ঝগড়ার সময় স্বামী "তুই চলে যা আর আসিস না" বললে কি তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4202
Questioner: Amzad amzad
Question Asked: 20 Aug 2026, 12:41 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 01:00 PM
Views: 23
Tokens: 2,378
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমার হাসব্যান্ড ঝগড়া করে আমাকে বলসে তুই চলে যা আর আসিস না। এই কথা দুই বার বলসে, এখন কি আমার তালাক হয়ে গেসে?? আমি সঠিক গুনতে পারি নাই কতো বার বলসে তবে আমি দুইবার শুনসি।

Answer

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। ইসলামি আইনে (ফিকহ) তালাকের ক্ষেত্রে নিয়্যত (ইন্তেনশন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যে বাক্যটি উল্লেখ করেছেন— "তুই চলে যা আর আসিস না" — এটি একটি কিনায়া (অস্পষ্ট/ইঙ্গিতমূলক) শব্দ। কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক শুধুমাত্র তখনই পতিত হয়, যদি স্বামীর নিয়্যত তালাক দেওয়ার থাকে।

হানাফি ফিকহের বিধান:

১. কিনায়া শব্দে তালাক: "তুই চলে যা", "তোর জন্য আমি নেই", "তুই আমার থেকে মুক্ত" ইত্যাদি বাক্য কিনায়া। এই ধরনের বাক্যে তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্বামীর নিয়্যত (তালাকের ইচ্ছা) শর্ত। যদি স্বামী ঝগড়ার সময় রাগের মাথায় শুধু "চলে যাও" বলে থাকে এবং তার নিয়্যত তালাক দেওয়ার না হয়, তবে তা তালাক গণ্য হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩)

২. দুইবার বলার প্রভাব: যেহেতু বাক্যটি কিনায়া, তাই দুইবার বললেও তালাক পতিত হবে না, যতক্ষণ না স্বামীর নিয়্যত তালাকের থাকে।

৩. ঝগড়ার সময় রাগের কথা: ঝগড়ার সময় উচ্চারিত কিনায়া শব্দে সাধারণত তালাক পতিত হয় না, যদি না স্বামী পরে স্বীকার করে যে সে তালাকের নিয়্যতেই বলেছিল। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪০০; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪৩৫)

আপনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত:

যেহেতু আপনার স্বামী "তুই চলে যা আর আসিস না" বলেছে— এটি কিনায়া শব্দ। আপনার স্বামী তালাকের নিয়তে উক্ত বাক্য বলে থাকলে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।

যদি একাধিক তালাকের নিয়ত করে, সেক্ষেত্রে একাধিক তালাকই পতিত হবে। আর যদি তালাকের কোন নিয়তই না করে, সে ক্ষেত্রে তালাক পতিত হয়নি

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.