পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করা প্রসঙ্গে
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমি ওবায়দুল হক..! আমি দীর্ঘদিন রিলেশনে থাকার পরে আমি এবং সে এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেই আমরা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করবো যেন আমাদের পরিবার ভবিষ্যতে আমাদের উপর কোন কিছু জোর করে চাপিয়ে দিতে না পারে। আমাদের সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা দুই বছর আগে একজন ইমামের মাধ্যমে এবং বিয়ের জন্য ছেলে পক্ষ থেকে এবং মেয়ে পক্ষ থেকে যত জন সাক্ষীর প্রয়োজন হয় ততজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইসলামিক বিধান মেনে আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়। নিচে কিছু বিষয় আমি পয়েন্ট আকারে লিখে দিচ্ছি..!
১. আমাদের বিয়ের ব্যাপারে আমাদের দুই ফ্যামিলির কেউই কিছু জানতো না..! (এখন আমার ফ্যামিলি অর্থাৎ ছেলের ফ্যামিলির মা ও ছোট ভাই যানে কিন্তু মেয়ের অনুরোধে তার ফ্যামিলির কাউকে এখনো জানানো হয়নি)
২. বিয়েটা পড়ানোর সময় ইমাম ভিডিও কলে ছিলেন এবং বাকিরা সবাই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। (ইমামের সাথে ছেলে পক্ষের একজন ছিলেন)
৩. এই বিয়েতে একটা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছিল এবং সেটা মেয়ের সম্মতিতে..!
৪. এই বিয়ের দলিল স্বরূপ ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের ওপর বিয়ের সমস্ত বিষয়াদি লিখে ছেলে ও মেয়ের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
৫. বিয়ের দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা সম্ভব না হওয়ায় মেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথম রাতে দেনমোহরের অংশ হিসেবে একটা শাড়ি চেয়েছিলেন এবং যথারীতি সেটা তাকে বুঝিয়ে দিয়ে আমরা স্বামী-স্ত্রী শারীরিক সম্পর্কে যুক্ত হয়েছিলাম।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের বিয়েটা হয়েছে কিনা এবং এই বিয়েটা হালাল বা বহল থাকবে কিনা।
Answer
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিয়ে সহীহ হয়েছে কিনা জানতে হলে আরো বিস্তারিত ঘটনা জানতে হবে । নিম্নে এর কারণ ও বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো:
১. বিয়ের শর্তসমূহ পূরণ হয়েছে কিনা?
হানাফী মাযহাব মতে বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ হওয়া আবশ্যক:
- ইজাব (প্রস্তাব) - ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব
- কবুল (সম্মতি) - মেয়ের পক্ষ থেকে সম্মতি
- সাক্ষী - অন্তত দুইজন (সরাসরি) পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষী।
- সাক্ষীদের পরিচয় - সাক্ষীরা যেন প্রকৃতপক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক এবং বিবেকবান হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
২. ইমাম ভিডিও কলে ছিলেন - এতে কি সমস্যা আছে?
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, বিয়ের সময় ইমাম বা কাজী উপস্থিত থাকা আবশ্যক নয়, বরং সাক্ষীদের উপস্থিতি আবশ্যক। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাক্ষীরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না এবং তাদের সামনেই ইজাব-কবুল সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং পদ্ধতি কি ছিলো তা বিস্তারিত জানার প্রয়োজন।
৩. পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করা কি জায়েজ?
হানাফী মাযহাব মতে, প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) নারী-পুরুষের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা জায়েজ, তবে মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হতে পারে। ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর মতে, প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের বিয়ে নিজে সম্পন্ন করতে পারে, তবে উত্তম হলো অভিভাবকের সম্মতি নেওয়া।
***প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিয়ে সহীহ হয়েছে কিনা জানতে হলে আরো বিস্তারিত ঘটনা জানতে হবে । সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাক্ষীরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না এবং তাদের সামনেই ইজাব-কবুল সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং পদ্ধতি কি ছিলো তা বিস্তারিত জানার প্রয়োজন।