শাশুড়ির সাথে জামাতার সম্পর্কঃ এখন করণীয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3275
Questioner: Sumaiya Sharmin
Question Asked: 30 Jul 2026, 11:15 PM
Reviewed & Published: 30 Jul 2026, 11:42 PM
Views: 11
Tokens: 36,592
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ

আমার মনমতো ফতোয়া আসুক এমনটা চাই না বিধায় যতটুকু পেরেছি বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টায় লেখাটা অনেক বড় হয়ে গেছে এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত,মাফ চাই। অনুগ্রহ করে আমার নাম-পরিচয় এবং প্রশ্নটি গোপন রেখে ব্যাক্তিগতভাবে উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো। বিনীত অনুরোধ রইল।

২০২১ সালে আমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়েরও হয়তো এক/দেড় বছর আগে থেকে ছেলে ও আমার মায়ের পরিচয় হয় আমার চাচাতো বড় বোনের বিয়ের আলোচনা নিয়ে। সেখান থেকে তাদের দুইজনের মধ্যে কথা বার্তা শুরু। কিন্তু আমি তাকে চিনতাম না, কখনো কথাও বলতাম না। শুধু জানতাম মায়ের সাথে উনার যোগাযোগ হয়। পরবর্তীতে তার সাথে বোনের বিয়ের ব্যাপারটা আগায় না এবং আমার মা সেই ছেলের সাথে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে দেয়। আমি কোনোভাবেই রাজি ছিলাম না। অনেকবার ইস্তেখারা করেছি কখনোই পজেটিভ মনে হয়েছিল না। জোর করে বিয়ে দেয়। তখন সে বেকার ছিল তাই আমি আমাদের বাড়িতে থাকতাম।

বিয়ের তিনদিনের দিন,
দুপুরের দিকে হঠাৎ সে বাড়ি থেকে চলে যায়। এ নিয়ে আম্মু আমাকে অনেক বকে। বাড়িতে থাকা অবশিষ্ট মেহমান,প্রতিবেশি, পরিবার সবাই আমাকে অনেক কথা শুনায়। আমি সাজি না, তার কাছে বসি না, কথা বলি না এসব কারণে নাকি সে চলে গেছে। পরে আমার এক নানু আমাকে ডেকে বলে কল দিয়ে আসতে বল, আমি কল করে তাকে আসতে বললে সে আসে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর সে আমাকে বলে, আমার মায়ের সাথে তার কথা কাটাকাটি বা কিছু একটা হয়েছে তাই চলে গেছিলো।

বিয়ের সাতদিনের দিন,
আমাদের বাড়িতে যে রুমে আমরা ঘুমাই সেই রুমের পাশেই বাসার গেইট লাগিয়ে আম্মু চলে যেতে নেয় তখন রাত আনুমানিক ৯/১০ টার সময়। আম্মুকে ডেকে রুমে এনে গল্প করা শুরু করে। আমরা গ্রামে থাকি তাই তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস আমার। আমি শুধু বলি যে, আচ্ছা আপনারা কথা বলেন আমার ঘুম পাইছে, ঘুমাই। এরপর শুয়ে পড়ছি দেখে আম্মু বলে আচ্ছা তাহলে তোমরা ঘুমাও আমি যাই। আম্মু চলে গেলো কেন, তাই আমার বুকের উপরে উঠে বসে গলায় চিপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। আরেকটু হলে মরেই যেতাম কিন্তু তখন সে ছেড়ে দেয়। এরপর রুম থেকে আমাকে বের করে দেয়। যদিও আবার কিছু সময় পরেই রুমে ঢুকতে দেয় আম্মু বা অন্য কেউ দেখে ফেলতে পারে তাই।

বিয়ের আরও কিছুদিন পর,
আম্মুর কাকি ও কাকাতো বোন বেড়াতে এসেছিলো আমাদের বাড়িতে। তখন নানু কিছু বিষয় লক্ষ্য করে তার মেয়ে (আমার বড় খালামনিকে) বলেছিলেন যে, নতুন বিয়ে হইলে সারাক্ষণ জামাই বউ একলগে থাকে। এখানে দেখি, বউ ঘরে থাকে আর জামাই শ্বাশুড়ির লগে লগে থাকে। একথা অনেক পরে খালামনি আমাকে বলেছে।

আরও কিছুদিন পর,
আমরা সবাই মিলে আমার নানীর বাড়ি বেড়াতে যাই। সেখানে আমার বড় বোন দেখেছে, একটা রুমে আম্মু শুয়ে আছে পাশে সে-ও শুয়ে আছে। এরপর আপু সেখান থেকে চলে আসে। এটা আমাকে তখনি বলেনি। যখন অনেক বেশি ঝামেলা চলতেছিল একদম শেষ পর্যায়ে তখন আপু আমাকে বলেছে।

