রাগের মাথায় তালাক দিয়েছে,সুতরাং তালাক সংগঠিত হয়েছে কি না? একসাথে তিন তালাক দিলে কয় তালাক পতিত হয়

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3988
Questioner: Adnan Khan Joy
Question Asked: 15 Aug 2026, 08:38 AM
Reviewed & Published: 15 Aug 2026, 08:51 AM
Views: 31
Tokens: 9,684
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

**আসসালামু আলাইকুম।**

একটি তালাকের ঘটনা সম্পর্কে শরিয়তসম্মত সমাধান জানতে চাই।

একজন বিবাহিত মহিলা তার স্বামীর সাথে ঝগড়ার কারণে প্রায় **২–৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে** থাকছেন। এই সময় তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে থাকেননি।

সম্প্রতি এক বিষয়ে ঝগড়া লেগে স্বামী তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

**“তোকে তালাক দিলাম। তালাক, তালাক।”**

অর্থাৎ একই সময়ে পরপর **তিনবার তালাকের শব্দ** উচ্চারণ করেন। এ সময় ওই মহিলার **মা ও বোন উপস্থিত ছিলেন এবং তারা কথাগুলো শুনেছেন।**

বর্তমানে স্বামী তার ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং আবার ওই স্ত্রীকেই নিয়ে সংসার করতে চান। কিন্তু তিনবার তালাক বলার কারণে তারা মনে করছেন যে এখন সরাসরি ওই স্ত্রীকে আবার বিয়ে করা যাবে না। এজন্য কিছু লোক **অন্য একজন বুড়ো পুরুষের সাথে বিয়ে দিয়ে পরে তালাক দেওয়ানোর (হিল্লা বিয়ে)** পরামর্শ দিচ্ছেন।

আমরা জানতে চাই:

**১.** স্বামীর উক্ত কথার মাধ্যমে শরিয়ত অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হয়েছে কি?
**২.** একই সময়ে “তোকে তালাক দিলাম। তালাক, তালাক”—এভাবে তিনবার বললে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী **কয়টি তালাক** হয়?
**৩.** স্বামী রাগের অবস্থায় বললেও যদি তিনি সচেতন ও বুঝেশুনে কথাগুলো বলে থাকেন, তাহলে বিধান কী?
**৪.** স্বামী এখন অনুতপ্ত হলে আগের স্ত্রীকে আবার বিয়ে করার কোনো শরিয়তসম্মত সুযোগ আছে কি?
**৫.** পরিকল্পনা করে অন্য পুরুষের সাথে বিয়ে করিয়ে পরে তালাক দেওয়ানো (হিল্লা) কি জায়েজ?
**৬.** এই অবস্থায় বর্তমানে তাদের কী করণীয়?

দয়া করে **কুরআন-সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের আলোকে** বিস্তারিতভাবে উত্তর দেওয়ার অনুরোধ করছি।

**বিশেষ অনুরোধ:** বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অনুগ্রহ করে কোনো অভিজ্ঞ **মুফতি/দারুল ইফতার আলেম** উত্তর দিলে উপকৃত হব।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। নিম্নে কুরআন-সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের আলোকে প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো:


১. স্বামীর উক্ত কথার মাধ্যমে শরিয়ত অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হয়েছে কি?

হ্যাঁ, স্বামীর উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে ৩ তালাক সংঘটিত হয়েছে।

তালাকের শব্দ দুটি প্রকার:

  • সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ: যেমন- "তালাক", "তালাক দিলাম" ইত্যাদি। এসব শব্দ উচ্চারণ করলে নিয়ত নির্বিশেষে তালাক পতিত হয়।
  • কিনায়া (আশয়পূর্ণ) শব্দ: যেমন- "তুমি আমার কাছে থাকো না", "তুমি মুক্ত" ইত্যাদি। এসব শব্দে নিয়তের প্রয়োজন হয়।

এখানে স্বামী স্পষ্টভাবে "তালাক" শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা সরীহ শব্দ। তাই নিয়ত থাকুক বা না থাকুক, তালাক পতিত হয়েছে।

কুরআন থেকে দলিল:

الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ "তালাক দুইবার (এই পর্যন্ত স্ত্রীকে রাখার অধিকার রয়েছে)..." (সূরা আল-বাকারা: ২২৯)

হাদিস থেকে দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ وَالنِّكَاحُ وَالرَّجْعَةُ "তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে করলে তা কার্যকর হয় এবং ঠাট্টা-তামাশা করলেও তা কার্যকর হয়ে যায়: তালাক, নিকাহ এবং রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া)।" (আবু দাউদ: ২১৯৪, তিরমিজি: ১১৮৪, ইবনে মাজাহ: ২০৩৯)


২. একই সময়ে "তোকে তালাক দিলাম। তালাক, তালাক"—এভাবে তিনবার বললে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী কয়টি তালাক হয়?

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী একই মজলিসে তিনবার তালাক দিলে তিনটি তালাকই পতিত হয়। অর্থাৎ, তিন তালাক (বায়িন মুগাল্লাযা) হয়ে যায়।

দলিল:

১. কুরআন:

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ "যদ্য সে (স্বামী) তাকে তালাক দেয় (তৃতীয়বার), তবে তারপর সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩০)

২. হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এবং আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে এবং উমর (রা.)-এর খিলাফতের প্রথম দিকে তিন তালাককে এক তালাক গণনা করা হতো। কিন্তু উমর (রা.) দেখলেন যে, লোকেরা তালাককে খেলার বস্তু বানিয়ে ফেলেছে, তাই তিনি তিন তালাককে তিনটিই গণনা করার নির্দেশ দেন।

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ الطَّلَاقُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِي بَكْرٍ وَسَنَتَيْنِ مِنْ خِلَافَةِ عُمَرَ طَلَاقُ الثَّلَاثِ وَاحِدَةً فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: إِنَّ النَّاسَ قَدْ اسْتَعْجَلُوا فِي أَمْرٍ كَانَتْ لَهُمْ فِيهِ أَنَاةٌ فَلَوْ أَمْضَيْنَاهُ عَلَيْهِمْ فَأَمْضَاهُ عَلَيْهِمْ "ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে, আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে এবং উমর (রা.)-এর খিলাফতের প্রথম দুই বছরে তিন তালাককে এক তালাক গণনা করা হতো। অতঃপর উমর (রা.) বললেন: লোকেরা এমন একটি বিষয়ে তাড়াহুড়া করছে যাতে তাদের জন্য ধৈর্য ছিল। যদি আমি তা তাদের উপর কার্যকর করে দিই (তাহলে ভালো হয়)। অতঃপর তিনি তা কার্যকর করেন।" (সহিহ মুসলিম: ১৪৭২)

হানাফি ফিকহের উক্তি:

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, এক মজলিসে তিন তালাক দিলে তিনটিই পতিত হয়। এটি ইজমা (সর্বসম্মত) ভিত্তিক সিদ্ধান্ত।

ইমাম তহাবী (রহ.) বলেন:

أَجْمَعَ الصَّحَابَةُ بَعْدَ عُمَرَ عَلَى إِمْضَاءِ الثَّلَاثِ "উমর (রা.)-এর পর সাহাবাগণ তিন তালাক কার্যকর করার উপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন।"

রদ্দুল মুহতার (শামী)-এ উল্লেখ আছে:

وَلَوْ قَالَ: أَنْتِ طَالِقٌ ثَلَاثًا، أَوْ كَرَّرَ الطَّلَاقَ ثَلَاثًا فِي طُهْرٍ وَاحِدٍ، وَقَعَ الثَّلَاثُ "যদি কেউ বলে: তুমি তিন তালাক, অথবা এক পবিত্রতা অবস্থায় তিনবার তালাকের শব্দ পুনরাবৃত্তি করে, তবে তিন তালাকই পতিত হবে।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯০)


৩. স্বামী রাগের অবস্থায় বললেও যদি তিনি সচেতন ও বুঝেশুনে কথাগুলো বলে থাকেন, তাহলে বিধান কী?

