অনার্স এর স্টুডেন্ট পড়ানো প্রসংগে

Business and Job · Hanafi

Question No: 3805
Questioner: Nasrin Akter
Question Asked: 11 Aug 2026, 12:03 PM
Reviewed & Published: 11 Aug 2026, 12:24 PM
Views: 13
Tokens: 3,346
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আমি মেয়ে এক্ষেত্রে আমার জন্য এখন অনার্স(গনিত বিভাগ) এর একটা অনলাইন কোচিং এ পড়ানো উচিৎ হবে? এখানে ছেলে, মেয়ে উভয়েই আছে। ক্লাস সিস্টেম হলো আমি আগে থেকে খাতায় বা অন্যভাবে ক্লাস রেকর্ড করে ক্লাস লিস্ট সাজিয়ে দিবো। ছেলেদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ এর বিষয় নেই৷ কিন্তু ক্লাস রেকর্ড টা থাকবে ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্য৷ যেহেতু অনার্স এ পড়া ছেলে যথেষ্ট বড় হয়। তাই দ্বিধায় আছি। আমার জন্য কি এখানে কাজ করা ঠিক হবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি হলো—নারী-পুরুষের মধ্যে পর্দা ও শারঈ সীমারেখা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি অনলাইনে ক্লাস রেকর্ড করে তা ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য সরবরাহ করবেন, এবং ছেলেদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে না। এই ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি:

১. ক্লাস রেকর্ডের মাধ্যমে শিক্ষাদান:
যেহেতু আপনি আগে থেকে ক্লাস রেকর্ড করে দিবেন এবং তা ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য থাকবে, তাই এটি একটি সাধারণ শিক্ষামূলক উপকরণ হিসেবে গণ্য হবে। তবে, আপনার কণ্ঠস্বর বা ভিডিও যদি ছেলেদের কাছে পৌঁছায়, তাহলে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, নারীর কণ্ঠস্বর বা চেহারা অমাহরাম পুরুষের কাছে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যদি তা ফিতনার কারণ হয়। (সূরা আল-আহযাব: ৩২-৩৩)

২. সরাসরি যোগাযোগের অনুপস্থিতি:
আপনি উল্লেখ করেছেন যে ছেলেদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের বিষয় নেই। এটি একটি ভালো দিক। তবে, ক্লাস রেকর্ড বা লেকচার শোনার মাধ্যমে ছেলেরা আপনার কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে। যদি আপনার কণ্ঠস্বর বা শিক্ষাদানের পদ্ধতি ফিতনার কারণ হতে পারে, তাহলে তা এড়িয়ে চলা উচিত।

৩. বিকল্প ব্যবস্থা:
আপনি চাইলে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ করতে পারেন, অথবা আপনার রেকর্ড করা ক্লাসটি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন। যদি এটি সম্ভব না হয়, তাহলে আপনি লিখিত নোট বা স্লাইডের মাধ্যমে শিক্ষাদান করতে পারেন, যাতে সরাসরি কণ্ঠস্বর বা ভিডিও প্রকাশ না হয়।

৪. ইখতিলাত (মিশ্রণ) এড়িয়ে চলা:
ইসলামে নারী-পুরুষের অবাধ মিশ্রণ নিষিদ্ধ। যদিও আপনার কাজটি অনলাইনে, তবুও যদি এতে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা পরিহার করা উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে আমি এমন কোনো পুরুষ-নারীর পিছনে নেই যারা একত্রে মিশে থাকে।" (সুনানে তিরমিজি: ১১৬৬)

সিদ্ধান্ত:
আপনার কাজটি যদি সম্পূর্ণ শারঈ সীমারেখার মধ্যে থাকে—অর্থাৎ, ছেলেদের সাথে কোনো প্রকার সরাসরি যোগাযোগ না থাকে, আপনার কণ্ঠস্বর বা ভিডিও ফিতনার কারণ না হয়, এবং আপনি পর্দার বিধান মেনে চলেন—তাহলে এটি জায়েয হতে পারে। তবে, অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ফিতনা এড়ানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা (যেমন: শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য ক্লাস সীমাবদ্ধ রাখা বা লিখিত উপকরণ ব্যবহার করা) গ্রহণ করা অধিক উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।

রেফারেন্স:

  • সূরা আল-আহযাব: ৩২-৩৩
  • সুনানে তিরমিজি: ১১৬৬
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ১/৪০৬
  • ফাতাওয়া উসমানি: ২/৪৩৫
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী): ২/২৪

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.