শর্তযুক্ত তালাক কখন পতিত হয়?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 3992
Questioner: Forid Hossain
Question Asked: 15 Aug 2026, 12:08 PM
Reviewed & Published: 15 Aug 2026, 02:12 PM
Views: 16
Tokens: 24,744
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু

প্রিয় হুজুর

প্রথম প্রশ্ন
বিগত দিনে আমি আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আমার স্ত্রীর অন্য উপস্থিতিতে আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শর্ত যুক্ত তালাক দিয়েছি। সত্যটা এমন যে আমি একটি সিকিউরিটি গার্ডের জব করি সমস্ত সিকিউরিটিদের একটি whatsapp গ্রুপ রয়েছে সেখানে সবাই নিজের নিজের সমস্যা লেখে আমি সত্য দিয়েছি লেখাগুলো যদি না পড়ি। তাহলে আমার স্ত্রী তালাক হবে। এর থেকে কিছু পয়েন্ট বেড়াচ্ছে যা আমি নিচে দিচ্ছি ।

এক নম্বর পয়েন্ট
আমার যতটা মনে পড়ছে যে আমি শুধু বলেছি না পড়লে আমার স্ত্রী তালাক হবে কিন্তু আমি এটা বলেছি কি আমার মনে নেই যে সঙ্গে সঙ্গে পড়তে হবে। তো আমার জানার বিষয়। আমি পড়ার আগে যদি তার লেখাটা ডিলিট করে দেয় তাহলে এর ফলে কি তালাক হবে। কিন্তু সে কিছু লিখে ছিল সেটা বোঝা যাচ্ছে সেটা ডিলিট হয়নি কিন্তু কি লিখেছিল সেটি ডিলিট করে দিয়েছে এজন্য কি হবে।

দুই নম্বর পয়েন্ট
আমি বলেছি তুই কিছু লিখলে সেটা সেটা পড়বো কিন্তু এটা বলেছি কি মনে নেই যে দাড়ি কমা লিখল সেটা পড়তে হবে। আমার উদ্দেশ্য লেখার পয়েন্ট পড়বো এমনটাই তো নাকি দাড়ি কমা সবই পড়তে হবে।

তিন নম্বর পয়েন্ট
আগে মুখে উচ্চারণ করে সত্য দিয়েছি কি তা এখন মনে করতে পারছি না এখন সন্দেহ হচ্ছে যে আমি সত্যিই এটা মুখে উচ্চারণ করে সত্য দিয়েছি, নাকি তখন মনে মনে উদিত হয়েছিল ভয় পেয়ে এতদিন আমি পূরণ করে আসছি কারন আমার সবসময় তালাক নিয়ে জল্পনা কল্পনা হয় তো তখন যদি সত্যি মুখ উচ্চারণ করে শর্ত যুক্ত তালাক দিয়ে থাকি কিন্তু এখন সেগুলো সন্দেহ পরিণত হয়েছে যে মুখে উচ্চারণ করে দিয়েছে কি নাকি মনে মনে ভাবনা এসেছিল আমি করে আসছি এর ফলে কি আমি একটা বাদ দিতে পারব আর যদি সত্যিই মুখে উচ্চারণ করে দিয়ে থাকি সন্দেহের কারণে যদি বাদ দি এবং সত্যি সেগুলো যদি ঘটে থাকে তাহলে তার জন্য তালাক হবে না তো।

দ্বিতীয় প্রশ্ন
বিগত দিনে আমি আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আমার স্ত্রীর অন্য উপস্থিতিতে আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শর্ত যুক্ত তালাক দিয়েছি। সত্যটা এমন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর নাম শুনলে যদি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না বলে তাহলে আমার স্ত্রী তালাক হবে।এর থেকে কিছু পয়েন্ট বেড়াচ্ছে যা আমি নিচে দিচ্ছি ।

প্রথম পয়েন্ট
আমি বলেছি নবী সাঃ শুনতে পেলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না বললে আমার স্ত্রী তালাক হবে কিন্তু এটা বলিনি আমি নিশ্চিত নয় যে যতবার শুনবো ততবার বলতে হবে ভাই এটা আমার উদ্দেশ্য ছিল কি আমি জানিও না নিশ্চিত হতে পারছি না এখন। তাহলে আমি কি যতবার শুনবো ততবারই বলতে হবে কিন্তু আমি কোন মজলিসে আছি মানে কোন জলসা হচ্ছে সেখানে এতবার নেয়া হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নাম বা কোন নাতে রাসুল গাইছে। সেখানে এতবার নেয়া হয়েছে না সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নাম যে আমি নিশ্চিত হতে পারব না কতবার নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর নাম এসেছে তা আমি ততবার কি করে বলবো আমি যদি নিশ্চিত না হতে পারি যে কতবার শুনেছি তাহলে আমি ততবার কি করে বলবো দয়া করে আমাকে একটু সাজেশন দেন

