ফজরের পর ঘুমানো কি মাকরুহ?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 4035
Questioner: Asma Khatun
Question Asked: 16 Aug 2026, 07:23 AM
Reviewed & Published: 16 Aug 2026, 07:55 AM
Views: 28
Tokens: 1,891
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফজরের পর ঘুমানো কি মাকরুহ

Answer

ফজরের পর ঘুমানো কি মাকরুহ?

উত্তর

ফজরের নামাজের পর ঘুমানো সম্পর্কে ইসলামি বিধান হলো—এটি মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। তবে এর অর্থ এই নয় যে এটি হারাম বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; বরং এটি একটি অপছন্দনীয় কাজ যা পরিহার করা উচিত।

দলিল ও প্রমাণ

১. কুরআন ও হাদিসের আলোকে

ফজরের পর ঘুমানো সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের আমল থেকে এর মাকরুহ হওয়া প্রমাণিত।

হাদিস: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"রাসূলুল্লাহ (সা.) ফজরের পর ঘুমাতে অপছন্দ করতেন এবং ফজরের পূর্বে ঘুমাতেও অপছন্দ করতেন।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৪০৫; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী)

২. হানাফি ফিকহের দলিল

ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৫৩)-তে উল্লেখ আছে:

"ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমানো মাকরুহ। কারণ এই সময়টি বরকত ও রিজিক বণ্টনের সময়।"

রদ্দুল মুহতার (শামী) (১/৩৮০)-এ ইবনে আবিদীন (রহ.) উল্লেখ করেছেন:

"ফজরের পর ঘুমানো মাকরুহ, কারণ এতে দৈনন্দিন রিজিকের সময় নষ্ট হয় এবং বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।"

৩. ইমামদের বক্তব্য

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ বলেন:

"ফজরের পর ঘুমানো মাকরুহ, কারণ এই সময়ে রিজিক বণ্টন করা হয় এবং দোয়া কবুলের সময়।"

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তার ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন:

"ফজরের পর ঘুমানো মাকরুহ। কারণ এই সময়ে ফেরেশতারা রিজিক বণ্টন করেন এবং জিকির-আযকারের জন্য উত্তম সময়।"

মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন:

"ফজরের পর ঘুমানো মাকরুহে তানযিহি (অপছন্দনীয়)। অর্থাৎ এটি পরিহার করা উচিত, তবে করলে গুনাহ হবে না।"

মাকরুহ হওয়ার কারণসমূহ

১. রিজিক বণ্টনের সময়: হাদিসে এসেছে, ফজরের পর সূর্যোদয়ের সময় রিজিক বণ্টন করা হয়। এই সময় ঘুমালে রিজিকে বরকত কমে যায়।

২. বরকতের সময়: ফজরের পরের সময়টি বরকতময়। এই সময়ে ইবাদত, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

৩. সাহাবাদের আমল: সাহাবায়ে কেরাম ফজরের পর ঘুমানো থেকে বিরত থাকতেন এবং এই সময়ে ইবাদত ও জিকিরে মশগুল থাকতেন।

৪. দৈনন্দিন কাজের শুরু: ফজরের পর ঘুমালে দিনের শুরুটা অলসতায় কাটে, যা কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।

ব্যতিক্রম

যদি কেউ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে বা দীর্ঘ সময় ইবাদত করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, অথবা রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে ফজরের পর ঘুমানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে ঘুমানো মাকরুহ হবে না। কারণ শরিয়তের মূলনীতি হলো—প্রয়োজনের তাগিদে অপছন্দনীয় কাজও জায়েজ হয়ে যায়।

করণীয়

১. ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় মশগুল থাকা। ২. সূর্যোদয়ের পর ১৫-২০ মিনিট অতিবাহিত হলে ইশরাকের নামাজ পড়া। ৩. প্রয়োজনে সূর্যোদয়ের পর ঘুমানো, তবে ফজরের পরপরই না ঘুমানো।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমানো মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। তবে এটি হারাম নয়। প্রয়োজনে বা অসুস্থতার কারণে ঘুমালে কোনো গুনাহ হবে না, কিন্তু অভ্যাসগতভাবে ফজরের পর ঘুমানো পরিহার করা উচিত।

আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.