ফরজ নামাজের পর নিদিষ্ট সংখ্যক দুরুদ পড়া।

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 3850
Questioner: ABdul Kadar RaFi
Question Asked: 12 Aug 2026, 11:48 AM
Reviewed & Published: 12 Aug 2026, 11:53 AM
Views: 9
Tokens: 2,363
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আসর নামাজের পর সাধারণত ১০০ বার দুরুত,১০০ বার ইস্তেগফার, ১০০ বার জিকির পাঠ করি।নামাজের পর এই ১০০ বার দুরুদ পাঠ করা জায়েজ?

Answer

আসর নামাজের পর ১০০ বার দুরুদ পাঠ করার বিধান

উত্তর

আসর নামাজের পর ১০০ বার দুরুদ, ১০০ বার ইস্তেগফার এবং ১০০ বার জিকির পাঠ করা জায়েজ আছে। তবে কিছু শর্ত ও বিবেচনা রয়েছে।

দলিল ও ব্যাখ্যা

১. দুরুদ পাঠের ফজিলত

দুরুদ পাঠ করা একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا "যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।" (সহীহ মুসলিম: ৪০৮)

২. নামাজের পর জিকিরের গুরুত্ব

নামাজের পর জিকির-আযকার করা সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ "অতঃপর যখন তোমরা নামাজ সমাপ্ত কর, তখন দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)

৩. নির্দিষ্ট সংখ্যক দুরুদ পাঠের বিধান

নির্দিষ্ট সংখ্যক (যেমন ১০০ বার) দুরুদ পাঠ করা জায়েজ আছে। তবে এ বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়:

ক. ইবাদত হিসেবে জায়েজ: সাধারণভাবে ১০০ বার দুরুদ পাঠ করা জায়েজ এবং এতে সওয়াব রয়েছে।

খ. বিদ'আতের শর্ত: যদি কেউ মনে করে যে, "আসর নামাজের পর ১০০ বার দুরুদ পাঠ করা আবশ্যক" বা "এটি সুন্নতের অংশ" — তাহলে সেটি বিদ'আত হতে পারে। কিন্তু যদি কেউ নফল ইবাদত হিসেবে পাঠ করে, তাহলে তা জায়েজ।

গ. ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর মত: ইমাম শাফেঈ (রহ.) বলেছেন, "যদি কেউ নির্দিষ্ট সংখ্যক জিকির করে এবং মনে করে এটি মুস্তাহাব, তাহলে তা বিদ'আত; কিন্তু যদি মনে করে এটি নফল ইবাদত, তাহলে তা জায়েজ।"

৪. হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি

হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়াহফাতাওয়া আলমগীরী-তে বলা হয়েছে যে, নামাজের পর যেকোনো পরিমাণ জিকির করা জায়েজ। তবে ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) উল্লেখ করেছেন:

"নামাজের পর নির্দিষ্ট সংখ্যক দুরুদ বা জিকির পাঠ করা জায়েজ, যদি তা নফল ইবাদত হিসেবে করা হয় এবং একে আবশ্যক বা সুন্নত মনে না করা হয়। তবে উত্তম হলো সুন্নাতে বর্ণিত জিকিরগুলো (যেমন: আয়াতুল কুরসি, তাসবিহ-তাহলিল ইত্যাদি) করার পর অতিরিক্ত হিসেবে দুরুদ পাঠ করা।"

৫. গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

১. নিয়ত: মনে করতে হবে এটি নফল ইবাদত, ফরজ বা ওয়াজিব নয়। ২. সুন্নত জিকিরের পর: প্রথমে সুন্নাতে বর্ণিত জিকির (৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার) করা উচিত, তারপর অতিরিক্ত হিসেবে ১০০ বার দুরুদ পাঠ করা যেতে পারে। ৩. জামাতের সাথে নয়: একাকী বা নীরবে পাঠ করা উচিত, উচ্চস্বরে নয়। ৪. নিয়মিত আবশ্যক মনে না করা: যদি কেউ মনে করে "আসর নামাজের পর ১০০ বার দুরুদ পাঠ করা আমার জন্য আবশ্যক" — তাহলে এটি সমস্যা হতে পারে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আসর নামাজের পর ১০০ বার দুরুদ, ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার জিকির পাঠ করা জায়েজ এবং এতে সওয়াব রয়েছে। তবে শর্ত হলো:

  • এটিকে ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নত মনে না করা
  • নফল ইবাদত হিসেবে করা
  • প্রথমে সুন্নাতে বর্ণিত জিকিরগুলো করা
  • উচ্চস্বরে জামাতের সাথে না করা

উত্তম পদ্ধতি: সুন্নাতে বর্ণিত জিকির (৩৩+৩৩+৩৪) করার পর অতিরিক্ত নফল হিসেবে ১০০ বার দুরুদ পাঠ করা।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.