Wrist watch or halal items biught by credit card with interest

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3315
Questioner: Forhad miah tuhin
Question Asked: 31 Jul 2026, 07:26 PM
Reviewed & Published: 31 Jul 2026, 07:30 PM
Views: 7
Tokens: 7,602
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, হুজুর।
আমি কিছুদিন আগে একটি wrist watch ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিনেছি। এখন প্রতি মাসে কার্ডের বিল পরিশোধ করছি।
বিষয় টা আমাকে পীড়া দেয়,
এখন থেকে সুদভিত্তিক সব লেনদেন এড়িয়ে চলতে চাই।
আমার প্রশ্নগুলো হলো:
১. এই অবস্থায় কি আমি ঘড়িটি ব্যবহার করতে পারব?
2 আমি কি ঘড়িটি বিক্রি করে দেব, নাকি ব্যবহার করতে পারি?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি মূলনীতি স্পষ্ট করে নিচ্ছি:

মূলনীতি: কোনো বস্তু নিজে হালাল হলে, তা হারাম উপায়ে কেনা হলে বস্তুটি হারাম হয় না; বরং হারাম হয় সেই লেনদেন ও সুদ প্রদান। ক্রয়ের মাধ্যমে বস্তুর মালিকানা বৈধভাবে ক্রেতার কাছে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। তবে সুদ প্রদানকারী গুনাহগার হবে।


১. ঘড়িটি ব্যবহার করা কি জায়েজ?

উত্তর: হ্যাঁ, জায়েজ। আপনি ঘড়িটি ব্যবহার করতে পারবেন। কারণ ঘড়িটি নিজে একটি হালাল বস্তু এবং আপনি এটি বৈধভাবে ক্রয় করে মালিকানা লাভ করেছেন। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনার সময় পণ্য কেনার চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে এবং পণ্যটি আপনার মালিকানায় এসেছে। কার্ড কোম্পানির সাথে আপনার যে ঋণ (সুদ-সহ) রয়েছে, সেটি একটি ভিন্ন চুক্তি। এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদ ধার্য হলে সুদ দেওয়া হারাম এবং গুনাহের কাজ। কিন্তু এর কারণে ঘড়িটি হারাম হয়ে যায় না।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
সূরা আল-বাকারাহ ২৭৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"অথচ আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।"
(সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"সুদ খাওয়া, সুদ খাওয়ানো, সুদের সাক্ষী থাকা এবং সুদের দলিল লেখা—সবই অভিশপ্ত।"
(সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)

তবে এই আয়াত-হাদিসের আলোকে সুদ হারাম হলেও, সুদ দিয়ে কেনা পণ্যটি নিজে হারাম নয়। হানাফি ফিকহের কিতাবগুলোতে এটি স্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে।

হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) -এ বলা হয়েছে:

"যদি কেউ হারাম বস্তু (যেমন মদ, শূকর) ক্রয় করে, তবে তা ভোগ করা হারাম। কিন্তু যদি কোনো হালাল বস্তু হারাম উপায়ে (যেমন সুদ দিয়ে) ক্রয় করে, তবে সেই বস্তুটি নিজে হালাল; তবে ক্রয়ের পদ্ধতির কারণে গুনাহ হবে।"
(রদ্দুল মুহতার, ৫ম খণ্ড, কিতাবুল বুয়ু)

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগীরি) -তেও অনুরূপ নীতি উল্লেখ আছে:

"সুদ দিয়ে কেনা জিনিস ব্যবহার করা জায়েজ, তবে সুদ দেওয়া হারাম।"
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫ম খণ্ড, কিতাবুল বুয়ু)

আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর বেহেশতী জেওর-এ লেনদেনের আলোচনায় বলা হয়েছে:

"যদি কেউ সুদি লেনদেন করে, তবে সে গুনাহগার হবে, কিন্তু সেই টাকায় কেনা জিনিসটি হারাম হবে না; বরং তা ব্যবহার করা জায়েজ।"
(বেহেশতী জেওর, লেনদেন অধ্যায়)

মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.-এর মাআরিফুল কুরআন-এ সূরা বাকারার ২৭৫-২৭৯ আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে:

"সুদ হারাম হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সুদি লেনদেনের মাধ্যমে অর্জিত পণ্য নিজে হারাম; বরং হারাম হলো সুদ আদায় করা বা দেওয়া। পণ্যটি যদি নিজে হালাল হয়, তবে তা ব্যবহার করা যাবে।"
(মাআরিফুল কুরআন, ১ম খণ্ড)


২. ঘড়িটি বিক্রি করে দেওয়া কি জরুরি?