দ্বিতীয় পয়েন্ট
নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নাম বলতে কি শুধু মোহাম্মদ শুনলে সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলতে হবে এটাই কি কারণ আমি যখন এটা বলেছি তখন আমি আজান শুনতে পেয়েছিলাম যে আসাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাই শুনতে পাওয়ার পর সত্যটা দিয়েছি তো শুধু নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামের কে উদ্দেশ্য করে মুহাম্মদ শুনলে সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলবো নাকি টানা আরো কিছু নাম আছে সেগুলো শুনলেও বলতে হবে সেগুলো যদি আমাকে বলেন।

তৃতীয় পয়েন্ট
আগে মুখে উচ্চারণ করে সত্য দিয়েছি কি তা এখন মনে করতে পারছি না এখন সন্দেহ হচ্ছে যে আমি সত্যিই এটা মুখে উচ্চারণ করে সত্য দিয়েছি, নাকি তখন মনে মনে উদিত হয়েছিল ভয় পেয়ে এতদিন আমি পূরণ করে আসছি কারন আমার সবসময় তালাক নিয়ে জল্পনা কল্পনা হয় তো তখন যদি সত্যি মুখ উচ্চারণ করে শর্ত যুক্ত তালাক দিয়ে থাকি কিন্তু এখন সেগুলো সন্দেহ পরিণত হয়েছে যে মুখে উচ্চারণ করে দিয়েছে কি নাকি মনে মনে ভাবনা এসেছিল আমি করে আসছি এর ফলে কি আমি একটা বাদ দিতে পারব আর যদি সত্যিই মুখে উচ্চারণ করে দিয়ে থাকি সন্দেহের কারণে যদি বাদ দি এবং সত্যি সেগুলো যদি ঘটে থাকে তাহলে তার জন্য তালাক হবে না তো।

চার নম্বর পয়েন্ট
আমি মুখে উচ্চারণ করিনি কিন্তু মনে মনে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর নাম উদিত হল যেমন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এমন উদিত হল শব্দ হলো না উচ্চারণ করলাম না তার জন্য কি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলে দিতে হবে এটাতো শব্দ করে বলিনি নিজের কানে শুনতে পায়নি কিন্তু মনে মনে উদিত হয়েছে তার জন্য সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলতে হবে।

তিন নম্বর প্রশ্ন
বিগত দিনে আমি আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আমার স্ত্রীর অন্য উপস্থিতিতে আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শর্ত যুক্ত তালাক দিয়েছি। সত্যটা এমন যে যদি কোনো হাদিস আসে আমি না পড়লে আমার স্ত্রী তালাক হবে।এর থেকে কিছু পয়েন্ট বেড়াচ্ছে যা আমি নিচে দিচ্ছি ।

এক নম্বর পয়েন্ট
আমি বলেছি যে হাদিস এলে পড়বো নাকি যা কিছু আসবে পড়বো এমন বলেছি নিশ্চিত হতে পারছি না।

দুই নম্বর পয়েন্ট
যেকোনো জায়গায় হাদিস দেখলে পড়বো বলেছি নাকি শুধু ফেসবুকের জন্য বলেছি সেট নিশ্চিত হতে পারছি না। কিন্তু আমার যতটা মনে আছে তখন আমি ফেসবুকের ওপেন করলে যে পেজটি শো হয় সেই পেজটি পড়ছিলাম তখনই এমন শর্ত যুক্ত তালাক দিয়েছি কিন্তু নিষিদ্ধ হতে পারছি না যে যে কোন জায়গায় হাদিস দেখলে পড়বো বলেছি নাকি শুধু ফেসবুকের ক্ষেত্রে ওই হোমপেজে হাদিস এলে পড়বে বলেছি নাকি যায় আসবে সেটা পড়বো এমন বলেছি নাকি ইসলামিক কোন কন্টেনলে পড়বো এমন বলেছি এগুলো এখন আমি সত্যিই নিশ্চিত হতে পারছি না তো এজন্য আমি কি করবো।