আরও কিছুদিন পর,
আমি আমাদের ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলাম। তখন আম্মু শুয়েছিলো তার নাকি মাথাব্যথা তাই। সে ঘরে আসলো, পাশে বসলো দেখলাম এবং খুবই স্বাভাবিকভাবেই নিলাম। এরপর অন্য রুম ঝাড়ু দিয়ে এই রুমে এসে দেখি সে-ও আম্মুর পাশে শুয়ে আছে এবং মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। হাত-পা-মাথা টিপে দিচ্ছে। আমার খুবই খারাপ লাগলো, রাগ হলো। তাকে বললাম এটা আপনি কি করতেছেন? আমার সামনে এগুলো কি করতেছেন? আমি না হয় কিছু বলবো না, বুঝলাম আপনারা জামাই শ্বাশুড়ি মাহরাম। কিন্তু এটা দৃষ্টিকটু, এখন যদি হঠাৎ কেউ এসে (কেউ না কেউ আসতেই থাকে নতুন জামাই দেখার জন্য) আপনাদের এভাবে দেখে তারা কি মনে করবে? প্রতিউত্তরে সে বলে, কি হইছে? মায়ের সেবা করতে হয় এতে ভুল ভাবার কি আছে? আর কি কি যেন বললো মনে নাই। আর আমার মা ঘুমিয়ে আছে নাকি ভান ধরে আছে বুঝলাম না।

আরও কিছুদিন পর,
আগে পরে কি হইছে কিছু জানি না, দেখি সে বিছানায় গড়াগড়ি করতেছে। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কি হইছে খারাপ লাগতেছে নাকি? এমন করতেছেন কেন? সে বলে, জানো? ভালোবাসা কোনো বয়স মানে না, গায়ের রঙ মানে না, বিয়ে হইছে নাকি হয় নাই, বাচ্চা আছে নাকি নাই কিচ্ছু মানে না। আমার রক্তের শিরায় শিরায় তার জন্য ভালোবাসা ব্লা ব্লা ব্লা.....

যাইহোক এরপর থেকে এরকম অনেক অনেক ঘটনা ঘটে। ধীরে ধীরে অনেক কিছু বুঝতে পারি, দেখতে পাই, শুনতে পাই। সে আমার মাকে সওওওব বিষয়ে তো বলতোই এমনকি আমাদের পার্সোনাল বিষয়গুলোও বলতো।

বিয়ের পরে সে আমাকে বলেছে,
তোমার মায়ের সাথে আমার সারাদিন-সারারাত কথা হতো। মাদ্রাসায় থাকতাম তাই রাতে কথা বলার জন্য ছাদে যেতাম, ফজরের আযান হয়ে যেতো কথা চলতো। শুধু শারীরিক সম্পর্কটাই হয় নাই, এছাড়া এমন কোনো বিষয় নাই যেটা নিয়ে কথা বলি নাই। প্রায়ই দুজন পাশাপাশি বসে তার কাধেঁ মাথা রেখে গল্প করতাম। তুমি তো ঘুমায়া থাকতা জানতা না, তোমার মায়ের সাথে মাঝে মাঝেই রাতে বাসার গেটের সামনে দেখা করতাম। আমি তো তোমারে বিয়ে করতে চাই নাই, আমি তোমার মা-কে ভালোবাসি।
(যদিও তার মিথ্যা বলার স্বভাব আছে এবং এটাতে সে পটু আমি দেখেছি। কিন্তু এই বিষয়ে এ কথাগুলো কতটুকু সত্য বা মিথ্যা আল্লাহ ভালো জানেন।)

আমার দ্বারা যতটুকু সম্ভব হয়েছে মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করেছি, জোর দিয়ে কিছু বলেনি। এত খুটিয়ে খুটিয়ে ও জিজ্ঞেস করা যায় না, যতই হোক সে আমার মা। শুধু বলে- তোর মন ছোট, তোর মানসিকতা খারাপ। তুই আমার মেয়ে হয়ে ওই বেয়াদব ছেলের কথা বিশ্বাস করোস? তোর বাপ এত বছর বিদেশ আছে কোনোদিন কিছু দেখছস? শুনছস? কেউ কোনোদিন কোনো কথা বের করতে পারছে? আর তুই আমার মেয়ে হয়ে.....!!

