তালাকের ওয়াসওয়াসা নিয়ে প্রশ্ন
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বারকাতুহ
মুফতি ইমাদুল হক হুজুরকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করছি
আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম প্রশ্ন নাম্বার 4093
1 সেখানে আপনি উত্তর দিয়েছেন
যে সুস্থ মস্তিষ্ক হতে হবে সুস্থ মস্তিষ্ক বলতে গেলে আমি একজন সন্দেহ ভাজন ব্যক্তি আমার সূচি রোগ আছে মানে ওয়াসওয়াসা। এবং এটা আমার ফ্যামিলির সবাই জানে আমার স্ত্রী তো আমাকে রীতিমতো এটা নিয়ে আমাকে ঠাট্টা করে যে আমার সুচি রোগ রয়েছে তুই আমাকে বলে যে আমি বলে তোমার সঙ্গে সংসার করছি। তোমরা মেয়ে হলে তোমার সঙ্গে এরকম সংসার করতো না। তো যায় আমার কিন্তু সূচি রোগ রয়েছে ভালোবাসা গত চার বছর ধরে এই রোগে ভুগছি। সাহস করে ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না এবং আমার মহল্লার লোকেরাও জানে আমার সূচি রোগ রয়েছে। এটা একটি বিষয় যে আমি সুস্থ মস্তিষ্ক নয়।
2 আমি বলেছিলাম তালাকের কথা মনে পড়লে আমি নিজেকে বলতাম যে আমি মুখে উচ্চারণ করে শর্তযুক্ত তালাক দিয়েছি" ভুল করে দিয়েছি হয়ে গেছে, দিয়েছি তো হবে, মানে আমি নিশ্চিত ছিলাম না
3 আপনি বলেছেন যে যদি আমি তখন নিশ্চিত ছিলাম যে আমি মুখে উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছি তাহলে এখন সন্দেহ করলেও তালাক কার্যকর হবে। কিন্তু হুজুর আমি এখন তো নিশ্চিত হতে পাচ্ছিনা যে আমি তখন নিশ্চিত ছিলাম কি যে মুখে উচ্চারণ করেছি মাথায় অনেক প্রেসার দিচ্ছি কিছুতেই উত্তর পাচ্ছি না নিজে অনেক ভাবছি বাট কোন সঠিকভাবে নির্দিষ্টভাবে কিছু ভেবে উঠতে পারছি না নিশ্চিত হতে পারছি না
4 হুজুর হুজুর আপনি বলতে পারেন তাহলে এতদিন পরে এসেছি কেন যবে আমি বলব যে আমার সব সময় তালাক নিয়ে অসচ্ছা হয়। নিশ্চিত হতে পারতাম না যে মুখে উচ্চারণ করেছি কি এমন উদাহরণ দিয়ে বলি আমি ভাত খাচ্ছিলাম সেই সময় যেন উদিত হয়েছিল যে আমার স্ত্রী তালাক এরকম যেন উদিত হচ্ছিল সেই সময় আমি প্রশ্ন করে জেনেছি যে নিশ্চিত না হলে হবে না এবার সেটা সেই সময়ের জন্য তাই আমি সেই সময় হয়তো প্রশ্ন করেছি উত্তর পেয়েছি কোন হুজুরের কাছে। কিন্তু এটা হল ভবিষ্যৎকালীন মানে সত্যযুক্ত তালা তো আমি এইভাবে হয়তো করে এসেছি এটাও হতে পারে যে এটা এমন কি ব্যাপার এটা করে। এরকম ভেবে হয়তো সত্বগুলো করে আসছিলাম কিন্তু এখন অদৃষ্ট হয়ে যাচ্ছে কষ্ট হচ্ছে এভাবে আমি জীবন চলতে পারে না আমার সঠিক পরামর্শ চাই সেই জন্য হয়তো এই মাশালাট এখন নিচ্ছি তখন হয়তো সঙ্গে সঙ্গে তালাক হতে পারে এমন বিষয় ছিল না সেই জন্য তখন নিয়ে নি এটা ভবিষ্যৎকালীন বলে তাই হয়তো সেই সময় সত্য নেই মাসালা নিয়ে নি এখন নিচ্ছি অদৃষ্ট হয়ে করতে অসুবিধা হচ্ছে তাই হতে পারে কিন্তু আমি নিশ্চিত নয়
5 আমি বলছেন নিকটবর্তী আলেম এর কাছে আমি গিয়ে যেন আমার অবস্থান জারি করি কিন্তু হুজুর আমার মহালয় যিনি আলেম তিনি মাওলানা তিনি মুফতি নয় তিনি এতোটুকু বলেন যা কিছু হয় তোমার স্ত্রীকে জানাতে হবে তবে তালাক হবে তোমার স্ত্রী নাজালে তালাক হবে না একবার আমি তার কাছে সরাসরি গিয়ে কোন একটা বিষয়ে মাসালা নিয়েছিলাম এরকম ওসওসা বিষয় ছিল তিনি আমাকে বলেছিলেন কথাটা তোমার স্ত্রীর কানে পৌঁছাতে হবে তবে তালাক হবে না হলে তালাক হবে না তিনি জানেন যে আমার ওস ওসা আছে এখন আমি তোমাকে তানার কাছে স্বীকার করেছিলাম আর আমার জানার মধ্যে আমাদের এখানে কোন ফতোয়া মুফতি নেই এবং ওরকম মুক্তি নেই কারণ এটা ভারত ইন্ডিয়া।