উত্তর: না, বিক্রি করা জরুরি নয়। ঘড়িটি ব্যবহার করা জায়েজ হওয়ায় তা বিক্রি করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি নিজের আত্মিক প্রশান্তির জন্য এটি বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে নতুন ঘড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেন, তাতে কোনো দোষ নেই (যদিও প্রয়োজনীয় নয়)। ইসলাম এত কঠোর নয় যে, সুদি লেনদেনে কেনা প্রতিটি হালাল বস্তুকে বিক্রি করতে হবে। শুধু সুদ দেওয়ার গুনাহ থেকে তওবা করাই যথেষ্ট।


সুদ থেকে বের হওয়ার করণীয়

আপনি এখন থেকে সুদভিত্তিক লেনদেন এড়াতে চান, এটি খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন, ইনশাআল্লাহ। এখন আপনাকে নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে:

১. তওবা করুন: আপনার অতীতে এই লেনদেন হয়েছে, এখন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তওবার জন্য তিনটি শর্ত: (ক) গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, (খ) অতীতে করা কাজের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, (গ) ভবিষ্যতে এই কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প।
২. ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন: এখন থেকে ক্রেডিট কার্ডের সুদভিত্তিক কোনো লেনদেন করবেন না। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখবেন, যেন নির্দিষ্ট সময়ের (সাধারণত ৪৫-৫৫ দিন) মধ্যে পুরো বিল পরিশোধ করে দেন, তাহলে কোনো সুদ ধার্য হয় না। একান্ত প্রয়ােজনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেও সময়মতো পুরো টাকা পরিশোধ করুন। অথবা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করুন, যাতে সুদের ঝুঁকি নেই।
৩. নতুন কোনো ঋণ বা কিস্তি করবেন না: সুদভিত্তিক যে কোনো ঋণ, বাড়ি/গাড়ির লোন, ক্রেডিট কার্ডের ন্যূনতম পরিশোধ ইত্যাদি থেকে বিরত থাকুন।
৪. ঘড়ি সম্পর্কে: আপনি যদি ইতিমধ্যে সুদসহ টাকা পরিশোধ করে থাকেন (অর্থাৎ সুদ চার্জ হয়েছে), তবে এখন আর কিছু করার নেই। অতিরিক্ত সুদের অংশ ব্যাংক/কার্ড কোম্পানিকে দেওয়া বৈধ নয়। তবে যদি এখনো সুদ বকেয়া থাকে এবং আপনি চান, তাহলে কার্ড কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে সুদ মওকুফের জন্য অনুরোধ করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা মওকুফ করে দেয়। কিন্তু এটি জরুরি নয়; তওবা করলেই আল্লাহ ক্ষমা করবেন।


সংক্ষিপ্ত উত্তর

১. ঘড়িটি ব্যবহার করা কি জায়েজ?
হ্যাঁ, জায়েজ। সুদ দিয়ে কেনা হালাল বস্তু ব্যবহার করা ফিকহের দৃষ্টিতে জায়েজ। ঘড়িটি হারাম নয়। শুধু সুদ দেওয়া হারাম, যার জন্য তওবা করতে হবে।

২. ঘড়িটি বিক্রি করা জরুরি কি?
না, জরুরি নয়। এটি ব্যবহার করা যাবে। বিক্রি করারও কোনো বাধা নেই, তবে আবশ্যক নয়।


রেফারেন্সসমূহ

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৫ম খণ্ড, কিতাবুল বুয়ু
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া / ফাতাওয়া আলমগীরি, ৫ম খণ্ড, কিতাবুল বুয়ু
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী রহ.), লেনদেন অধ্যায়
  • মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.), ১ম খণ্ড, সূরা বাকারার ২৭৫-২৭৯ আয়াতের তাফসির
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি), ২য় খণ্ড, লেনদেন ও সুদ সংক্রান্ত

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.