অবশ্য বিয়ের আগে আমি নিজেও দেখেছি আমার মায়ের ফোনে সারাদিন একটু পর পর কল, মেসেজ আর অনেকক্ষন কথা বলে। নাম্বার ফেইক নামে সেভ করে রাখতো। যখন থেকে আমি একটু বুঝতে পারলাম ওই ছেলের সাথে, তখন মাকে বলেছিলাম নন-মাহরামের সাথে এত কথা বলা ঠিক না। এরপর থেকে বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকতো না। মানে কথা বলার জন্য বাইরে চলে যেতো আমি যেনো বুঝতে না পারি তাই। বাড়িতে আমি, আম্মু আর আমার ছোট বোন (3/4 বছর) থাকতাম। প্রায় প্রতি সপ্তাহেরই বেশিরভাগ দিন মা বাড়িতে থাকতো না। কই যায়, কি জন্য যায়,কখন আসবে কিচ্ছু আমাকে বলতো না।

আমাকে ফোন ধরতে দিতো না। লুকিয়ে লুকিয়ে আম্মুর ফোনে দেখেছি, তাদের দুজনের হাত ধরা ছবি, আমার আম্মুর কাধেঁ উনার হাত রাখা ছবি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতো সেসব জায়গায় তাদের ছবি। বিভিন্ন মেসেজ (যদিও সেগুলো ডিলিট করে দিতো, তাই আমি দেখতে পেতাম না, হঠাৎ কখনো ছাড়া।)

আমি এগুলো ভেবে নিজেকে বুঝ দিতাম যে, আমি বিয়েতে রাজি না। তাই আমার অগোচরে বিয়ে ঠিক করছে। যেন আমি সিনক্রিয়েট করতে না পারি। কারণ ততদিনে আমার ১৭+ বয়স হয়ে গিয়েছিলো। গ্রামে তো খুবই অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু আমি দ্বীনদার কাউকে আশা করছিলাম তাই সব বিয়েতে রাজি হতাম না। আর উনি ও ছিলেন হাফেয,আলেম। এজন্যই হয়তো আম্মু এমন করছে, ভালোর জন্যই...।

কৌতুহলবশত এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য,
যখন বিয়ের আড়াই অথবা তিন/সাড়ে তিন মাস চলে তখন আইওএম এর (ifatwa) ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করি। সেখানে বলা হয়েছিল, এই বিয়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। যেহেতু আগে বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানতাম না তাই আমার গুনাহ হয় নি কিন্তু এখন জানার পরে সংসার করতে থাকলে জিনা হবে, দ্রুত যেন আলাদা হয়ে যাই। এরপর আমি খুব ভেঙে পড়ি। অনেক কান্নাকাটি করি। কিন্তু আমার আম্মু বলে, আমি নাকি ভুলের মধ্যে আছি আরও অনেক কিছু। আর সে বলে, আমি তোমাকে মিথ্যা বলছিলাম। যা হইছে আগে হইছে তা খুবই স্বাভাবিক ভুলে যাও, এখন বিয়ে হইছে কিছু হবে না। আমারও আসলে এরপর কিছু ভাবার বা বলার মতো পরিস্থিতি ছিল না। নিজেকে বুঝ দিয়েছিলাম যে, আমি হয়তো একটু আধটু শুনেই আন্দাজে এরকম প্রশ্ন করে ফেলেছি তাই এই ফতোয়া এসেছে। নাহলে উনিও তো আলেম। সত্যিই এরকম হলে উনি আমাকে বিয়ে করতো না।

দুর্ভাগ্যবশত সেই প্রশ্ন এবং উত্তর সংবলিত ফতোয়াটি ডিলিট হয়ে গেছে যেটা আর পুনরুদ্ধার করতে পারিনি।

বেশকিছুদিন পর,
সে প্রায়ই আমার মায়ের প্রতি তার ভালোবাসার কথা বলতো। আমার যে কতটা কষ্ট হতো আল্লাহু আ'লাম। তো সেদিনও কথায় কথায় বলেছিলো, আমি তোমার মাকে বলছিলাম আপনার সাথে আমার এই রকম সম্পর্ক ওরে (আমাকে) বিয়ে করা ঠিক হবে না। তোমার মা বলছিলো বিয়ে হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তোমার মা তো আর মাসয়ালা জানে না।