6 আর একটা বিষয় ওসওয়াসা হচ্ছে, এমন মনে হচ্ছে যে যে আমি যে সত্যযুক্ত তালাক দিয়েছি মানে মুখে উচ্চারণ করেছি কি সেটা তো নিশ্চিত নয়। কিন্তু তালাক হবে এমন বলার জায়গা মৃত্যু হবে এটা বলিনি তো কারণ এরকম আমার হয় হুজুর এটা অস্বীকার করার কিছু নেই যে আমার যখন তালাক নিয়ে অস্বাস আসতো জানো আমার মনে হচ্ছে আমি সিরিতে ঠিকমতো পা না দিলে আমার স্ত্রী তালাক হবে এরকম যেন ভাবনা আসত আমি তালাকে জায়গায় মৃত্যু হবে এরকম বলতাম আমার এটা মনে আছে এরকম ভাব না হলে প্রায় সময় ও বলে থাকি মৃত্যু হবে আমার মৃত্যু হবে এরকম বলি নামাজের মধ্যে ওরকম তালা নিয়ে ভাবনা আসে আমি সেই সময় বলে আমার মৃত্যু হবে। তো এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে, তালাকের জায়গায় মৃত্যু হবে এটাও বলে থাকতে পারি। এখন হুজুর আমি কি করবো আমি তো পুরোপুরি নিষেধ হতে পারছি না একবার মনে হচ্ছে আমি সঠিকভাবে প্রশ্ন করছি তো আমি কিছু লুকাচ্ছি না তো? তোমার অন্তরে এরকম খেয়াল আছে আমি কিছু বুঝতে পারছি না মাথা। কাজ করছে না আমি কাঁদছি হুজুর। আমার বাঁচার ইচ্ছা হায়রে ফেলেছি। আমাকে দয়া করে সঠিক পরামর্শ দেন কি করব আমি বাঁচার ইচ্ছে যেন হেরে ফেলছি কিন্তু আমি নিশ্চিত হতে পারছি না কি করব আমি নিশ্চিত না হয়ে একটা সম্পর্ক ভেঙে ফেলে কি ঠিক হবে দয়া করে আমাকে সঠিক পরামর্শ দেন
7 আসল সমস্যাটা এটাই যে আমি এতদিন এগুলো করে এসেছি এটাই এখন মেন সমস্যা দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু এটার একটা কারণ হতে পারে আমি নিশ্চিত নয় কিন্তু এটাই হতে পারে যে এগুলো ভবিষ্যৎকালীন শর্ত ছিল তাই আমি সিরিয়াস না নিয়ে এগুলো করে এসেছি এটা একটা কারণ হতে পারে যেমন তিন শ্বাসে পানি পান না করলে আমার স্ত্রী তালাক হবে এটা এমন কি কঠিন কাজ এই ভেবে হয়তো করে এসেছি এতদিন এটাই হতে পারে এখন আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছি না যখন শর্তযুক্ত তালাক দিয়েছিলাম তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম কি যে মুখে উচ্চারণ করে শর্ত দিয়েছি এখন সেটা ও নিশ্চিত হতে পারছি না এবং তালাক হবে বলেছি না আমার মৃত্যু হবে এটা বলেছি এখন তো এটাও সন্দেহ হচ্ছে আর এখন তো আমি নিশ্চিত হতেই পাচ্ছি না কোনমতে। তো দয়া করে বলেন কি করতে পারি। কারণ আমার ওয়াসওয়াসা আছে আমি যে কোন কাজ করতে যাই জান আমার মনে হয় এটা না করতে পারলে আমার স্ত্রী তালাক হবে এরকম ভাবনা আসে আবার কখন এমন ভাবনা আসে আমি হুট করে বলে ফেলে আমার মৃত্যু হবে। মনে মনে কখনো উচ্চারণ করে বলে ফেলি আমার মৃত্যু হবে। এমনকি নামাজে দাঁড়ালেও এরকম ভাবনা আছে তখন আমি কি করবো আমাকে দয়া করে সাজেশন দেন। যখন শর্তযুক্ত তালাক দিয়েছিলাম তখন নিশ্চিত ছিলাম কি এখন আমি কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছি না ভাবতে গেলে নানান রকম ভাবনা আসছে স্থির হতে পারছিনা ডিসিশন নিতে পারছি না কি করব মনটা কেমন যেন ছটফট ছটফট করছে, দয়া করে আমাকে সাজেশন দেন। আরেকটি বিষয় শর্ত যুক্ত কালার গুলো নিজের কাছে নিজে ঘুইরাফিরে যখন বলতাম তখনই কিন্তু এরম ভাবনা আসত যে আদৌ আমি মুখে উচ্চারণ করা শর্ত দিয়েছি তো আমি খালি করেই যাচ্ছি সন্দেহ তখনও ছিল যতটা মনে হচ্ছে নিশ্চিত ছিলাম না কিন্তু এভাবে তো জীবন চলতে পারে না সঠিক টা তো জানতে হবে হুজুর আর শর্তগুলো বুঝতে না পেরে ঘুরিয়া ফিরিয়ে বলার জন্য নতুন সত্যি হিসেবে গণ্য হবে না তো? আমি কিন্তু নতুন সত্য দেয়ার উদ্দেশ্য করে বলিনি বুঝতে না পেরে বলেছি। যে কি সত্য দিয়েছিলাম এবং তখন সন্দেহ ছিল যা তো আমি সত্য এখন কি করব
