খারাপ ভিডিও দেখার পর তওবা ও করণীয়

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 4074
Questioner: SHADEK HOSSAIN
Question Asked: 17 Aug 2026, 03:48 PM
Reviewed & Published: 17 Aug 2026, 04:04 PM
Views: 22
Tokens: 4,037
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আজকে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে পর্নগ্রাফি দেখে ফেলেছি,,কিন্তু কিছুক্ষন দেখার পর চাকরির এপ থেকে একটা নোটিফিকেশন এসেছে,সাথে সাথে আমি বন্ধ করে দিয়েছি আমার মনে হচ্ছে মরে যাই, এতো অপরাধবোধ লাগছে,, অশ্লীল ভিডিও চলছে তার উপর এই নোটিফিকেশন,,, খুব কষ্ট লাগছে,,,,আমার মনে হচ্চে আমি শেষ,,আল্লাহ আমায় মাপ করবে না, উনি আমার রিজিক নিয়ে নিবেন,,,,
আমার এখন খুব কস্ট হচ্ছে,,তার সাথে মনে হচ্চে সব কিছু নাপাক হয়ে গেলে,,অনেক পানি খরচ করে গোসল করেছি,,কিন্তু তার পরও মনে হচ্ছে পুরো ঘরই নাপাক হয়ে গেছে

Answer

উত্তর

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই/বোন,

আপনার অনুভূতি এবং অপরাধবোধ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। আপনি যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা অনেক মুমিনের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। প্রথমে আমি আপনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানাতে চাই:

১. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেছেন:

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

"বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)

ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, এই আয়াত是所有 গুনাহগারের জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ।

২. তওবার শর্তসমূহ

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ

"গুনাহ থেকে তওবাকারী সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গুনাহই নেই।" (ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)

তওবার জন্য তিনটি শর্ত:

  1. গুনাহ থেকে বিরত থাকা
  2. গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া (যা আপনি অনুভব করছেন)
  3. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প

আপনি ইতিমধ্যেই ভিডিও বন্ধ করে দিয়েছেন এবং অনুতপ্ত হয়েছেন - এটি আপনার তওবার প্রথম ধাপ।

৩. পবিত্রতা ও নাপাকির বিষয়ে

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: পর্নোগ্রাফি দেখা একটি গুনাহ, কিন্তু এটি নাপাকি (শারীরিক/পবিত্রতা সংক্রান্ত) সৃষ্টি করে না। নাপাকি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু কারণে হয় (যেমন: প্রস্রাব, পায়খানা, বীর্য, রক্ত ইত্যাদি)। ভিডিও দেখার কারণে আপনার শরীর, কাপড় বা ঘর নাপাক হয়নি।

৪. ওয়াসওয়াসা (শয়তানি কুমন্ত্রণা) থেকে সতর্কতা

আপনার মনে যে "সবকিছু নাপাক হয়ে গেছে" এবং "আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন না" - এই চিন্তাগুলো শয়তানের ওয়াসওয়াসা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

إِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ مَنْ خَلَقَ كَذَا؟

"শয়তান তোমাদের কাছে এসে বলে, এটা কে সৃষ্টি করল? ওটা কে সৃষ্টি করল?" (বুখারী: ৩২৭৭)

আলেমগণ বলেন, গুনাহের পর শয়তান মুমিনকে ওয়াসওয়াসায় ফেলে দেয় যাতে সে তওবা করতে না পারে এবং হতাশ হয়ে পড়ে।

৫. রিজিকের বিষয়ে

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا

"আর এমন কোনো জীব নেই পৃথিবীতে যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই।" (সূরা হুদ: ৬)

আপনার একটি গুনাহের কারণে আল্লাহ আপনার রিজিক বন্ধ করবেন না। তবে গুনাহের কারণে বরকত কমতে পারে, যা তওবার মাধ্যমে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

৬. ব্যবহারিক পরামর্শ

১. তওবা করুন: দুই রাকাত নামাজ পড়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করুন। ২. পর্নোগ্রাফি ব্লক করুন: আপনার ফোনে পর্নোগ্রাফি ব্লক করার অ্যাপ ব্যবহার করুন। ৩. বিকল্প ব্যবস্থা: যখনই খারাপ চিন্তা আসবে, আল্লাহর জিকির করুন বা কুরআন তিলাওয়াত করুন। ৪. বিবাহের পরামর্শ: যদি বিবাহিত না হন, তবে বিবাহের চেষ্টা করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিবাহ করে। কারণ বিবাহ দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী।" (বুখারী: ৫০৬৫) ৫. রোজা রাখুন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ রোজা তার জন্য ঢাল স্বরূপ।" (বুখারী: ৫০৬৫)

৭. আশার বাণী

আল্লাহর রহমত অপরিসীম। তিনি বলেন:

إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ

"নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।" (সূরা আল-আ'রাফ: ৫৬)

আপনি যে অপরাধবোধ অনুভব করছেন, এটি আপনার ঈমানের প্রমাণ। যাদের ঈমান নেই, তারা গুনাহ করার পরও অনুশোচনা বোধ করে না। আপনার এই অনুশোচনাই আপনার তওবা কবুলের মাধ্যম হবে ইনশাআল্লাহ।

মনে রাখবেন: শয়তান চায় আপনি হতাশ হয়ে পড়ুন এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হন। কিন্তু আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া নিজেই একটি বড় গুনাহ। তাই দৃঢ়ভাবে তওবা করুন এবং আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.