হায়েজের অভ্যাস ৭ দিন হলেও ওষুধের কারণে ৫ দিনে রক্ত বন্ধ হলে করণীয় কী?
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমার হায়েজের অভ্যাসগত আদত ৭দিন। কিন্তু কিছু ওষুধের খাওয়ার কারণে আমার হায়েজ এখন অনিয়মিত বা আগের আদত অনুযায়ী হচ্ছে না। যেমন গতমাসে হায়েজ হয়েছে ১৩দিন স্থায়ী ছিল। এই মাসে হায়েজ ৫দিনেই রক্ত বন্ধ হয়েছে। এখন আমি আমার আদত অনুযায়ী ৭দিন অপেক্ষা করবো নাকি এখন থেকে পবিত্র হয়ে নামাজ পড়বো?
এরকম পরবর্তীতেও অনিশ্চিত অনিয়মিত হায়েজ হলে কি করণীয়?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। হায়েজের ক্ষেত্রে অভ্যাস (আদত) এবং বর্তমান অবস্থা—এই দুটির মধ্যে কোনটি প্রাধান্য পাবে, তা নির্ভর করে রক্তপাতের ধারাবাহিকতার উপর।
১. এই মাসে ৫ দিনে রক্ত বন্ধ হলে করণীয়:
যেহেতু আপনার অভ্যাসগত আদত ৭ দিন, কিন্তু এই মাসে মাত্র ৫ দিনে রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে, তাই আপনি ৫ দিন পরপরই পবিত্র হয়ে যাবেন এবং গোসল করে নামাজ, রোজা ইত্যাদি শুরু করে দেবেন। ৭ দিন অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
দলিল: হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো—হায়েজের সর্বনিম্ন সময়কাল ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। এর মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে, রক্ত যতদিন থেকেছে ততদিনই হায়েজ গণ্য হবে। অভ্যাসের চেয়ে কম দিনে রক্ত বন্ধ হলে, বন্ধ হওয়ার পরপরই পবিত্র হয়ে যেতে হবে। অভ্যাসের অপেক্ষা করা জরুরি নয়।
(রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৮৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৭)
২. গতমাসে ১৩ দিন হায়েজ হওয়ার বিধান:
গতমাসে আপনার ১৩ দিন রক্তপাত হয়েছে। যেহেতু হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন, তাই এর মধ্যে ১০ দিন হায়েজ গণ্য হবে এবং বাকি ৩ দিন ইস্তিহাজা (অসুস্থতা) গণ্য হবে। অর্থাৎ, ১০ দিন পর থেকে আপনাকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ঐ ৩ দিনের নামাজগুলো আপনাকে কাজা (ক্বাযা) করতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৭)
৩. ভবিষ্যতে অনিয়মিত হায়েজ হলে করণীয়:
ভবিষ্যতে যদি আপনার হায়েজ অনিয়মিত হয়, তাহলে নিম্নোক্ত নিয়ম অনুসরণ করবেন:
- রক্ত ৩ দিনের কম হলে: তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা। এই অবস্থায় নামাজ পড়তে হবে এবং রক্তের কারণে শুধু ওযু ভঙ্গ হবে।
- রক্ত ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে হলে: পুরো সময়টুকু হায়েজ গণ্য হবে। রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে পবিত্র হয়ে নামাজ শুরু করবেন।
- রক্ত ১০ দিনের বেশি হলে: প্রথম ১০ দিন হায়েজ এবং বাকি দিনগুলো ইস্তিহাজা। ১০ দিন পর থেকে গোসল করে নামাজ পড়া শুরু করবেন এবং পরবর্তী মাসে অভ্যাস পরিবর্তন হবে না, বরং নতুন করে হিসাব করতে হবে।
মূলনীতি: হায়েজের ক্ষেত্রে অভ্যাসের চেয়ে বর্তমান রক্তের অবস্থা বেশি প্রাধান্য পায়। রক্ত ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে যতদিন থাকবে, ততদিনই হায়েজ। অভ্যাসের সাথে মিল না থাকলেও সমস্যা নেই।
উপসংহার: এই মাসে ৫ দিনে রক্ত বন্ধ হওয়ায় আপনি এখনই পবিত্র হয়ে নামাজ পড়তে পারবেন। ৭ দিন অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে ১০ দিনের বেশি রক্ত চললে ১০ দিনের পর থেকে পবিত্র হয়ে নামাজ পড়বেন এবং ৩ দিনের কম হলে তা হায়েজ নয়।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।