এটি আলাদা প্রশ্ন
কেউ যদি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে ফেলে কিন্তু সে নিশ্চিত নয়, সে মুখে উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছে কি। কিন্তু সন্দেহ কাটাবার কারণে সে তার ফুপুর ছেলেকে তার স্ত্রীকে বিয়ে করতে বলে। যদি তার ফুফুর ছেলে বিয়ে করে একবার সহবাস করে যদি ছেড়ে দেয় তাহলে কি তার স্ত্রী তার জন্য হালাল হবে। যদি সে নিজে থেকে বিয়ে করতে রাজি না হয় তাকে কিন্তু তাকে বোঝানোর পর সে বিয়েতে রাজি হয় এবং বিয়ে করে একবার সহবাস করে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে ছেড়ে দেয় তাহলে পরবর্তীকালে কি তার জন্য এই মেয়েটি হালাল হবে দয়া করে একটু আমাকে জানান
Answer
উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, আপনার দীর্ঘ ও জটিল প্রশ্নটি আমি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনি ওয়াসওয়াসায় (সন্দেহপ্রবণতা) ভুগছেন, যা একটি মানসিক রোগ। প্রথমে আমি আপনাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করতে চাই:
১. ওয়াসওয়াসা ও তালাকের বিধান
ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) একটি রোগ, যা থেকে মুক্তি পেতে আপনার চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। ইসলামী আইনে, ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির তালাকের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ" "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কথা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।" (সহীহ বুখারী: 2528, সহীহ মুসলিম: 127)
তবে ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত, তার তালাক কার্যকর হবে না যদি সে নিশ্চিত না থাকে যে সে সত্যিই তালাক দিয়েছে। কারণ ওয়াসওয়াসা ব্যক্তির ইচ্ছা ও সংকল্পকে দুর্বল করে দেয়।" (মাজমু' ফাতাওয়া: ৩৩/৮০)
২. আপনার প্রশ্নের উত্তর
ক. সন্দেহের ক্ষেত্রে মূলনীতি
ইসলামী আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো:
"اليقين لا يزول بالشك" "সন্দেহের দ্বারা নিশ্চিত বিষয় বাতিল হয় না।"
অর্থাৎ, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিশ্চিত না হন যে আপনি মুখে উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না। সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক কার্যকর করা যাবে না।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"যদি কোনো ব্যক্তি সন্দেহ করে যে সে তালাক দিয়েছে কি না, তবে মূলনীতি হলো সে তালাক দেয়নি। কারণ মূল অবস্থা হলো বিবাহ বহাল থাকা, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে তালাক হয়েছে।" (মাজমু' ফাতাওয়া: ৩৩/৮০)
খ. শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে
আপনি বলেছেন যে আপনি শর্তযুক্ত তালাক দিয়েছিলেন। এখন প্রশ্ন হলো, সেই শর্ত পূরণ হয়েছে কি না?
- যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে শর্ত পূরণ হয়েছে, তবে তালাক কার্যকর হবে না।
- যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে আপনি মুখে উচ্চারণ করে শর্ত দিয়েছেন, তবে তালাক কার্যকর হবে না।
শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"যদি কোনো ব্যক্তি শর্তযুক্ত তালাক দেয় এবং পরে সন্দেহ করে যে শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তবে মূলনীতি হলো শর্ত পূরণ হয়নি, তাই তালাক কার্যকর হবে না।" (আশ-শারহুল মুমতি': ১৩/৮০)
গ. "মৃত্যু হবে" বলার বিষয়ে
আপনি বলেছেন যে তালাকের জায়গায় আপনি "মৃত্যু হবে" বলতেন। এটি তালাক নয়। "মৃত্যু হবে" বলা তালাকের শব্দ নয়, তাই এটি দ্বারা তালাক কার্যকর হবে না। এটি কেবল একটি দোয়া বা বক্তব্য, যা তালাকের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ঘ. নতুন সত্য দেওয়ার বিষয়ে
আপনি জিজ্ঞেস করেছেন যে শর্তগুলো বুঝতে না পেরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলার জন্য নতুন সত্য হিসেবে গণ্য হবে কি না। উত্তর হলো: না। যদি আপনি বুঝতে না পেরে বা ওয়াসওয়াসার কারণে কিছু বলে থাকেন, তবে তা নতুন সত্য হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ নিয়ত ও ইচ্ছা ছাড়া উচ্চারিত শব্দ তালাক কার্যকর করে না।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى" "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" (সহীহ বুখারী: 1, সহীহ মুসলিম: 1907)
৩. দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: তিন তালাকের পর হালাল হওয়ার বিষয়ে
আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো: কেউ যদি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে ফেলে কিন্তু নিশ্চিত না হয়, তারপর সন্দেহ কাটানোর জন্য সে তার ফুফুর ছেলেকে তার স্ত্রীকে বিয়ে করতে বলে। ফুফুর ছেলে বিয়ে করে সহবাস করার পর ছেড়ে দিলে স্ত্রী কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে?