একদিন আমি খুব কষ্টে বলেছিলাম,
তাহলে আমাকে বিয়ে করলেন কেন? যারে ভালোবাসেন তারেই বিয়ে করতেন। শুধু শুধু আমার জীবন নষ্ট করলেন কেন? সে প্রতিউত্তরে বলেছিলো, বিয়ে তো করতামই, মহিলা মানুষ, স্বামী বিদেশ থাকে। আর কিছু দিন বুঝায়া সুজায়া ঠিকই বিয়ে করতে পারতাম। যদি জানতাম তোরে বিয়ে করা লাগবে, তাহলে আগে তোর মায়ের সাথেও খে**ল**তা**ম।

এরপরও কয়েকমাস এভাবেই চলে,
আমার মনে সবসময় ঘুরঘুর করে সেই ফতোয়াটা, আমার দেখা বিভিন্ন ঘটনা, আর তার বলা সকল কথা।

শুরু থেকে এপর্যন্ত আমাদের দাম্পত্যজীবন খুবই বাজে যাচ্ছিলো। সে প্ল্যানিং করে অনেক কৌশলতা অবলম্বন করতো আমাকে এই সংসারে আটকে রাখার জন্য। যদিও আমি খুবই সর্তক ছিলাম সবসময়। তবুও এরইমধ্যে হঠাৎ করে কনসিভ করে ফেলি। সাধারণত ২৫-২৭ দিনের পিরিয়ড সার্কেল আমার। কখনো ২/৩ দিন আগেও হয়ে যায়। আর অভুলেশন তো হয় মাসের একদম পিক টাইম অর্থাৎ মাঝামাঝিতে। যখন দেখলাম ২৫-২৭ দিনেও পিরিয়ড হচ্ছে না। আমি একটু অপেক্ষা করি এরপর ৩০ তম দিনে দ্রুত প্রেগ্ন্যাসি টেস্ট করি এবং পজিটিভ দেখি। তাকে বলেছিলামও, ভেবেছিলাম তার মানসিকতা চেঞ্জ হতে পারে। কিন্তু সে হয়তো খুশি হয় নি, নিউজ শুনে গোমড়ামুখ করে অপরপাশ হয়ে শুয়ে ছিল। এরপর কয়েকবার ইস্তেখারা করেছি কখনোই মনে হয় নি আল্লাহ দিয়েছেন, আচ্ছা থাকুক যা হবার হবে। ভালো কিছুই মনে হয়নি। শুধু মনে হয়েছে বিয়েই তো বৈধ না, জেনার সংসারে এটা জারজ বাচ্চা। অন্য কারো সাথে আলোচনা করার সাহস পাইনি কারণ প্রথম থেকেই তারা মাসআলার বিষয়টি মানতে চায়নি, আমাকে সাপোর্ট করেনি। এখন তো আরও করবে না। এরপর সারাজীবন আমাকে এই জারজ বাচ্চা ও জেনার সংসারে থেকে যেতে হবে। মোট তিন দিন সময় নিয়ে (অর্থাৎ ৩৩/৩৪ তম দিনে) ইউটিউব ঘাটাঘাটি করে ফার্মেসী থেকে ঔষধ এনে খাই। এর কিছুক্ষন পর উনার সামনেই আমার ব্লিডিং শুরু হয়। উনি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা কিছুই করে না। কারণ উনি আমাকে প্রচুর মারতো, গত ১/২ দিন আগে আমার পেটে এমন আঘাত করেছে যে নাড়িভুড়ি বের হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। তাই হয়তো ঘাবড়ে গেছিলো এবং বাসা থেকে বের হয়ে বাইরে চলে যায়। আমি যে ঔষধ খেয়ে এমনটা করেছি কাউকে বলিনি, কেউ জানে না।

তার অত্যাচার দিন দিন বাড়তেই থাকে। একদিন খুবই শোচনীয় অবস্থায় এবং আল্লাহর ভয়ে এক প্রতিবেশী আলেমা আপার কাছে ঘটনাবলী খুলে বলার চেষ্টা করলাম (মিসক্যারেজের ব্যাপারটা ব্যাতিত) এবং সাহায্য চাইলাম। তিনি আমাকে আমাদের জেলার এক বড় মাদ্রাসার মুফতি সাহেবের থেকে ফোন কলের মাধ্যমে ফতোয়া নিয়ে জানালেন, এই বিয়ে আর বৈধ নেই। পর্দা করা ফরয হয়ে গেছে। এতদিন যা হইছে তার জন্য তাওবা করা। যত দ্রুত সম্ভব চলে যাওয়া এবং এই বিষয়টি কাউকে না বলে গোপন রাখা।