তিন নম্বর পয়েন্ট
শর্ত যুক্ত তালাক যখন দিয়েছি তখন এমন বলেছি কি নিশ্চিত নয় যে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পড়বো নাকি পরে পড়ে দিলে হবে নাকি বলেছি দেখলে পর্ব কিন্তু আমার করার আগে যদি ভুল করে রিফ্রেস হয়ে যায় অর্থাৎ আমি পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে মোবাইলটা পস করে দিয়েছি, দিয়ে অন্য কোন কাজ একটা করছিলি পুনরায় সেখানে এসে দেখছি সেটি অটোমেটিক্যালি রিফ্রেস হয়ে গেছে। এর জন্য আমি কি করবো এর জন্য কি তালাক হবে দয়া করে আমাকে উত্তর দেন।



বিদ্রোহ আমার সব সময় তালাক নিয়ে জল্পনা কল্পনা হয় মুখে উচ্চারণ করেছি কি মনে মনে দিয়েছি এরকম চিন্তা ভাবনা আমার সব সময় হয়। এবং আর একটা বিষয় উপরে যে প্রশ্নগুলো আপনাদেরকে করেছি তার জন্য সন্দেহ হচ্ছে যে সত্যি যদি আমি শর্ত দিয়ে থাকি আমি জোর করে এখন বাঁচার জন্য অস্বীকার করছি না তো হতে কিন্তু সত্যিই আমি নিশ্চিত হতে পারছি না আবার কখনো এমন মনে হচ্ছে যে আমি হয়তো শর্ত দিয়েছি আবার কখনো মনে হচ্ছে যে মুখে উচ্চারণ করে দিয়েছি তো দয়া করে আমাকে সাজেশন দেন একটা জীবন আমি আল্লাহর ইবাদত করে শান্তিতে কাটাতে চাই আমাকে আমাকে সঠিক পরামর্শ দেন আমি বাঁচার শক্তি হায়রে ফেলেছি কখনো মনে হচ্ছে আল্লাহর কাছে নিজেই মনে মনে দোয়া করছি যে আল্লাহ আমার মৃত্যু করে দাও তাড়াতাড়ি আর আমি যে এগুলো করেছি এ সম্বন্ধে আমার স্ত্রী কিছুই জানে না কিন্তু সে আমাকে খালি প্রশ্ন করে তুমি এত চিন্তিত কেন সে আমার ইচ্ছে কোন দোষ করেনি তারপর আমার কোন অভিযোগ নেই কিন্তু অটোমেটিক্যালি এগুলোই আমার সাথে হচ্ছে দয়া করে আমাকে সঠিক পরামর্শ দেন

Answer

উত্তর প্রদান

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় ভাই, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল। আপনি তালাক সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্তযুক্ত তালাক (তালাক-এ-তালিক) দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং এখন সেগুলো নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছেন। আমি ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক এবং সালাফি/আহলে হাদিস মতে উত্তর দিচ্ছি।


প্রথম প্রশ্নের উত্তর: শর্তযুক্ত তালাক (WhatsApp গ্রুপের লেখা পড়া)

মূলনীতি:

শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান হলো—যদি শর্ত পূরণ হয়, তবে তালাক পতিত হবে; আর যদি শর্ত পূরণ না হয়, তবে তালাক পতিত হবে না। তবে শর্তটি স্পষ্ট ও নির্ধারিত হতে হবে।

আপনার পয়েন্টগুলোর উত্তর:

এক নম্বর পয়েন্ট (লেখা ডিলিট করা):

  • আপনি বলেছেন, "লেখাগুলো যদি না পড়ি তাহলে আমার স্ত্রী তালাক হবে।" এখন প্রশ্ন হলো, পড়ার আগে যদি লেখা ডিলিট হয়ে যায়, তাহলে কি তালাক হবে?
  • উত্তর: যদি লেখাটি ডিলিট হয়ে যায় এবং আপনি তা পড়তে না পারেন, তবে শর্তটি "না পড়া" হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, আপনি লেখাটি পড়েননি, তাই শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং তালাক পতিত হবে। তবে যদি লেখাটি ডিলিট হওয়ার আগে আপনি তা পড়ে থাকেন, তবে শর্ত পূরণ হয়নি বলে তালাক পতিত হবে না।
  • গুরুত্বপূর্ণ: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেন, শর্তযুক্ত তালাকে শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হয়। যদি শর্ত পূরণ না হয়, তবে তালাক পতিত হয় না। (মাজমু' ফাতাওয়া, ৩৩/৯৫)

দুই নম্বর পয়েন্ট (লেখার পরিমাণ):