রাগের অবস্থায় তালাক দিলে তালাক পতিত হয়, যদি রাগ এমন পর্যায়ে না পৌঁছে যে, মানুষ তখন নিজের কথা বুঝতে পারে না বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

হানাফি ফিকহের বিস্তারিত নিয়ম:

১. সাধারণ রাগ: যে রাগে মানুষ নিজের কথা বুঝতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ থাকে—এ অবস্থায় তালাক দিলে তালাক পতিত হয়।

২. চরম রাগ (যা জ্ঞান হারানোর পর্যায়ে পৌঁছে): যদি রাগ এমন হয় যে, মানুষ নিজের কথা বুঝতে পারছে না, কী বলছে তা জানে না, তখন তালাক পতিত হবে না।

হাদিস থেকে দলিল:

لَا طَلَاقَ وَلَا عَتَاقَ فِي إِغْلَاقٍ "বন্ধ অবস্থায় তালাক ও আযাদ করা কার্যকর হয় না।" (আবু দাউদ: ২১৯৩, ইবনে মাজাহ: ২০৪৬)

ইমাম খাত্তাবী (রহ.) বলেন: "إغلاق" অর্থ হলো রাগের কারণে অন্তর বন্ধ হয়ে যাওয়া, যাতে মানুষ বুঝতে পারে না কী বলছে।

ইমাম কাসানী (রহ.) বলেন:

وَأَمَّا الْمُغْلَقُ عَلَيْهِ وَهُوَ الَّذِي اشْتَدَّ غَضَبُهُ حَتَّى لَا يَعْلَمُ مَا يَقُولُ فَلَا يَقَعُ طَلَاقُهُ "যে ব্যক্তি এত বেশি রাগান্বিত যে, সে বুঝতে পারে না কী বলছে, তার তালাক পতিত হবে না।" (বাদায়েউস সানায়ে, ৩/১০০)

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে: যেহেতু স্বামী সচেতনভাবে ও বুঝেশুনে কথাগুলো বলেছেন (যেমনটি প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে), তাই তার রাগ থাকা সত্ত্বেও তালাক পতিত হয়েছে। রাগ তালাক পতিত হওয়ার مانع নয়, যতক্ষণ না তা জ্ঞান হারানোর পর্যায়ে পৌঁছে।


৪. স্বামী এখন অনুতপ্ত হলে আগের স্ত্রীকে আবার বিয়ে করার কোনো শরিয়তসম্মত সুযোগ আছে কি?

তিন তালাক হওয়ার কারণে স্ত্রী তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে গেছেন। সরাসরি পুনরায় বিয়ে করা জায়েয নেই।

এক্ষেত্রে শরয়ী হালালাহ করতে হবে।

কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ:

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ "যদি সে তাকে তালাক দেয় (তৃতীয়বার), তবে তারপর সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩০)

হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত: তিন তালাক পতিত হলে স্ত্রী বায়িন মুগাল্লাযা হয়ে যায়। অর্থাৎ, তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শুধুমাত্র নিম্নোক্ত শর্তে পুনরায় বিয়ে করা যাবে:

১. স্ত্রী অন্য একজন পুরুষকে সত্যিকার অর্থে বিয়ে করবে (হিল্লার নিয়ত ছাড়া)। ২. সেই স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক (দুহুল) সম্পন্ন হবে। ৩. সেই স্বামী তাকে তালাক দেবে অথবা মৃত্যুবরণ করবে। ৪. স্ত্রী ইদ্দত পালন করবে। ৫. এরপর পূর্ববর্তী স্বামীর সাথে নতুন করে বিয়ে করা যাবে।

ইমাম ইবনে আবেদিন (রহ.) বলেন:

لَا تَحِلُّ لِلْأَوَّلِ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ نِكَاحًا صَحِيحًا وَيَدْخُلُ بِهَا ثُمَّ يُطَلِّقُهَا أَوْ يَمُوتُ عَنْهَا وَتَعْتَدُّ "প্রথম স্বামীর জন্য সে হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে সঠিক নিকাহ করে, তার সাথে সহবাস করে, অতঃপর সে তাকে তালাক দেয় বা তার মৃত্যু হয় এবং সে ইদ্দত পালন করে।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/৩০)


৫. পরিকল্পনা করে অন্য পুরুষের সাথে বিয়ে করিয়ে পরে তালাক দেওয়ানো (হিল্লা) কি জায়েজ?

