অফিসের টাকা নিজে নিজে ধার নেওয়া প্রসঙ্গে
Business and Job · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: অফিসের টাকা নিজে নিজে ধার নেওয়া যাবে না
শারঈ দলিল ও ফিকহী বিশ্লেষণ:
১. কুরআনের নির্দেশনা: আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ" "হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না।" (সূরা আন-নিসা: ২৯)
অফিসের টাকা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। অনুমতি ছাড়া তা নিজের জন্য ধার নেওয়া সুস্পষ্ট অন্যায় ও খিয়ানত।
২. হাদীসের বক্তব্য: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"الْمُسْلِمُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ ثَلَاثٌ: لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ" "মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের সম্পদ বৈধ নয়, যদি না তা সন্তুষ্টচিত্তে দেওয়া হয়।" (মুসনাদে আহমদ, শু‘আবুল ঈমান)
একজন কর্মচারীর জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে ব্যক্তিগতভাবে ঋণ নেওয়া যাবে না।
৩. হানাফি ফিকহের কিতাবের উদ্ধৃতি:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগীরী):
"لَا يَجُوزُ لِلْعَامِلِ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ مَالِ الْمُضَارَبَةِ قَرْضًا بِغَيْرِ إِذْنِ رَبِّ الْمَالِ" "কর্মচারীর জন্য মালিকের অনুমতি ছাড়া মুদারাবা বা কোম্পানির তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণ করা জায়েজ নয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৪/২২৫)
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
"إِذَا اقْتَرَضَ الْعَامِلُ مِنَ الْمُضَارَبَةِ بِغَيْرِ إِذْنِ رَبِّ الْمَالِ كَانَ ضَامِنًا" "যদি কর্মচারী মালিকের অনুমতি ছাড়া কোম্পানির তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তবে সে এর জন্য দায়ী থাকবে (ক্ষতি পূরণ করতে বাধ্য)।" (রদ্দুল মুহতার, ৫/৬৬৬)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী):
এখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, অনুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানের মাল থেকে কোনো কিছু নেওয়া "খিয়ানত" (বিশ্বাসভঙ্গ) হিসেবে গণ্য। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩/৪৪০)
- মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর ফাতাওয়া:
তিনি বলেন: "অফিসের টাকা অনুমতি ছাড়া নেওয়া জায়েজ নয়; বরং তা হারাম এবং গুনাহের কাজ। যদি কোনো জরুরি প্রয়োজন হয়, তবে সুপারভাইজার বা কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অনুমতি নেওয়া আবশ্যক।" (জাওয়াহিরুল ফিকহ, ২/৩১২)
৪. মূলনীতি:
- প্রতিষ্ঠানের টাকা কর্মচারীর কাছে আমানত (trust) হিসেবে গণ্য। আমানতে খিয়ানত করা কবিরা গুনাহ।
- জরুরত ও প্রয়োজন দিয়ে সাধারণত অফিসের টাকা অনুমতি ছাড়া ধার নেওয়া জায়েজ হয় না; বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি অবশ্যই নিতে হবে।
সারসংক্ষেপ:
১. যদি কখনো জরুরি প্রয়োজন হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অনুমতি নিয়ে নিতে হবে এবং ফেরত দেওয়ার নিয়ত ও ব্যবস্থা রাখতে হবে। ২. অনুমতি ছাড়া নিলে তা গুনাহ এবং পরকালে জবাবদিহিতার কারণ হবে।
শেষ কথা: একজন মুসলিম কর্মচারীর জন্য প্রতিষ্ঠানের নীতি ও আইন মেনে চলা ফরজ। 'নিজে নিজে ধার নেওয়া' নামে এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের সম্পদের অপব্যবহার নয়, বরং চুরি বা আত্মসাতের পর্যায়ভুক্ত হতে পারে। তাই সর্বাবস্থায় নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের হালাল রিজিক দান করুন এবং খিয়ানাত ও অন্যায় সম্পদ থেকে রক্ষা করুন। (আমীন)