অনেক বার ইস্তেখারা করি, মনের অস্থিরতা শুধুই বেড়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং কখনোই পজিটিভ কিছু মনে হয় নি। এরপর সবার বিরুদ্ধে গিয়ে সত্যিই আমি ২০২২ সালে আলাদা হয়ে যাই আর কখনো তার সাথে থাকা হয় নি। এর কয়েক মাস অথবা এক বছর পর আমার ফোনে একটা কল আসে যে, পোস্ট অফিসে আমার নামে একটা চিঠি আসছে যেন রিসিভ করি। কিন্তু আমি তখন ঢাকাতে ছিলাম পড়াশোনার উদ্দেশ্যে। আর আম্মু একটা জরুরতে আমার নানার বাড়ি কুমিল্লায় ছিল। তাই তখন আমাদের স্থানীয় ডাকঘর থেকে সেটা রিসিভ করা হয়নি। মুলত গুরুত্বই দেয়া হয় নি। উনার বড় ভাইয়ের বউয়ের থেকে জানতে পেরেছিলাম সেটা নাকি ডিভোর্স লেটার ছিল।

(আফওয়ান, আরেকটু লেখা বাকি আছে যেটা ভেঙে আলাদা করে সাবমিট করেছি। যদি সেটাও দেখতেন মিন ফাদ্বলিক)

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، وعلى آله وأصحابه أجمعين

উত্তর:
আপনার দীর্ঘ ও বিস্তারিত বর্ণনার জন্য ধন্যবাদ। আপনার কষ্ট ও দুঃখ আমরা অনুধাবন করতে পারছি। আল্লাহ তাআলা আপনাকে терпение ও সাহায্য করুন। নিচে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো—

১. বিয়ের বৈধতা ও বর্তমান অবস্থা

আপনার মায়ের সাথে যেহেতু তার অবৈধ সম্পর্ক ছিলো, আপনাকে মাকে সে স্পর্শ করেছে, এবং তাদের একসাথে ফটোও রয়েছে। কাজেই তাদের মধ্যকার হুরমতের সম্পর্ক তৈরী হয়ে গেছে। সুতরাং আপনাদের বিয়ে বৈধ হয় নাই। এখনই আপনাদেরকে পৃথক হতে হবে।

২. গর্ভপাতের বিষয়

আপনি গর্ভধারণের পর (প্রায় ৩৩-৩৪ দিনে) ওষুধ সেবন করে গর্ভপাত ঘটিয়েছেন। হানাফি ফিকহ অনুসারে, গর্ভাবস্থার শুরুতেও (১২০ দিনের আগে) গর্ভপাত করা জায়েজ নয়। শুধুমাত্র প্রাণঘাতী চিকিৎসাগত প্রয়োজনে কোনো কোনো আলেম রুখসত দিয়েছেন, কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সুতরাং আপনি এই কাজের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিক তাওবা ও ইস্তিগফার করবেন। আল্লাহর রহমত অনেক বড়; তিনি তাওবা কবুল করেন।
(দ্রষ্টব্য: গর্ভপাতের কাফফারা সম্পর্কে হানাফি মতে—যদি ভ্রূণ ১২০ দিনের কম হয়, তবে কাফফারা ওয়াজিব নয়; তবে তাওবা ও অনেক বেশি দান-সদকা করা কর্তব্য। - ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৪৫১; রদ্দুল মুহতার: ৬/৪২৫)

৩. তাওবা ও ভবিষ্যৎ জীবন

আপনি ইতোমধ্যে যে কষ্ট সহ্য করেছেন, তার জন্য আল্লাহর কাছে প্রতিদান আশা করুন। অতীতের ভুলের জন্য আন্তরিক তাওবা করুন। গর্ভপাতের মাসআলায় বেশি করে ইস্তিগফার পড়ুন এবং গরিবদের সদকা দিন। আপনার ভবিষ্যৎ জীবন এখন সুন্দরভাবে শুরু করতে পারেন—এবার কোনো পাত্র বেছে নেওয়ার সময় নিজের পূর্ণ সম্মতি ও দ্বীনি মানদণ্ডকে প্রাধান্য দিন।

পরিশেষে

আপনার প্রশ্ন ও বর্ণনা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত। আপনি যেমন চেয়েছেন, আমরা আপনার নাম-পরিচয় গোপন রেখে উত্তর দিচ্ছি। আপনাকে আশ্বস্ত করছি—আপনার বিয়ে অবৈধ হওয়ার কারণে আপনি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। অতীতের গুনাহের জন্য তাওবা করুন এবং নতুন জীবন শুরু করুন। আল্লাহ তাআলা আপনার মনোবল দৃঢ় করুন, আপনার বোঝা হালকা করুন এবং উত্তম পথ দেখান।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.