বিয়ের আগে রোগ জানানো জরুরি কি
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Amar hypothyroidism and PCOS ase.ata onek age diagnosed kora hoy and tarpor thekei treatment chole .Kintu at present, alhamdulillah sob report Amar normal but medicine neya lage.akhn proshno hosse biyer khetre chele pokkho k Amar asob bishoy janate Hobe?Amar family amak asob bolte mana korse.kintu Ami sob kisu janiye biye krte chai. Asob shune chele pokkho pichay jasse r Amar family o Amar upor chorao asob jananor jnno.akhetre Amar koronio ki?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রশ্নকারিণীর বর্ণনা অনুযায়ী, তার হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) রয়েছে। বর্তমানে আলহামদুলিল্লাহ তার সব রিপোর্ট স্বাভাবিক, তবে তাকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। তিনি জানতে চান, বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেপক্ষকে এই বিষয়গুলো জানানো জরুরি কি না, অথচ তার পরিবার তাকে জানাতে নিষেধ করছে এবং তিনি নিজে জানিয়ে বিয়ে করতে চান।
ইসলামি নির্দেশনা:
ইসলামে বিবাহ একটি পবিত্র অঙ্গীকার এবং এর ভিত্তি হওয়া উচিত সততা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততার উপর। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আমাদেরকে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১)
বিবাহের প্রস্তাবের সময় এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা ভবিষ্যতের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে, তা গোপন করা প্রতারণার শামিল। বিশেষ করে যদি এমন রোগ থাকে যা স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে তা প্রকাশ করা জরুরি।
হানাফি ফিকহের আলোকে:
হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (আল-হিদায়া ও ফাতাওয়া আলমগিরি সহ) অনুযায়ী, বিবাহের সময় পাত্র-পাত্রীর এমন ত্রুটি (যেমন: দীর্ঘস্থায়ী রোগ, শারীরিক অক্ষমতা) যা বৈবাহিক জীবনের মূল উদ্দেশ্য (সুখ, সন্তান, সহবাস) ব্যাহত করতে পারে, তা প্রকাশ করা ওয়াজিব। যদি তা গোপন করা হয়, তবে বিবাহের পর জানতে পারলে পাত্র বা পাত্রীর অভিভাবকের জন্য বিবাহ ভঙ্গের (ফাসখ) অধিকার থাকে।
তবে প্রশ্নকারিণীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো:
১. তার রিপোর্ট বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
২. তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন, যা দিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে আছে।
৩. হাইপোথাইরয়েডিজম ও PCOS এমন রোগ নয় যা সাধারণত বৈবাহিক জীবনের মূল উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্ত করে, বিশেষত যখন চিকিৎসা চলছে এবং রিপোর্ট স্বাভাবিক।
তাই ফিকহি দৃষ্টিতে:
- যদি রোগটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং চিকিৎসা চলমান থাকে, তবে এটি এমন "গুরুতর ত্রুটি" হিসেবে গণ্য হবে না যা গোপন করা জরুরি বা বিবাহ বাতিলের কারণ হবে।
- তবে নৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা এড়াতে, ছেলেপক্ষকে বিষয়টি জানানোই উত্তম। কারণ এটি সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করে এবং পরবর্তীতে অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব এড়ায়।
আপনার করণীয়:
১. পরিবারের সাথে আলোচনা করুন: আপনার পরিবারকে বোঝান যে, ইসলাম সততা ও স্বচ্ছতার নির্দেশ দেয়। রোগটি গোপন না করে জানানোই শ্রেয়, কারণ এটি আপনার ভবিষ্যতের জন্য কল্যাণকর।
২. ছেলেপক্ষকে জানান: আপনি যদি মনে করেন ছেলেপক্ষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার আগে বিষয়টি জানানো দরকার, তবে তা জানান। তবে এমনভাবে উপস্থাপন করুন যাতে তারা ভয় না পায়, বরং বুঝতে পারে যে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং আপনি চিকিৎসাধীন।
৩. বিশ্বস্ত মাধ্যম ব্যবহার করুন: যদি সরাসরি বলা কঠিন হয়, তবে আপনার পরিবারের মাধ্যমে বা কোনো বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দিন।
৪. দোয়া করুন: আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনার জন্য উত্তম জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করেন এবং আপনার বিষয়ে সহজতা দান করেন।
কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্য কথা বলো।" (সূরা আল-আহযাব: ৭০)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম ব্যবহার করে।" (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১১৬২)
সারকথা:
- আপনার রোগটি গোপন করা জরুরি নয়, তবে জানানোই উত্তম।
- পরিবারের নিষেধ সত্ত্বেও আপনি যদি মনে করেন জানানো দরকার, তবে তা জানাতে পারেন। তবে পরিবারের সাথে সম্পর্ক রেখে, নম্রভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করুন।
- আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। তিনি আপনার জন্য যা কল্যাণকর তা নির্ধারণ করবেন।
আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য সহজতা দান করুন এবং উত্তম জীবনসঙ্গী দান করুন। (আমিন)