পাত্রীর অতীতে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারবে না, এমন শর্ত পাত্রের পক্ষ থেকে আসলে, ছোটমোটো সম্পর্ক ছিলো,এমন পাত্রীর জন্য করণীয় কি?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
বিয়ে সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন: আমার জন্য একটি বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। তিনি প্রাকটিসিং মুসলিম। তার বিয়ের ক্ষেত্রে শর্ত হলো পাত্রীর কোনো পাস্ট থাকতে পারবে না। দ্বীনে ফেরার আগে, আমি যখন ক্লাস ৮ এ পড়ি তখন আমার একজনের সাথে সম্পর্কের মতো ছিলো। কিন্তু আমাদের মধ্যে কখনোই কোনো কিছু হয়নি কিন্তু সে একবার আমার হাত ধরেছিলো। আর তিন মাসের মতো ফোনে কথা হয়েছিলো। তারপর সম্পর্ক ভেঙে যায়। আমিও আর কখনো কোনো সম্পর্কে জড়াইনি। এখন আমার প্রশ্ন হলো, আমার কি এই বিষয়টি গোপন রেখে ওই ছেলেকে বিয়ের বিষয়ে আগানো উচিত হবে?
উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার অতীত সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়ে দিচ্ছি—
১. অতীতের পাপ গোপন রাখা
ইসলামে বিয়ের প্রস্তাবে পাত্র-পাত্রীর অতীতের পাপ সম্পর্কে জানানো বাধ্যতামূলক নয়। বরং ইসলামি নীতিমালা অনুযায়ী, অতীতের পাপ গোপন রাখা উচিত এবং সেগুলো প্রকাশ করা উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা পাপ গোপনকারীদের পছন্দ করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"আমার উম্মতের প্রত্যেককে ক্ষমা করা হবে, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে প্রকাশ্যে পাপ করে।" (সহিহ বুখারি: ৬০৬৯)
আরেকটি হাদিসে এসেছে:
"যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।" (সহিহ মুসলিম: ২৫৮০)
২. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা
আপনি যা বলেছেন, তা মূলত:
- ক্লাস ৮ এ পড়াকালীন সময়ে একজনের সাথে সম্পর্কের মতো ছিলো
- সে একবার আপনার হাত ধরেছিলো
- তিন মাস ফোনে কথা হয়েছে
- কোনো শারীরিক সম্পর্ক বা অন্য কিছু ঘটেনি
- এরপর সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং আপনি আর কোনো সম্পর্কে জড়াননি
এটি আপনার অতীতের একটি ভুল ছিল, যা আপনি দ্বীনে ফেরার আগে করেছেন। এখন আপনি তওবা করেছেন এবং আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছেন। ইসলামি নীতি অনুযায়ী, তওবার পর পাপ গোপন রাখা উচিত এবং তা প্রকাশ করা উচিত নয়।
৩. বিয়ের ক্ষেত্রে করণীয়
বিয়ের প্রস্তাবে পাত্র-পাত্রীর বর্তমান অবস্থা ও চরিত্র সম্পর্কে জানানো গুরুত্বপূর্ণ, অতীতের পাপ নয়। যেহেতু:
- আপনি এখন দ্বীনে ফিরে এসেছেন
- আপনি আর কোনো সম্পর্কে জড়াননি
- আপনার অতীতের ঘটনা ছিল শৈশবের ভুল
সুতরাং, আপনার জন্য এই বিষয়টি গোপন রাখা এবং বিয়ের বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া জায়েয। তবে মনে রাখবেন, বিয়ের পর স্বামীর সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে এবং ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা এড়াতে, যদি মনে করেন যে বিষয়টি প্রকাশ করলে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে, তাহলে আপনি নিজের ইচ্ছায় বলতে পারেন। কিন্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি বলা জরুরি নয়।
৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট
- তওবা করুন: আপনার অতীতের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তওবা কবুলকারী।
- ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক থাকুন: বিয়ের পর স্বামীর সাথে সম্পর্ক ইসলামি নিয়মে পরিচালনা করুন।
- অতীত নিয়ে চিন্তা করবেন না: আল্লাহর রহমত অপরিসীম। তিনি তওবাকারীকে ভালোবাসেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
উপসংহার: আপনার অতীতের এই ঘটনা গোপন রাখা এবং বিয়ের বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া জায়েয। ইসলামি নীতিমালা অনুযায়ী, অতীতের পাপ প্রকাশ করা উচিত নয়, বিশেষত যখন আপনি তওবা করেছেন এবং বর্তমানে দ্বীনের উপর আছেন। আল্লাহ আপনার তওবা কবুল করুন এবং আপনার বিয়েতে বরকত দান করুন। আমিন।