না, পরিকল্পনা করে হিল্লা বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম ও গুনাহের কাজ। এটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

হাদিস থেকে দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ "আল্লাহ লানত করেছেন মুহাল্লিলকে (যে হিল্লার উদ্দেশ্যে বিয়ে করে) এবং মুহাল্লাল লাহুকে (যার জন্য হিল্লা করা হয়)।" (আবু দাউদ: ২০৭৬, তিরমিজি: ১১২০, ইবনে মাজাহ: ১৯৩৬)

ইমাম তিরমিজি (রহ.) এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।

হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত: হিল্লার নিয়তে বিয়ে করলে বিয়ে মাকরুহ তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) হবে, তবে বিয়েটি শুদ্ধ হবে যদি শর্ত না থাকে। কিন্তু এই বিয়ের মাধ্যমে স্ত্রী পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য হালাল হবে কি না—এ ব্যাপারে মতভেদ আছে:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে: যদি বিয়েতে শর্ত থাকে যে, পরে তালাক দেবে, তবে বিয়ে মাকরুহ হবে কিন্তু শুদ্ধ হবে এবং সহবাসের পর স্ত্রী পূর্ব স্বামীর জন্য হালাল হবে।
  • ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে: শর্তযুক্ত হিল্লা বিয়ে শুদ্ধ নয় এবং স্ত্রী পূর্ব স্বামীর জন্য হালাল হবে না।

তবে সবাই একমত যে, হিল্লা বিয়ে করা গুনাহের কাজ এবং লানতের উপযুক্ত।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন:

হিল্লা বিয়ে একটি গুনাহের কাজ এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর উপর লানত করেছেন। কিন্তু যদি কেউ এই গুনাহ করে ফেলে এবং সহবাসও হয়ে যায়, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে স্ত্রী পূর্ব স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যাবে। তবে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। (মা'আরিফুল কুরআন, ১/৫৬৩)


৬. এই অবস্থায় বর্তমানে তাদের কী করণীয়?

বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয়:

১. তিন তালাক পতিত হওয়ায় স্ত্রী স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে গেছেন। তাদের পক্ষে একসাথে থাকা বা সংসার করা হারাম

২. হিল্লা বিয়ের পরামর্শ সম্পূর্ণ ভুল ও হারাম। এই পরামর্শ দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই গুনাহ।

৩. স্বামীর কর্তব্য:

  • আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  • স্ত্রীর মোহরানার বকেয়া থাকলে তা পরিশোধ করা।
  • স্ত্রীকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা।

৪. স্ত্রীর কর্তব্য:

  • তালাকের পর ইদ্দত পালন করা (তিন হায়েজ বা তিন মাস)।
  • ইদ্দত শেষে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া—অন্য কাউকে বিয়ে করা বা অবিবাহিত থাকা।

৫. উভয়ের জন্য:

  • এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া।
  • ভবিষ্যতে তালাকের বিষয়ে সতর্ক থাকা।
  • প্রয়োজনে আলেমের পরামর্শ নেওয়া।

মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন:

তিন তালাক হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হিল্লা বিয়ে করা হারাম। স্বামী-স্ত্রীকে অবশ্যই পৃথক থাকতে হবে এবং আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। (ফতোয়ায়ে উসমানি, ২/৩৪৫)


সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | তালাক সংঘটিত হয়েছে কি? | হ্যাঁ, তালাক সংঘটিত হয়েছে | | কয়টি তালাক হয়েছে? | তিন তালাক (বায়িন মুগাল্লাযা) | | রাগের অবস্থায় তালাকের বিধান | সচেতন অবস্থায় রাগে তালাক দিলে তালাক পতিত হয় | | পুনরায় বিয়ের সুযোগ | সরাসরি নেই; হিল্লা ছাড়া কোনো সুযোগ নেই | | হিল্লা বিয়ে | **হারাম ও লানত।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.