পূর্বের তালাক নিয়ে সন্দেহ থাকলে করণীয় কি?
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question
প্রিয় হুজুর
প্রশ্ন
আমি বিগত দিনে আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সত্যযুক্ত তালাক দিয়েছে কি সেগুলো এখন সন্দেহ হয়েছে আর আপনাদের কাছ থেকে জেনেছি সন্দেহ থাকলে তারা পতিতা হবে না। কিন্তু আমার জানার বিষয় এটাই যে সন্দেহ থাকার পরেও ওয়াচ ওয়াসা হত তাই আমি সত্যগুলোকে ঘুরে ফিরে বলতাম যে যদি সত্য হয় এমন ভাবে হলে তবে তালা পতিত হবে এমনভাবে হলে তবে তালাক দিতে হবে কিন্তু এগুলো আমি নতুন শর্ত দেওয়ারই উদ্দেশ্য বলিনি বরং আগে সত্য কেমন দিয়েছিলাম সেটা তো সন্দেহ ছিলই কিন্তু যদি দিয়ে থাকি সেটা এমন হলে তবে তারা তবে তালাক হবে না হলে এমনভাবে ঘাটলে তবে তালাক হবে না হলে হবে না হলে ঘুরেফিরে বলেছি কিন্তু এটা নতুন তালাকদার উদ্দেশ্য বলিনি বরং আগে তালাক দিয়েছে কি সেটা সন্দেহ তো ছিল কিন্তু যদি সত্যি দিয়ে থাকি সেই জন্য ঘুরে ফিরে এমন করে বলেছি যে এমন ভাবে হলে হবে। কিন্তু নতুন তালুকদার উদ্দেশ্য আমি বলিনি এখন জানার বিষয়ে এই যে আগের তালাক দিয়েছিলি সেটা তো সন্দেহ পরিণত হয়েছে কিন্তু আমি নিশ্চিত না হতে পেরে যে যদি আমি সত্যি তালাক দিয়ে থাকি তাহলে এমন করে ধরলে তবে তালাক হবে বা তালাক ধরা হবে না হলে তালাক ধরা হবে না এগুলো নিজের কাছে বলেছি কিন্তু নতুন তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলিনি তাহলে এইটা বলার জন্য কি তাহলে নতুন তালাক হিসেবে গণ্য হতে পারে না এগুলো বাতিল হয়ে যাবে দয়া করে আমাকে একটু জানান উদ্দেশ্য বলিনি।
Answer
উত্তর
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনি আগে আপনার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন কি না—সেটা নিয়ে আপনার সন্দেহ ছিল। পরে আপনি সন্দেহের কারণে বারবার নিজের কাছে বা স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, "যদি আগে তালাক দিয়ে থাকি, তাহলে তালাক পতিত হোক; আর না দিয়ে থাকলে পতিত না হোক"—এমনভাবে ঘুরে ফিরে বলেছেন। আপনার প্রশ্ন হলো—এই কথাগুলো কি নতুন তালাক হিসেবে গণ্য হবে?
মূলনীতি
তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত (উদ্দেশ্য) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই হবে যা সে নিয়ত করেছে।" (সহীহ বুখারী: ১, সহীহ মুসলিম: ১৯০৭)
ফকীহগণের মতামত
১. সন্দেহযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে মূল নীতি
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"যদি কোনো ব্যক্তি তালাক দিয়েছে কি না—সে বিষয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকবে। সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হবে না। কারণ, মূলত বিবাহ বহাল থাকাই মূল অবস্থা (ইয়াকীন), আর তালাক পতিত হওয়া সন্দেহের উপর নির্ভর করে। সন্দেহ দিয়ে ইয়াকীন দূর হয় না।" (মাজমু' ফাতাওয়া: ৩২/২৮৩)
২. শর্তযুক্ত তালাক ও নিয়তের গুরুত্ব
আপনি যে বলেছেন—"যদি আগে তালাক দিয়ে থাকি, তাহলে তালাক পতিত হোক"—এটি মূলত আপনার আগের তালাকের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য ছিল, নতুন তালাক দেওয়ার নিয়তে নয়।
শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"যদি কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলে যা তালাকের শব্দ হিসেবে গণ্য হতে পারে, কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়া না হয়, বরং সে আগের তালাকের বিষয়ে নিশ্চিত হতে চায়, তাহলে তা নতুন তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ, তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত।" (আশ-শারহুল মুমতি': ১২/৩৪৫)
৩. ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) ও তালাক
শাইখ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"যে ব্যক্তি তালাকের ব্যাপারে ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত হয় এবং বারবার সন্দেহ করে, তার জন্য বিধান হলো—সে ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেবে না। যতক্ষণ না সে নিশ্চিত হয় যে সে তালাক দিয়েছে। নিশ্চিত না হলে তালাক পতিত হবে না।" (মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বায: ২২/১৩৫)
৪. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান
আপনি যে কথাগুলো বলেছেন—"যদি সত্য হয় এমনভাবে হলে তালাক পতিত হবে, না হলে পতিত হবে না"—এগুলো যদি আপনি নতুন তালাক দেওয়ার নিয়তে না বলে থাকেন, বরং আগের তালাকের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে বলে থাকেন, তাহলে:
- এগুলো নতুন তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।
- আগের তালাকের ব্যাপারে আপনার সন্দেহ থাকায় সেটিও পতিত হবে না।
- আপনার বিবাহ বহাল থাকবে।
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:
"তালাকের শব্দ উচ্চারণ করলেই তালাক পতিত হয় না, বরং সাথে নিয়ত থাকতে হবে। যদি কেউ সন্দেহবশত এমন কথা বলে যা তালাকের মতো শোনায়, কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়া না হয়, তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।" (আল-মুলাখ্খাসুল ফিকহী: ২/৩৩৫)
গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ
১. ওয়াসওয়াসা থেকে দূরে থাকুন — শয়তান আপনাকে এভাবে কুমন্ত্রণা দিয়ে বিবাহিত জীবনকে ধ্বংস করতে চায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে যা খেয়াল হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা কথা বলে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)
২. নিশ্চিত না হলে তালাক গণ্য হবে না — যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হন যে আপনি তালাক দিয়েছেন, ততক্ষণ আপনার বিবাহ বহাল থাকবে।
৩. ভবিষ্যতে তালাকের শব্দ এড়িয়ে চলুন — তালাক নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা বা সন্দেহজনক কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
ثَلاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلاقُ، وَالرَّجْعَةُ "তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে করলে তা কার্যকর হয়, আর ঠাট্টা করলেও তা কার্যকর হয়: বিবাহ, তালাক এবং রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া)।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১৯৪, সুনানে তিরমিযী: ১১৮৪ — শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি নতুন তালাক দেওয়ার নিয়ত করেননি। আপনি শুধু আগের তালাকের সত্যতা যাচাই করতে চেয়েছিলেন। তাই:
- আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার বিবাহ বহাল আছে।
- আগের তালাক সন্দেহযুক্ত হওয়ায় তা পতিত হয়নি।
- আপনার পরবর্তী কথাগুলোও নতুন তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।