জীবনে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 3787
Questioner: tahia islam samaira 1032
Question Asked: 10 Aug 2026, 08:44 PM
Reviewed & Published: 10 Aug 2026, 09:12 PM
Views: 9
Tokens: 1,905
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Amr jibone 26 bochor dhore dektese Khali kosto r kosto kokhono suk ashe nai koster por bole sosti kintu amr jibon e sosti ashe nai kokhono

Answer

উত্তর

আপনার ২৬ বছরের জীবনে শুধু কষ্ট আর কষ্ট—এই অনুভবটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আপনার দুঃখ-কষ্ট আমরা হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।" (সূরা আশ-শারহ: ৯৪:৫-৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা দুবার ঘোষণা করেছেন যে প্রতিটি কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। এটি একটি অটল প্রতিশ্রুতি।

কষ্টের পরই সাফল্য

কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

"অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর তুমি সুসংবাদ দাও সবরকারীদেরকে।" (সূরা আল-বাকারা: ২:১৫৫)

ইমাম ইবনে কাসীর (রহঃ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ।

হাদীসের আলোকে

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"আশ্চর্যের বিষয় হলো মুমিনের ব্যাপার! তার সকল কাজই কল্যাণকর। যদি সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করে, তবে সে শুকরিয়া আদায় করে—এতে তার কল্যাণ। আর যদি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়, তবে সে সবর করে—এতেও তার কল্যাণ।" (সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯)

হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি

ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "দুনিয়া হলো পরীক্ষার স্থান, আর আখিরাত হলো প্রতিদানের স্থান। যে ব্যক্তি দুনিয়ার কষ্টকে আখিরাতের সাফল্যের পথ মনে করবে, তার জন্য কষ্টও সহজ হয়ে যাবে।"

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহঃ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন: "মুমিনের জন্য দুনিয়ার কষ্টগুলো তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায় এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে।"

হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে এমন স্বস্তি দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।"

আপনার জন্য পরামর্শ

১. সবর (ধৈর্য) অবলম্বন করুন — আল্লাহর কাছে সবরের বিনিময় অফুরন্ত। ২. নামাজে মনোযোগী হোন — নামাজই মুমিনের মিরাজ এবং কষ্ট লাঘবের মাধ্যম। ৩. দোয়া ও ইস্তিগফার করুন — আল্লাহর কাছে আপনার মনের কথা খুলে বলুন। ৪. কুরআন তিলাওয়াত করুন — কুরআনই অন্তরের প্রশান্তির উৎস। ৫. সৎ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করুন — ভালো মানুষের সংসর্গ কষ্ট লাঘব করে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপান না।" (সূরা আল-বাকারা: ২:২৮৬)

মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহঃ) তার তাফসীর মা'আরিফুল কুরআন-এ বলেছেন: "দুনিয়ার কষ্ট মুমিনের জন্য রহমত, কারণ এটি তার গুনাহ মোচন করে এবং আখিরাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে।"

আল্লাহ তাআলা আপনার সব কষ্ট দূর করুন এবং আপনাকে সুখ-শান্তি দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.