  • আপনি বলেছেন, "তুই কিছু লিখলে সেটা পড়বো।" এখন প্রশ্ন হলো, দাঁড়ি-কমা সহ সবটুকু পড়তে হবে কি না?
  • উত্তর: আপনার উদ্দেশ্য যদি হয় "লেখা পড়া" (সম্পূর্ণ লেখা), তবে দাঁড়ি-কমা সহ সম্পূর্ণ লেখা পড়া শর্ত। তবে যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় শুধু "মূল বিষয়বস্তু" পড়া, তবে মূল অংশ পড়লেই শর্ত পূরণ হবে। যেহেতু আপনি নিজেই নিশ্চিত নন, তাই ইসলামি নীতি হলো—সন্দেহের ক্ষেত্রে মূল অবস্থা (মূলত তালাক না হওয়া) বজায় থাকবে। অর্থাৎ, তালাক পতিত হবে না যতক্ষণ না নিশ্চিত হওয়া যায় যে শর্ত পূরণ হয়েছে।

তিন নম্বর পয়েন্ট (মুখে উচ্চারণ):

  • আপনি বলেছেন, "আগে মুখে উচ্চারণ করে সত্য দিয়েছি কি না মনে করতে পারছি না।"
  • উত্তর: ইসলামি ফিকহের নীতি হলো—তালাকের জন্য মুখে উচ্চারণ করা শর্ত। শুধু মনে মনে তালাকের নিয়ত করলে তালাক পতিত হয় না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনে মনে যে খেয়াল খুশি হয় তা ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ না সে তা মুখে বলে বা কাজ করে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)
  • যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে মুখে উচ্চারণ করেছেন কি না, তাই সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হবে না। কারণ মূলনীতি হলো—সন্দেহের ক্ষেত্রে মূল অবস্থা (তালাক না হওয়া) বজায় থাকে।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: নবী (সাঃ) এর নাম শুনলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা

এক নম্বর পয়েন্ট (কতবার বলতে হবে):

  • আপনি বলেছেন, "নবী সাঃ শুনতে পেলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না বললে আমার স্ত্রী তালাক হবে।"
  • উত্তর: শর্তটি হলো—যখনই নবী (সাঃ) এর নাম শুনবেন, তখনই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে হবে। যদি কোনো মজলিসে একাধিকবার নাম আসে, তবে প্রতিবারই বলা আবশ্যক। তবে যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে কতবার নাম এসেছে, তাহলে আপনি যতবার নিশ্চিতভাবে শুনেছেন ততবার বলবেন। সন্দেহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বলার প্রয়োজন নেই।
  • গুরুত্বপূর্ণ: শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহঃ) বলেন, "যদি কোনো ব্যক্তি শর্ত দেয় যে, নবী (সাঃ) এর নাম শুনলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবে, তবে যতবার শুনবে ততবার বলা তার উপর আবশ্যক।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১৩/৩০)

দুই নম্বর পয়েন্ট (কোন নাম শুনলে বলতে হবে):

  • আপনি বলেছেন, "শুধু মুহাম্মদ শুনলে বলতে হবে নাকি অন্য নামেও?"
  • উত্তর: নবী (সাঃ) এর যে কোনো নাম বা উপাধি শুনলে (যেমন: মুহাম্মদ, আহমাদ, রাসূলুল্লাহ, নবী, মুস্তফা ইত্যাদি) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা মুস্তাহাব। তবে আপনার শর্তটি যদি শুধু "মুহাম্মদ" নামের জন্য হয়, তবে শুধু মুহাম্মদ শুনলেই শর্ত প্রযোজ্য হবে। অন্য নাম শুনলে শর্ত পূরণ হবে না।
  • গুরুত্বপূর্ণ: আযানে "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ" বলা হয়, সেখানে মুহাম্মদ নামটি আসে। তাই আযান শুনলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা শর্তের আওতায় পড়বে।

তিন নম্বর পয়েন্ট (মুখে উচ্চারণের সন্দেহ):

  • উত্তর: উপরে যেমন বলেছি, তালাকের জন্য মুখে উচ্চারণ শর্ত। মনে মনে নিয়ত করলে তালাক পতিত হয় না। যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন, তাই সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হবে না।

চার নম্বর পয়েন্ট (মনে মনে নাম উদিত হওয়া):

  • আপনি বলেছেন, "মনে মনে নবী (সাঃ) এর নাম উদিত হলে কি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে হবে?"
  • উত্তর: না, শুধু মনে মনে নাম উদিত হলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা আবশ্যক নয়। কারণ শর্তটি ছিল "শুনলে" বলতে হবে। মনে মনে উদিত হওয়া শোনার মধ্যে পড়ে না। তাই শর্ত পূরণ হবে না।

তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর: হাদিস পড়া সংক্রান্ত শর্তযুক্ত তালাক

এক নম্বর পয়েন্ট (কী পড়তে হবে):

  • আপনি বলেছেন, "হাদিস এলে পড়বো নাকি যা কিছু আসবে পড়বো—নিশ্চিত নই।"
  • উত্তর: যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন, তাই সন্দেহের ক্ষেত্রে মূল অবস্থা বজায় থাকবে। অর্থাৎ, তালাক পতিত হবে না। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে শর্তটি ছিল "যা কিছু আসবে পড়বো", তাহলে যেকোনো ইসলামিক কনটেন্ট পড়া শর্ত। আর যদি শর্তটি শুধু "হাদিস" এর জন্য হয়, তবে শুধু হাদিস পড়লেই শর্ত পূরণ হবে।

দুই নম্বর পয়েন্ট (কোন জায়গায়):

  • আপনি বলেছেন, "যেকোনো জায়গায় হাদিস দেখলে পড়বো নাকি শুধু ফেসবুকে?"
  • উত্তর: যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন, তাই সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হবে না। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে শর্তটি শুধু ফেসবুকের জন্য ছিল, তবে ফেসবুকে হাদিস দেখলেই পড়তে হবে। অন্য জায়গায় দেখলে শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

তিন নম্বর পয়েন্ট (রিফ্রেশ হয়ে যাওয়া):

  • আপনি বলেছেন, "পড়ার আগে যদি পেজ রিফ্রেশ হয়ে যায়, তাহলে কি তালাক হবে?"
  • উত্তর: যদি পেজ রিফ্রেশ হওয়ার কারণে আপনি হাদিসটি পড়তে না পারেন, তবে শর্তটি "না পড়া" হিসেবে গণ্য হবে এবং তালাক পতিত হবে। তবে যদি আপনি পড়া শুরু করে থাকেন এবং মাঝপথে রিফ্রেশ হয়ে যায়, তাহলে আপনি যতটুকু পড়েছেন তা গণ্য হবে। যদি মূল অংশ পড়ে থাকেন, তবে শর্ত পূরণ হয়েছে বলে ধরা হবে।

সাধারণ পরামর্শ:

১. সন্দেহ দূর করুন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেন, "সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হয় না। তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি যে শর্ত পূরণ হয়েছে।" (মাজমু' ফাতাওয়া, ৩৩/৯৫)

২. ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) থেকে সাবধান: আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনার সবসময় তালাক নিয়ে জল্পনা-কল্পনা হয়। এটি ওয়াসওয়াসার লক্ষণ। শাইখ ইবনে বায (রহঃ) বলেন, "ওয়াসওয়াসা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। শয়তান মানুষকে তালাক ও ইবাদত নিয়ে সন্দেহে ফেলে।" (মাজমু' ফাতাওয়া, ২২/২৮০)

৩. ইস্তিগফার ও দোয়া: আপনার উচিত বেশি বেশি ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেন তিনি আপনার সন্দেহ দূর করেন।

৪. স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক: আপনার স্ত্রী কিছুই জানে না। আপনার উচিত তালাকের বিষয়টি নিয়ে তাকে না জানানো, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে তালাক পতিত হয়।

৫. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: আপনার এলাকার কোনো বিশ্বস্ত আলেমের সাথে সরাসরি দেখা করে বিষয়টি খুলে বলা উচিত।


সংক্ষিপ্ত উত্তর:

  • প্রথম প্রশ্ন: যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে মুখে উচ্চারণ করেছেন কি না, এবং শর্তটি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত ছিল কি না, তাই সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হবে না। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে শর্ত পূরণ হয়েছে (যেমন: লেখা পড়েননি), তাহলে তালাক পতিত হবে।
  • দ্বিতীয় প্রশ্ন: শর্তটি ছিল "নাম শুনলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা"। যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে মুখে উচ্চারণ করেছেন কি না, তাই সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হবে না। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে শর্ত পূরণ হয়েছে (যেমন: নাম শুনে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেননি), তাহলে তালাক পতিত হবে।
  • তৃতীয় প্রশ্ন: যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে শর্তটি কী ছিল, তাই সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হবে না। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে শর্ত পূরণ হয়েছে, তাহলে তালাক পতিত হবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.