স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়া কারণ ছাড়া

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3694
Questioner: morsheda monica
Question Asked: 08 Aug 2026, 06:04 PM
Reviewed & Published: 08 Aug 2026, 06:21 PM
Views: 16
Tokens: 5,247
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্বামীর সাথে হঠাৎ কোনও কারণ ছাড়াই খুব ঝগড়া হয়,আবার কয়েকদিন খুব ভালো থাকেন যেন ঝগড়ার কথা মনেই নেই। উনি আমাকে সহ সবাইকে সন্দেহ করেন,ভাবেন যে সবাই উনার ক্ষতি করতে চায়,উনার কাছে সবাই টাকার জন্য যোগাযোগ করে,ছোট থেকে ছোট বিষয় পার্সোনালি নিয়ে তুমুল ঝগড়া। সে ভাবে আমি ব্ল্যাকমেজিক করি,কয়দিন এটা নিয়ে আমাকে খুব মেন্টাল টর্চার করে আবার সে ভাবে তার ফোন ট্র্যাক করা হয়,এর জন্য সে কয়েকটা মোবাইল চেঞ্জ করেছে। মোট কথা সে মানসিক রোগী।আমি সাইকোলজিস্ট দেখিয়েছি। সেখানেও তার সমস্যা সেটা বলেছে। এখন আমি তাঁকে খুব ভালবাসি। তাঁকে ছাড়ার কথা ভাবতে পারি না। কিন্তু তার মানসিক টর্চার এর কারণে আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।আমার মানসিক সমস্যা হয়ে যাচ্ছে ।এমন অবস্থায় আমি কি করবো ?কেউ কি আমাদের সম্পর্ক ভাঙার জন্য কিছু করছে কি না তাও জানি না। কিন্তু আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি। আমার এখন কি করা উচিৎ? এই সম্পর্ক থেকে বের হওয়া আমার জন্য ঠিক হবে নাকি তার সাথে থেকে সবর করা ঠিক হবে ? কিন্তু সবর করা টা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে

Answer

আপনার প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: আমার স্বামী মানসিক রোগে ভুগছেন, তিনি সবাইকে সন্দেহ করেন, আমাকে ব্ল্যাকমেজিকের অভিযোগ করেন, ফোন ট্র্যাকিংয়ের সন্দেহ করেন, ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া করেন। আমি তাঁকে ভালোবাসি কিন্তু তাঁর মানসিক নির্যাতনে আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আমার কী করা উচিত?


উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ, আপনার কঠিন পরিস্থিতি বুঝতে পারছি। এটি একটি জটিল পারিবারিক সমস্যা। নিম্নে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান প্রদান করা হলো:

১. ধৈর্য ও সবরের গুরুত্ব

ইসলামে দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য ধারণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ব্যবহার করো।" (সূরা আন-নিসা: ১৯)

তবে এর অর্থ এই নয় যে, স্ত্রীকে চরম মানসিক নির্যাতন সহ্য করতেই হবে। ইসলামে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে।

২. মানসিক রোগের চিকিৎসা করানো

যেহেতু আপনি উল্লেখ করেছেন যে, সাইকোলজিস্ট আপনার স্বামীর সমস্যা শনাক্ত করেছেন, তাই তার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা জরুরি। মানসিক রোগ নিরাময়যোগ্য, ইনশাআল্লাহ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً "আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার প্রতিষেধক তিনি অবতীর্ণ করেননি।" (সহীহ বুখারী: ৫৬৭৮)

৩. পরিবার ও আত্মীয়দের সহযোগিতা

আপনার স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলুন। তাদের জানান তাঁর মানসিক অবস্থার কথা। ইসলামী দৃষ্টিকোণে, পরিবারের সদস্যদের উচিত অসুস্থ ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো এবং চিকিৎসায় সহযোগিতা করা।

৪. তালাক বা বিচ্ছেদের বিধান

ইসলামে তালাক সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল কাজ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلَاقُ "আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাপেক্ষা অপছন্দনীয় হালাল বস্তু হলো তালাক।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১৭৮)

তবে যদি মানসিক নির্যাতন অসহনীয় হয়ে ওঠে এবং জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ইসলামে খুলা (স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ) বা তালাকের অনুমতি রয়েছে।

৫. ব্যবহারিক সমাধান

১. স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যান - নিয়মিত সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিন এবং ঔষধ সেবন করান। ২. ধৈর্য ধরুন - তবে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখুন। ৩. পরিবারের সাহায্য নিন - একা এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন না। ৪. দোয়া করুন - আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন। ৫. বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত - যদি চিকিৎসা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি না হয় এবং আপনার জীবন বিপন্ন হয়, তাহলে আলেম বা মুফতির পরামর্শ নিয়ে খুলা বা তালাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

৬. জাদু-টোনা সম্পর্কে

আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনার স্বামী মনে করেন আপনি ব্ল্যাকমেজিক করেন। ইসলামী দৃষ্টিকোণে, জাদু-টোনা সত্য এবং এর প্রভাব থাকতে পারে। তবে আপনার স্বামীর এই ধারণা তার মানসিক রোগের কারণে হতে পারে। আপনি যদি নিশ্চিত হন যে, আপনি কোনো জাদু করেননি, তাহলে এ বিষয়ে আপনার বিবেক পরিষ্কার। প্রয়োজনে একজন আলেমের মাধ্যমে আপনার ঘরকে জাদু থেকে রক্ষার দোয়া ও রুকইয়াহ করাতে পারেন।


সংক্ষিপ্ত পরামর্শ

আপনার জন্য উত্তম পথ হলো:

  1. স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া - এটি আপনার কর্তব্য।
  2. ধৈর্য ধরা - তবে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রার্থনার আশ্রয় নিন।
  3. বিচ্ছেদের আগে সর্বশেষ চেষ্টা - চিকিৎসা, পরিবারের সহযোগিতা, আলেমের পরামর্শ—সব চেষ্টা করুন।
  4. যদি অসহনীয় হয় - তাহলে আলেমের পরামর্শ নিয়ে খুলা বা তালাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

আল্লাহ আপনার терпение ও ধৈর্যের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আপনার পরিবারে শান্তি ফিরিয়ে আনুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.