আখেরি চাহার সোম্বা কি বিদআত

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 3821
Questioner: Salhana Rahman Oyshi
Question Asked: 11 Aug 2026, 06:42 PM
Reviewed & Published: 11 Aug 2026, 07:09 PM
Views: 13
Tokens: 3,014
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আখেরি চাহার সোম্বা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি। এই দিন উপলক্ষে কি কোনো নামাজ, রোজা বা নফল ইবাদাত সম্পর্কে সহিহ হাদিস এ কিছু বর্ণিত আছে? ঈদে মিলাদুন নবী উদ্ যাপন করা কি শরীয়ত সম্মত? এই দিন উপলক্ষে কি কোনো নামাজ, রোজা বা নফল ইবাদাত আছে?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আখেরি চাহার সোম্বা (রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ) সম্পর্কে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি হলো:

১. আখেরি চাহার সোম্বা ও এর ফজিলত: আখেরি চাহার সোম্বা বলতে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখকে বোঝানো হয়। এই দিনটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ওফাতের দিন হিসেবে পরিচিত। তবে এই দিনটি উপলক্ষে কোনো বিশেষ নামাজ, রোজা বা নফল ইবাদতের বিষয়ে সহিহ হাদিসে কোনো বর্ণনা নেই। এটি একটি প্রচলিত রীতি মাত্র, যা পরবর্তী যুগে প্রচলিত হয়েছে।

২. ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন: ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন সম্পর্কে শরীয়তের বিধান হলো—এটি বিদ'আত। কারণ:

  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজে তাঁর জন্মদিন উদযাপন করেননি।
  • সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) এবং তাবেয়ীনগণ (রহঃ) এই দিনটি উদযাপন করেননি।
  • ইসলামের প্রথম তিন শতাব্দীতে এই প্রথা ছিল না।

ইমাম মালিক (রহঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে নতুন কোনো বিষয় উদ্ভাবন করল যা তাতে ছিল না, সে বিদ'আত করল।" (মুয়াত্তা মালিক)

৩. এই দিনে বিশেষ ইবাদত: এই দিনে কোনো বিশেষ নামাজ, রোজা বা নফল ইবাদতের বিধান নেই।

৪. বিদ'আত সম্পর্কে হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।" (সহিহ বুখারী: ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম: ১৭১৮)

৫. হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি: হানাফি মাযহাবের ইমামগণ ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনকে বিদ'আত বলে গণ্য করেছেন। তবে তারা বলেন, যদি কেউ ভালো উদ্দেশ্যে মাহফিল করে এবং সেখানে কুরআন তিলাওয়াত, নবী (সাঃ)-এর জীবনী আলোচনা, দরুদ পাঠ ইত্যাদি করা হয়, তবে তা জায়েয হতে পারে, কিন্তু একে ঈদ হিসেবে উদযাপন করা বা বিশেষ দিন হিসেবে পালন করা বিদ'আত।

৬. ফাতাওয়া উসমানি থেকে: মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন: "ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করা বিদ'আত, কারণ এটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বা সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) থেকে প্রমাণিত নয়। তবে যদি কেউ এই দিনে সাধারণভাবে নবী (সাঃ)-এর জীবনী আলোচনা করে এবং দরুদ পাঠ করে, তবে তা জায়েয, কিন্তু একে ঈদ হিসেবে উদযাপন করা জায়েয নয়।"

৭. রোজা সম্পর্কে: ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনে বিশেষ রোজা রাখার কোনো প্রমাণ নেই। তবে সোমবার রোজা রাখা সুন্নত, কারণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সোমবার রোজা রাখতেন। (সহিহ মুসলিম: ১১৬২) কিন্তু এই দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হওয়ার কারণে বিশেষ রোজা রাখা বিদ'আত।

৮. নামাজ সম্পর্কে: এই দিনে কোনো বিশেষ নামাজ (যেমন: ১২ রাকাত নামাজ) পড়ার কোনো প্রমাণ নেই। এই ধরনের নামাজ বিদ'আত।

৯. উপসংহার:

  • আখেরি চাহার সোম্বা বা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কোনো বিশেষ নামাজ, রোজা বা নফল ইবাদত শরীয়ত সম্মত নয়।
  • এই দিনটি ঈদ হিসেবে উদযাপন করা বিদ'আত।
  • তবে সাধারণভাবে নবী (সাঃ)-এর জীবনী আলোচনা, দরুদ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে, কিন্তু তা এই দিনের সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত করে নয়।

১০. দলিল:

  • সহিহ বুখারী: ২৬৯৭
  • সহিহ মুসলিম: ১৭১৮
  • মুয়াত্তা মালিক
  • ফাতাওয়া উসমানি
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.