কতটুকু খাবার গ্রহণ করা জায়েজ?

Family Life · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4075
Questioner: Jannatul Ferdous Pushpa
Question Asked: 17 Aug 2026, 04:09 PM
Reviewed & Published: 17 Aug 2026, 05:19 PM
Views: 33
Tokens: 4,883
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

উনি আমার স্বাস্থ্য ভালো হওয়ার জন্য ওষুধ এনে দিয়েছেন। কিন্ত খাবারে ঘাটতি করে রাখেন। মাংস রান্না করলে আমাকে আগেই বলে এটা অমুকের জন্য রান্না করতেছি, অমুক খেতে পারলেই হবে ইত্যাদি। দু একদিন আগে আব্বু এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে দেখে আমি দুপুরে খাইনি। আসলে আম্মু খেতে বলেনি তাই খাইনি। আম্মুও খায়নি। এরপর থেকে আগের মতো আর ঘাটতি করে না আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সেটা হয়তো লজ্জায়। তাই হারামে পড়ার আশঙ্কা আছে।আব্বুও যে আমার প্রতি খুব একটা সদয় এমন ও না। আব্বুও আমাকে চাকরির জন্য বকাবকি করে।আমার হিসাব বলে হয়তো আমাকে আম্মুর বোঝা লাগতেছে অথবা আমাকে উপার্জনে বাধ্য করার জন্য করছে। আমাকে সুযোগ সুবিধা বা আরামে রাখলে আমি উপার্জন করব না,এইটা হওয়ার সম্ভাবনা ই বেশি। উনি আমাকে অসংখ্য বার ঢাকা চলে যেতে বলেছেন। চাকরি করতে বলেন। আগে উনি এমন করতেন না। বিয়ে আর রিযিক তালাশের চেষ্টা করছি। আলহামদুলিল্লাহ।


আমি জানতে চাই আমার বাবা মা দুইজন ই যেহুতু খরচ করে, কতটুকু খাবার গ্রহণ করা জায়েজ হবে?

Answer

কতটুকু খাবার গ্রহণ করা জায়েয?

উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু 'আলা রাসূলিল্লাহ।

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন:

১. পিতা-মাতার খরচে সন্তানের খাওয়ার বিধান

পিতা-মাতার অর্থ থেকে সন্তান খাওয়া জায়েয, তবে তা প্রয়োজন অনুযায়ী এবং ন্যায্য পরিমাণে হতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"তোমার সম্পদ এবং তোমার সন্তানের সম্পদ — উভয়ই তোমার। যা থেকে তুমি খাবে তা তোমার উপার্জন, আর যা তুমি সাদকা করবে তা তোমার সঞ্চয়।" — সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩২৮ (শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)

আরেকটি হাদিসে এসেছে:

"তোমার জন্য এবং তোমার সন্তানের জন্য খাওয়া-দাওয়া করা ন্যায়সঙ্গতভাবে জায়েয।" — সুনানে আবু দাউদ: ৩৫৩২ (শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)

২. ন্যায্য পরিমাণ কী?

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"সন্তানের জন্য পিতা-মাতার সম্পদ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়া জায়েয, তবে অপচয় বা বাড়াবাড়ি করা যাবে না।"

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আরও বলেন:

"যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার অর্থ থেকে খায়, সে যেন ন্যায্য পরিমাণে খায় — যা তার প্রয়োজন পূরণ করে, কিন্তু অপচয় না করে।"

৩. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম

আপনার পরিস্থিতিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন:

১. প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়া: আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার খেতে পারবেন — না খেয়ে থাকা বা নিজেকে ক্ষুধার্ত রাখা জায়েয নয়। ইসলাম ক্ষুধার্ত থাকাকে উৎসাহিত করে না।

২. অপচয় না করা: অপচয় বা বাড়াবাড়ি করা যাবে না। আল্লাহ বলেন:

"নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।" — সূরা আল-ইসরা: ২৭

৩. পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার: পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করা এবং তাদের সম্মান করা ফরজ। তবে তাদের কোনো নির্দেশ যদি হারাম বা অন্যায় হয়, সেটা মানতে হবে না।

৪. পিতা-মাতার দায়িত্ব

পিতা-মাতার জন্য সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া ফরজ। শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"পিতা-মাতার উপর সন্তানের খাদ্য, বস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করা ওয়াজিব, যদি সন্তান নিজে উপার্জনে সক্ষম না হয়।"

৫. চাকরির বিষয়ে

চাকরি বা উপার্জনের জন্য পিতা-মাতার চাপ দেওয়া — যদি তা বৈধ উপায়ে হয় এবং আপনার জন্য ক্ষতিকর না হয় — তবে তা গ্রহণ করা ভালো। তবে যদি চাকরি করতে গিয়ে আপনার দ্বীন বা ইবাদত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আপনি নম্রভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন।

৬. হারামে পড়ার আশঙ্কা

আপনি যদি মনে করেন যে খাবারে ঘাটতির কারণে আপনি হারাম উপায়ে খাবার সংগ্রহ করতে বাধ্য হবেন, তাহলে সেটা আপনার পিতা-মাতার জন্য গুনাহের কারণ হবে। তবে আপনি নিজে терпение (ধৈর্য) ধরুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ বলেন:

"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" — সূরা আত-তালাক: ২-৩

৭. ব্যবহারিক সমাধান

১. নম্রভাবে কথা বলুন: আপনার পিতা-মাতার সাথে নম্রভাবে কথা বলুন যে খাবারের প্রয়োজন আপনার আছে এবং পর্যাপ্ত খাবার না পেলে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।

২. দ্বীনের দৃষ্টিতে বোঝান: তাদেরকে বোঝান যে সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া তাদের দায়িত্ব এবং এতে তাদের সওয়াব রয়েছে।

৩. চাকরির চেষ্টা করুন: যদি সম্ভব হয়, হালাল উপায়ে চাকরি বা উপার্জনের চেষ্টা করুন — তবে এমন চাকরি যা আপনার দ্বীন ও ইবাদতের সাথে আপস না করে।

৪. ধৈর্য ধরুন: আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং ধৈর্য ধরুন। রিজিক আল্লাহর হাতে।

সারসংক্ষেপ

  • আপনি আপনার পিতা-মাতার অর্থ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে পারবেন — এটি জায়েয।
  • অপচয় বা বাড়াবাড়ি করা যাবে না।
  • না খেয়ে থাকা বা নিজেকে ক্ষুধার্ত রাখা জায়েয নয়
  • পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখুন এবং নম্রভাবে আপনার প্রয়োজন জানান।
  • চাকরি বা উপার্জনের চেষ্টা করুন — তবে এমনভাবে যা দ্বীন রক্ষা করে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.