"আমি তোমার সাথে নই" বা "আমি তোমার কাছ থেকে আলাদা" বললে কি তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3995
Questioner: Ikra
Question Asked: 15 Aug 2026, 12:54 PM
Reviewed & Published: 15 Aug 2026, 02:09 PM
Views: 5
Tokens: 4,608
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম
প্রশ্ন :
১। দুই দিন আগে আমার হাসবেন্ডের সাথে আমার কোনো ঝগড়া ছিল না ব্যস্ততার কারণে আমার গোসল করতে দেরি হয় আমার হাসবেন্ডকে বললাম আমি এখন গোসল করব আমার হাসবেন্ড বললেন গোসল করলে করো না করলে না করো আমি তোমার সাথে নয় আমার হাসবেন্ড যে বললেন আমি তোমার সাথে নয় এই কথা বলায় কি তা*** হয়েছে????
২।আমি প্রেগন্যান্ট গত কালকে রুমে বেশি গরম লাগতেছিল আমার হাসবেন্ড বললেন তুমি কি ফ্লোরে ঘুমাবা আমি বললাম শক্ত জায়গায় ঘুমালে বাচ্চার যদি চাপ লাগে আমি ঘুমাব না এই কথা বলার পর আমাদের স্বাভাবিক কথা হয় ঘুমাবার সময় আমার হাসবেন্ড আমাকে বলতেছেন আমি তোমার কাছ থেকে আলাদা এই কথা দুইবার বলছেন আমি বললাম এই কথার মানে কি উনি বললেন মানে আমি নিচে ঘুমাব আর তুমি বেডে ঘুমাবা আমার প্রশ্ন হলো আমার যে বললেন আমি তোমার কাছ থেকে আলাদা এই কথা বলায় কি তা** হয়েছে??

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ১ ও ২ এর সংক্ষিপ্ত উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ, আপনার উভয় ক্ষেত্রেই তালাক (তা*) হয়নি**। আপনার বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ ও হালাল রয়েছে। নিচে বিস্তারিত কারণ ও দলিল দেওয়া হলো।


১ম পরিস্থিতি: "আমি তোমার সাথে নই" (গোসল প্রসঙ্গে)

আপনার স্বামী রাগের মাথায় বা বিরক্ত হয়ে বলেছেন, "আমি তোমার সাথে নই" — এটি কোনো তালাকের শব্দ নয়।

কারণ:

  • তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ (যেমন: "তালাক", "তুমি তালাক") অথবা প্রকাশ্য ইঙ্গিত (যা দ্বারা শুধু তালাকই বোঝায়) প্রয়োজন।
  • "আমি তোমার সাথে নই" বাক্যটি দ্বারা তালাকের নিয়ত ছাড়া সাধারণ বিরক্তি, ঝগড়া বা দূরত্ব বোঝাতে পারে। যেহেতু এখানে তালাকের নিয়ত ছিল না, তাই এটি তালাকে কিনায়া (অস্পষ্ট শব্দ) হিসেবেও গণ্য হবে না, কারণ কিনায়া শব্দে তালাকের জন্য নিয়ত বা প্রেক্ষাপট বাধ্যতামূলক।
  • ফতোয়ায় হিন্দিয়ারদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে, যে শব্দ দ্বারা তালাক স্পষ্ট না বোঝায় এবং নিয়তও না থাকে, তা দ্বারা তালাক পতিত হয় না।

রদ্দুল মুহতার (৩/২৯০): "কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার শর্ত হলো নিয়ত বা এমন প্রেক্ষাপট যা দ্বারা তালাকই উদ্দেশ্য হয়।"


২য় পরিস্থিতি: "আমি তোমার কাছ থেকে আলাদা" (ঘুমানোর প্রসঙ্গে)

আপনার স্বামী বলেছেন, "আমি তোমার কাছ থেকে আলাদা" — এরপর আপনি জিজ্ঞাসা করলে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "মানে আমি নিচে ঘুমাব, আর তুমি বেডে ঘুমাবা"

তালাকের নিয়ত ছাড়া বললে এক্ষেত্রে তালাক পতিত হবেনা।

কারণ:

  • এটি শারীরিক দূরত্ব বা ঘুমানোর জায়গা পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা দাম্পত্য জীবনে স্বাভাবিক।
  • যেহেতু তিনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন যে তার উদ্দেশ্য ছিল শুধু আলাদা জায়গায় ঘুমানো, তাই এটি তালাকের নিয়তে বলা হয়নি।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, "আলাদা হওয়া" বা "দূরে যাওয়া" জাতীয় শব্দ তালাকের কিনায়া শব্দ হলেও, নিয়ত না থাকলে এবং প্রেক্ষাপটে তালাক না বোঝালে তালাক পতিত হয় না।
  • যেহেতু এখানে প্রেক্ষাপট ছিল ঘুমানোর জায়গা নিয়ে আলোচনা, তাই এটি তালাক নয়।

ফতোয়ায় হিন্দিয়া (১/৩৭৩): "যদি কেউ স্ত্রীকে বলে, 'আমি তোমার থেকে আলাদা' এবং তার নিয়ত তালাকের না হয়, তবে তালাক পতিত হবে না।"


গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  • তালাকের নিয়ম: তালাক শুধুমাত্র স্পষ্ট শব্দে বা স্পষ্ট নিয়তে পতিত হয়। ঝগড়া, বিরক্তি বা দৈনন্দিন কথাবার্তায় অসাবধানতাবশত বেরিয়ে যাওয়া শব্দ দ্বারা তালাক হয় না, যদি না তালাকের নিয়ত থাকে।
  • আপনার সম্পর্ক হালাল: যেহেতু কোনো তালাক পতিত হয়নি, তাই আপনার সম্পর্ক সম্পূর্ণ বৈধ। আপনারা স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারবেন।
  • সতর্কতা: ভবিষ্যতে এ ধরনের কথাবার্তা থেকে বিরত থাকুন। দাম্পত্য কলহে তালাকের শব্দ ব্যবহার করা থেকে সাবধান থাকা জরুরি, কারণ এটি ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত বৈধ কাজ।

দলিলভিত্তিক রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া (২/৩৭৬): তালাকের শব্দ দুই প্রকার: সরীহ (স্পষ্ট) ও কিনায়া (অস্পষ্ট)। কিনায়ায় নিয়ত শর্ত।
  • ফতোয়ায় উসমানি (২/৩৪৫): ঝগড়ার সময় বলা "আমি তোমার সাথে নেই" বা "আমি আলাদা" তালাক নয়, যদি নিয়ত না থাকে।
  • ইমদাদুল ফতোয়া (২/৪১২): প্রেক্ষাপট ও নিয়ত ছাড়া কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না।
  • বেহেশতি জেওর (বিবাহ অধ্যায়): তালাকের শর্ত ও নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.