ফরজ নামাজে সূরা ফাতিহার পর আয়াত ভুল হলে নামাজ হবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 6105
Questioner: Md Riad Hossain
Question Asked: 29 Sep 2026, 12:27 PM
Reviewed & Published: 29 Sep 2026, 12:53 PM
Views: 36
Tokens: 2,647
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

“ফরজ নামাজে সূরা ফাতিহার পর সূরা আর-রহমানের ৭–৮টি আয়াত পড়ার পর ৯ নম্বর আয়াত পড়তে গিয়ে ভুল করে ফেলি এবং এরপর রুকুতে চলে যাই। তাহলে কি আমার নামাজ হবে

Answer

ফরজ নামাজে সূরা ফাতিহার পর কিরাআতে ভুল হলে নামাজের হুকুম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

ফরজ নামাজে সূরা ফাতিহার পর সূরা আর-রহমানের ৭–৮টি আয়াত পড়ার পর ৯ নম্বর আয়াতে ভুল হয়ে যায়, এরপর রুকুতে চলে যাওয়া হয়। এমতাবস্থায় নামাজ হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, আপনার নামাজ হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ নামাজ সহীহ ও আদায় হয়েছে; এ কারণে নামাজ পুনরায় পড়া বা সিজদা-সাহু করা—কোনোটিই আবশ্যক নয়।

দলিল ও ব্যাখ্যা

১. ফরজ নামাজে সূরা ফাতিহার পর কিরাআতের হুকুম: ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্তত তিন আয়াত বা একটি ছোট সূরা পড়া ওয়াজিব। (আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত; রাদ্দুল মুহতার, ১/৫৪৬)

২. ভুল হওয়ার কারণে ওয়াজিব ছুটে গেলে কী হবে? যদি কিরাআতের ওয়াজিব আদৌ আদায় না হয়, তাহলে সিজদা-সাহু ওয়াজিব হয়। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে ওয়াজিব আদায় হয়ে গেছে—কারণ আপনি সূরা আর-রহমানের ৭–৮টি আয়াত (যা তিন আয়াতের চেয়ে অনেক বেশি) সহীহভাবে পড়েছেন। ৯ নম্বর আয়াতে গিয়ে ভুল হওয়া বা রুকুতে চলে যাওয়া কিরাআতের ওয়াজিবকে বাতিল করে না।

৩. কিরাআতের মাঝখানে ভুল বা আটকে যাওয়ার হুকুম:

  • যদি ভুল এমন হয় যে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায় বা কুরআনের শব্দ বিকৃত হয়ে যায়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • কিন্তু যদি শুধু আটকে যাওয়া, ভুলে যাওয়া বা সামান্য ভুল হয় এবং অর্থ বিকৃত না হয়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হয় না। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৬২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৮০)

৪. সিজদা-সাহু কখন ওয়াজিব হয়:

  • কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে বা বিলম্বে আদায় হলে সিজদা-সাহু ওয়াজিব হয়।
  • আপনার ক্ষেত্রে কিরাআতের ওয়াজিব (তিন আয়াত) আদায় হয়েছে; শুধু ৯ নম্বর আয়াতে ভুল হয়েছে—এটি ওয়াজিব ছুটে যাওয়া নয়, বরং কিরাআতের ধারাবাহিকতায় সামান্য ত্রুটি। তাই সিজদা-সাহু ওয়াজিব নয়।

৫. তবে করণীয় (মুস্তাহাব/সতর্কতা):

  • ভুল হলে সাথে সাথে সঠিক আয়াতে ফিরে আসা বা নিকটবর্তী কোনো আয়াত পড়ে রুকুতে যাওয়া উত্তম।
  • যদি ভুল এতটা হয় যে অর্থই পাল্টে যায় (যেমন: রহমতের আয়াতকে আযাবের আয়াত বানিয়ে ফেলা), তাহলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং পুনরায় পড়তে হবে। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৪৫)

সারসংক্ষেপ সিদ্ধান্ত

| বিষয় | হুকুম | |---|---| | সূরা ফাতিহার পর ৭–৮ আয়াত পড়া | ওয়াজিব আদায় হয়েছে | | ৯ নম্বর আয়াতে ভুল | নামাজ ভঙ্গ করে না (অর্থ বিকৃত না হলে) | | সিজদা-সাহু | ওয়াজিব নয় | | নামাজ পুনরায় পড়া | প্রয়োজন নেই |

উপদেশ: কিরাআত মুখস্থ মজবুত করুন এবং ভুল হলে ঘাবড়ে না গিয়ে ধীরে সঠিক আয়াতে ফিরে আসুন। নিয়মিত তিলাওয়াত অভ্যাস করলে এ ধরনের ভুল কমে যাবে।

রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ১/৫৪৬, ১/৬২৬
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগিরি), ১/৮০
  • ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৪৫
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, কিতাবুস সালাত
  • বেহেশতী জেওর, নামাজ অধ্যায়

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.