রিসেলিং হারাম না হালাল?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3272
Questioner: Riya Afrin
Question Asked: 30 Jul 2026, 08:35 PM
Reviewed & Published: 30 Jul 2026, 08:42 PM
Views: 11
Tokens: 5,357
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একটা অনলাইন পেইজের হয়ে রেসেলিং করি। পণ্য ওনাদের কাছে থাকে ।যেমন একটা প্রোডাক্টের দাম ৩০ টাকা সেটা আমি ৩৫-৪৫ বা যতবেশি এক্সট্রা টাকা দিয়ে সেল করতে পারবো সেটা আমার ।আবার কিছু প্রোডাক্ট ওনারা কমিশন দেন।আমি শুধু অর্ডার নিয়ে ওনাদের দেই , বাকি সব কাজ যেমন প্রোডাক্ট প্যাকেজিং , ডেলিভারি ওনারা করার। আমার কিছু করতে হয় না, শুধু অর্ডার নিতে হয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছিলাম এই কাজ করা কি হারাম?

Answer

উত্তর: রিসেলিং (Reselling) করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে আপনি মূলত দুটি ভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের কথা বলেছেন। প্রথমটি: আপনি একটি পণ্য নির্দিষ্ট দামে (যেমন ৩০ টাকা) কিনে সেটি নিজের পছন্দমতো দামে (৩৫-৪৫ টাকা) বিক্রি করেন এবং লাভ আপনার থাকে। দ্বিতীয়টি: আপনি শুধু অর্ডার সংগ্রহ করে দেন এবং বিনিময়ে কমিশন পান, পণ্যের প্যাকেজিং ও ডেলিভারির দায়িত্ব মূল বিক্রেতার।

হানাফি ফিকহের আলোকে এই দুটি পদ্ধতির শরয়ী বিধান নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:


১. প্রথম পদ্ধতি: পণ্য ক্রয় করে নিজ দামে বিক্রি (Reselling)

শর্ত:

  • আপনাকে প্রথমে পণ্যটির মালিকানা ও দখল (কবজ) অর্জন করতে হবে।
  • পণ্যটি আপনার কাছে না নিয়ে (শুধু অন্যের কাছে রেখে) তা বিক্রি করা জায়েয নেই। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তুমি যা নিজের কাছে নেই, তা বিক্রি করো না।" (আবু দাউদ, তিরমিযি)

আপনার বর্ণনায়:

"পণ্য ওনাদের কাছে থাকে... প্রোডাক্ট প্যাকেজিং, ডেলিভারি ওনারা করে। আমার কিছু করতে হয় না।"

এর মানে আপনি পণ্যের ভৌত বা আইনী দখল নিচ্ছেন না। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, পণ্য হস্তগত না করে (কবজ না নিয়ে) বিক্রি করলে তা ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) বা বাতিল হতে পারে।

ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন:

"বিক্রেতার জন্য ক্রয়কৃত পণ্য হস্তগত করার আগে তা বিক্রি করা জায়েয নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/১৬৪)

সমাধান:

  • আপনি যদি পণ্যটি প্রথমে ক্রয় করে নিজের মালিকানায় নেন (যদিও তা তাদের গুদামে থাকে, কিন্তু আপনার ঝুঁকিতে থাকে) এবং ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন, তাহলে তা জায়েয হবে। তবে এক্ষেত্রে পণ্যের দখল (কবজ) হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
  • যদি পণ্য ড্রপশিপিং (Dropshipping) পদ্ধতিতে সরাসরি সরবরাহকারী থেকে ক্রেতার কাছে যায়, তাহলে তা হানাফি মতে সমস্যাযুক্ত। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৫)

উপসংহার:
প্রথম পদ্ধতিতে (নিজ দাম নির্ধারণ করে বিক্রি) পণ্যের দখল গ্রহণ না করলে তা বৈধ হবে না। তবে আপনি যদি পণ্যটি ক্রয় করে নেন (দাম পরিশোধ করেন এবং পণ্যের ঝুঁকি আপনার ওপর আসে) এবং আপনার দখলে আসে তাহলে তা বৈধ।


২. দ্বিতীয় পদ্ধতি: অর্ডার সংগ্রহ করে কমিশন নেওয়া (Commission/Brokerage)

শর্ত:

  • আপনি শুধু দালাল (Broker) বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
  • আপনার কাজ হলো ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা।
  • পণ্যের মালিকানা ও ডেলিভারির দায়িত্ব মূল বিক্রেতার।

বিধান:
হানাফি ফিকহে দালালি বা কমিশন ভিত্তিক ব্যবসা জায়েয এবং উৎসাহিত করা হয়েছে। একে সিমসারাহ (سمسرة) বা জুআলাহ (جعالة) বলে।

ইমাম কাসানী (রহ.) বলেন:

"দালালি করা জায়েয, আর এতে প্রাপ্ত মজুরি হালাল।" (বাদায়েউস সানায়ে, ৫/২৪৩)

আপনার বর্ণনানুযায়ী:

"আমি শুধু অর্ডার নিয়ে ওনাদের দেই... বাকি সব কাজ (প্যাকেজিং, ডেলিভারি) ওনারা করে। আমার কিছু করতে হয় না।"

এটি খাঁটি কমিশন ভিত্তিক ব্যবসা। তাই এটি জায়েয ও হালাল। তবে শর্ত হলো:

  • কমিশনের পরিমাণ নির্দিষ্ট ও জানা থাকতে হবে।
  • পণ্যের মান ও শর্ত সম্পর্কে ক্রেতার কাছে সত্য তথ্য দিতে হবে।
  • প্রতারণা বা ধোঁকা দেওয়া যাবে না।


সারসংক্ষেপ

| পদ্ধতি | বিধান | শর্ত | |--------|--------|------| | নিজ দামে বিক্রি (Reselling) | জায়েয যদি পণ্যের দখল (কবজ) ও মালিকানা গ্রহণ করেন | পণ্য নিজ হস্তগত করুন; ড্রপশিপিং এড়িয়ে চলুন | | কমিশন ভিত্তিক (Commission) | হালাল ও জায়েয | কমিশন স্পষ্ট করুন; প্রতারণা করবেন না |

ফাতাওয়া উসমানী (২/৪২৫) এবং ইমদাদুল ফাতাওয়া (৩/২৮৭)-এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অর্ডার নেওয়া এবং কমিশন গ্রহণ করা জায়েয

আপনার কাজ যদি শুধু অর্ডার নেওয়া হয় এবং এতে কোনো ধরনের এমন শর্ত না থাকে যা শরিয়ত বিরোধী (যেমন: সুদ, জুয়া, প্রতারণা), তাহলে তা হালাল

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.