তালাকের ওয়াসওয়াসা নিয়ে প্রশ্ন
Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi
Question
আমার স্বামী অতীতে আমাকে বিদাতি তালাক দিয়েছিল এক পিরিয়ড অবস্থায় দুই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর তখন তো জানতাম না বেদাতি তালাক কি। তাই আমার এক বোনকে বলেছিলাম স্বামী যে তালাক দিল পরবর্তীতে আমি ফতোয়া নেই শহিদুল্লাহ খান মাদানী থেকে ওই ফতোয়া অনুযায়ী বেদাতি তালাক গণ্য হবে না তাই বাতিল সুতরাং কোন তালাক হয়নি কিন্তু বাস্তবতা এখন আর ওই বোনের সাথে যোগাযোগ নেই তাই ওকে জানানো সম্ভব না যে এগুলো বেদাতি তাই বাতিল। এখন ওকে না জানানোর জন্য এটা কি কাযায়ান তালাক হবে? আমারা কখনো কাজীর নিকট আমাদের মাশয়ালা নিয়ে যাই নি মুফতিদের সাথে কথা বলেই সমাধান করেছি। শহিদুল্লাহ হুজুর থেকে ফতোয়া নেওয়ার অনেক মাস পর আমার স্বামী আমাকে আবার তালাক দেওয়ার হুমকি দিল তখন রাগে আমার বাবাকে বলি স্বামী অতীতে তালাক দিছে তখন বাবাকে বলি নাই এটা যে বাতিল এতে কি কাযায়ান তালাক হবে? পরের দিন বাবাকে বলে দিছী তালাক টা বাতিল এটা কি যথেষ্ট
Don’t say it’s counted we already took fatwa from so many mufti not only one and we are following the minority opinion they give us refrence of sheikh assim al hakim sheik bin baz utha Yemen with proper prof now give answers in bangla only the part I ask you about father and sister
Answer
কাযায়ান তালাক (তালাক আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত) সম্পর্কে উত্তর
আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর
আপনি যে পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন, তাতে কাযায়ান তালাক হওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিচ্ছি:
কাযায়ান তালাক কী?
কাযায়ান তালাক হলো সেই তালাক যা আদালত বা কাজী কর্তৃক সিদ্ধান্ত হওয়ার মাধ্যমে কার্যকর হয়। অর্থাৎ, কোনো দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে যখন ইসলামী আদালত বা কাজী রায় দেন, তখন সেটি কাযায়ান তালাক হিসেবে গণ্য হয়।
আপনার ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ
১. বোনকে জানানো প্রসঙ্গে: আপনার বোনকে না জানানোর কারণে কাযায়ান তালাক হবে না। কারণ কাযায়ান তালাকের সাথে আদালত বা কাজীর সিদ্ধান্ত জড়িত, কোনো ব্যক্তিকে জানানো বা না জানানোর সাথে নয়। তালাকের বৈধতা বা অবৈধতা নির্ভর করে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তালাকটি শুদ্ধভাবে হয়েছে কিনা, তার উপর — কেউ জানল বা না জানল তার উপর নয়।
২. বাবাকে জানানো প্রসঙ্গে: আপনি রাগের মাথায় বাবাকে বলেছিলেন যে স্বামী অতীতে তালাক দিয়েছিল, কিন্তু তখন বাবাকে বলেননি যে তা বাতিল। পরের দিন বাবাকে জানিয়েছেন তালাকটি বাতিল। এতেও কাযায়ান তালাক হবে না। কারণ:
- কাযায়ান তালাকের জন্য প্রয়োজন কাজী বা আদালতের রায়, যা আপনার ক্ষেত্রে নেই।
- আপনি বা আপনার স্বামী কখনো কাজীর কাছে যাননি, বরং মুফতিদের সাথে কথা বলে সমাধান করেছেন।
- মুফতির ফতোয়া কাযায়ান সিদ্ধান্ত নয়, বরং শরীয়তের বিধান জানানো মাত্র।
গুরুত্বপূর্ণ নীতি
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তালাকের বিষয়ে মূল কথা হলো — তালাক কার্যকর হবে কিনা তা নির্ভর করে শরীয়তের শর্ত পূরণের উপর, কারো জানা বা না জানার উপর নয়। আর কাযায়ান তালাক তখনই হয় যখন কোনো আদালত বা কাজী রায় দেন।
আপনার করণীয়
- আপনার বোনকে জানানো বা না জানানো তালাকের বৈধতাকে প্রভাবিত করবে না।
- যেহেতু আপনি মুফতিদের কাছ থেকে ফতোয়া নিয়ে জেনেছেন যে তালাকটি বাতিল, এবং আপনি কাজীর কাছে যাননি, তাই এখানে কাযায়ান তালাকের প্রশ্নই আসে না।
- আপনার বাবাকে জানানো বা না জানানোও তালাকের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
মূল কথা: কাযায়ান তালাক শুধুমাত্র আদালত বা কাজীর রায়ের মাধ্যমে হয়। আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু কোনো আদালত বা কাজী জড়িত ছিলেন না, তাই কাযায়ান তালাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আপনার বোন বা বাবাকে জানানো না জানানো এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
দ্রষ্টব্য: তালাকের বৈধতা নিয়ে আপনি ইতিমধ্যে একাধিক মুফতির ফতোয়া নিয়েছেন। যেহেতু বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনার মনে সন্দেহ রয়েছে, তাই সরাসরি কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে জেনে নেওয়া উত্তম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।