগুলো জাদুর অন্তর্ভুক্ত। এগুলো ব্যবহার করা হারাম।" — (ফাতাওয়া উসমানি: ২/৩৯০-৩৯২, প্রাসঙ্গিক)
৪. শরীয়তসম্মত রুকিয়াহর পদ্ধতি
রুকিয়াহ জায়েজ, তবে তা হতে হবে:
- কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত দুআ দ্বারা
- আরবী ভাষায় স্পষ্ট ও বোধগম্য
- রহস্যময় সংখ্যা, অক্ষর বা জাদুকরদের নকশা মুক্ত
- নিজে পড়ে ফুঁ দেওয়া বা পড়ে ফুঁ দেওয়া—উভয়ই জায়েজ
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার উপর রুকিয়াহ করতেন এবং বলতেন:
بِسْمِ اللَّهِ، تُرْبَةُ أَرْضِنَا، بِرِيقَةِ بَعْضِنَا، يُشْفَى سَقِيمُنَا، بِإِذْنِ رَبِّنَا
"আল্লাহর নামে, আমাদের ভূমির মাটি, আমাদের কারও লালা সহ, আমাদের রোগী সুস্থ হবে আমাদের রবের অনুমতিক্রমে।" — (সহীহ বুখারী: ৫৭৩৫, সহীহ মুসলিম: ২১৯৪)
জাদু থেকে মুক্তির শরীয়তসম্মত উপায়
১. আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস নিয়মিত পড়া ও ফুঁ দেওয়া ২. সকাল-সন্ধ্যা রাসূল ﷺ-এর মাসনুন দুআ পড়া ৩. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত রাতে পড়া ৪. তাহাজ্জুদ ও দুআ করা ৫. সদকা করা ৬. কুরআন তিলাওয়াত বাড়ানো