ব্যাংক লোন নিয়ে কেনা মোটরসাইকেল ব্যবহারের বিধান?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
সুদী ঋণের মাধ্যমে কেনা মোটরসাইকেল ব্যবহারের বিধান
প্রশ্নের উত্তর
আপনি ব্যাংক থেকে সুদী ঋণ নিয়ে মোটরসাইকেল কিনেছেন এবং এখন ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এই মোটরসাইকেল ব্যবহার করা আপনার জন্য বৈধ, তবে এর সাথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত।
মূলনীতি
হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, সুদী লেনদেন করা সম্পূর্ণ হারাম ও কবীরা গুনাহ। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
তবে সুদী ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আপনি যে মোটরসাইকেলটি কিনেছেন, সেটির মালিকানা আপনার কাছে চলে এসেছে। কারণ:
হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) এবং ফাতাওয়া আলমগীরী অনুযায়ী:
-
সুদ গ্রহীতা যদি আসল পণ্য (মোটরসাইকেল) ভোগদখল করে নেয়, তাহলে তার জন্য তা ব্যবহার করা জায়েয, তবে তিনি সুদী লেনদেনের পাপের জন্য তওবা করবেন।
-
মূল সম্পদ (যা ঋণের মাধ্যমে কেনা হয়েছে) তার মালিকানা থেকে যায় এবং তা ব্যবহার করা যায়। সুদের পাপ আলাদা, আর সম্পদের ব্যবহার আলাদা।
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:
যদি কেউ হারাম উপায়ে কোন বস্তু অর্জন করে, তবে সে বস্তুটি তার মালিকানাধীন থাকে এবং সে তা ব্যবহার করতে পারে, তবে তাকে উক্ত পাপের জন্য তওবা করতে হবে। (রাদ্দুল মুহতার, ৪/৩৪৭)
আপনার করণীয়
আপনার জন্য করণীয় হলো:
১. তওবা করা: সুদী ঋণ গ্রহণের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করুন। তওবার শর্ত:
- সুদী লেনদেনের কাজ সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দেওয়া
- ভবিষ্যতে কখনো সুদী লেনদেন না করার দৃঢ় সংকল্প করা
- অতীতের কাজের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
২. মোটরসাইকেল ব্যবহার করা: তওবা করার পর আপনি এই মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। এটি বিক্রি করে দেওয়া জরুরি নয়।
৩. সদকা করা: উত্তম হলে, সুদী লেনদেনের কারণে যে অতিরিক্ত অর্থ আপনি দিয়েছেন (সুদের পরিমাণ), তার সমতুল্য অর্থ সওয়াবের নিয়তে সদকা করে দেওয়া। তবে এটি ফরজ নয়, বরং মুস্তাহাব।
ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) এবং ফাতাওয়া উসমানী (মুফতী তাকী উসমানী) থেকেও একই মত পাওয়া যায়।
উপসংহার
আপনি তওবা করে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি বিক্রি করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সুদী লেনদেন থেকে বিরত থাকা অত্যাবশ্যক। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুদী লেনদেনের মতো কবীরা গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
সূত্র:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৪/৩৪৭
- ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/১৮৪
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী), ৪/৩২
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতী তাকী উসমানী), ২/৪৫৬
- সূরা আল-বাকারা: ২৭৫-২৭৯