উত্তর:
প্রথমত, যদি প্রথম স্বামী নিশ্চিত না হয় যে সে তিন তালাক দিয়েছে, তবে তালাকই কার্যকর হয়নি। তাই প্রশ্নই ওঠে না। বিবাহ বহাল থাকবে।
দ্বিতীয়ত, যদি নিশ্চিতভাবে তিন তালাক হয়ে থাকে, তবে তিন তালাকের পর স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হওয়ার শর্ত হলো:
- স্ত্রী ইদ্দত পালন করবে।
- স্ত্রী অন্য একজন পুরুষকে বিয়ে করবে (বৈধভাবে)।
- সেই দ্বিতীয় স্বামীর সাথে সহবাস করবে।
- দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেবে বা মৃত্যুবরণ করবে।
- স্ত্রী ইদ্দত পালন করবে।
- এরপর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো: দ্বিতীয় বিয়েটি সত্যিকারের বিয়ে হতে হবে, যেখানে দ্বিতীয় স্বামীর সত্যিকারের নিয়ত থাকতে হবে স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে রাখার। যদি বিয়েটি কেবল প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রীকে হালাল করার উদ্দেশ্যে হয় (তাহলিল বিয়ে), তবে তা হারাম ও বাতিল।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ" "আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন তাহলিলকারীকে এবং যার জন্য তাহলিল করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ: 2076, সুনানে তিরমিজি: 1120 - সহীহ)
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"তাহলিল বিয়ে (যে বিয়ে কেবল প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রীকে হালাল করার উদ্দেশ্যে করা হয়) হারাম এবং বাতিল। এই বিয়েতে স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না।" (মাজমু' ফাতাওয়া: ৩২/১০৯)
তৃতীয়ত, আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, ফুফুর ছেলেকে বিয়ে করার জন্য বোঝানো হয়েছে এবং সে রাজি হয়েছে। যদি এই বিয়ের উদ্দেশ্যই হয় প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রীকে হালাল করা, তবে এটি তাহলিল বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে এবং তা বাতিল। ফলে স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না।
তবে যদি ফুফুর ছেলে সত্যিকারের নিয়তে বিয়ে করে এবং পরে স্বাভাবিক কারণে তালাক দেয়, তবে স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হতে পারে।
৪. আপনার জন্য বিশেষ পরামর্শ
ক. চিকিৎসা নিন
আপনি বলেছেন যে আপনার ওয়াসওয়াসা রোগ রয়েছে এবং ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন না। আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, দয়া করে একজন ভালো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের (সাইকিয়াট্রিস্ট) কাছে যান। এটি একটি রোগ, লজ্জার বিষয় নয়। চিকিৎসা নিলে ইনশাআল্লাহ আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
খ. ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির উপায়
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য বলেছেন:
"يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ؟ فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ" "শয়তান তোমাদের কারো কাছে এসে বলে: এটা কে সৃষ্টি করেছে? ওটা কে সৃষ্টি করেছে? এমনকি বলে: তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? যখন এই পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং বিরত থাকে।" (সহীহ বুখারী: 3276, সহীহ মুসলিম: 134)
গ. তালাকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি নিশ্চিত নন যে আপনি মুখে উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছেন। তাই ইসলামী নীতি অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হবে না। আপনার স্ত্রী আপনার সাথে বৈধভাবে বিবাহিত রয়েছেন।
শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেছেন:
"যদি কোনো ব্যক্তি সন্দেহ করে যে সে তালাক দিয়েছে কি না, তবে তালাক কার্যকর হবে না। কারণ মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকা, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়।" (আল-মুনতাকা: ৫/৩০০)
ঘ. ওয়াসওয়াসা অবস্থায় তালাকের বিধান
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না, কারণ তার ইচ্ছা ও সংকল্প দুর্বল। সে যা বলছে তা তার সত্যিকারের ইচ্ছা নয়।" (মাজমু' ফাতাওয়া: ৩৩/৮০)
৫. সংক্ষিপ্ত উত্তর
| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | আমি নিশ্চিত নই যে মুখে উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছি | তালাক কার্যকর হবে না | | "মৃত্যু হবে" বলা | এটি তালাক নয়, তালাক কার্যকর হবে না | | শর্ত পূরণ হয়েছে কি না সন্দেহ | তালাক কার্যকর হবে না | | বুঝতে না পেরে কিছু বলা | নতুন সত্য হিসেবে গণ্য হবে না | | তাহলিল বিয়ে | হারাম ও বাতিল, স্ত্রী হালাল হবে না |
৬. চূড়ান্ত পরামর্শ
-
আপনার স্ত্রী আপনার জন্য হালাল। আপনার বিবাহ বহাল আছে। আপনি নিশ্চিত নন বলে তালাক কার্যকর হয়নি।
-
আপনার ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা করান। এটি একটি রোগ, চিকিৎসা প্রয়োজন।
-
ওয়াসওয়াসা এলে "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।
-
তালাক নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করুন। যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হন (যা আপনার ক্ষেত্রে সম্ভব নয়), ততক্ষণ তালাক কার্যকর হবে না।
-
আপনার স্ত্রীর সাথে ভালোভাবে জীবনযাপন করুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।
"وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا" "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।" (সূরা আত-তালাক: ২)
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।