বিবাহের পূর্বে ছেলের সাথে কথা বলা জায়েজ কিনা??
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার বিবাহ ঠিক হওয়ার পর থেকে কয়েক বার পাএের সাথে কথা হয়েছে কলে। মোহর,বিয়ের কেনাকাটা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। কখনো সবার সামনেই কলে কথা হয়েছে আবার কখনো এমন হয়েছে যে কলে কথা বলার সময় আমি একা ছিলাম। সাথে কেউ ছিল না।
এতে কি আমি গুনাহগার হয়েছি?? শরীয়তে এভাবে কথা বলা জায়েজ কিনা?? আমার আব্বু-আম্মুই ফোন এনে দেয় কথা বলার জন্য। এ অবস্হায় আমি কিভাবে তাদের বোঝাব যে বিবাহের পূর্বে কথা বলা জায়েজ নয়??
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, ইসলামী শরী‘আতে বিবাহের পূর্বে (নিকাহ পড়ার আগে) কোনো পুরুষ ও মহিলার মধ্যে সরাসরি বা ফোনে কথোপকথন, বিশেষত যখন তারা একাকী থাকেন (মাহরাম ব্যক্তি উপস্থিত না থাকা), তা জায়েয নয়। কারণ ইসলাম অ-মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে অবাধ মেলামেশা ও নির্জনে সাক্ষাৎ (খালওয়াত) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا” (সূরা বনী ইসরাঈল : ৩২)
“আর ব্যভিচারের নিকটেও যেও না; নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্টতর পথ।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“لا يخلون رجل بامرأة إلا كان الشيطان ثالثهما” (سنن الترمذي, হাদীস: ২১৬৫)
“কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে নির্জনে না মিলিত হয়; কারণ তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।”
বিবাহের পূর্বে কোনো পাত্র-পাত্রীর মধ্যে কথাবার্তা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় বিষয়ে এবং শালীনতা বজায় রেখে, কোনো মাহরাম বা নিকটাত্মীয়ের উপস্থিতিতে সীমিত পরিমাণে অনুমোদিত হতে পারে। কিন্তু তা একান্তই প্রয়োজনের তাগিদে এবং ফিতনা (কুপ্রবৃত্তি) সৃষ্টির আশংকা না থাকলে। আপনি যেমন মোহর ও বিয়ের কেনাকাটার বিষয়ে সবার সামনে বা পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কথা বলেছেন, সেটি জায়েয ছিল। কিন্তু একান্তে (প্রাইভেট) কথা বলা—এমনকি ফোনে হলেও—তা নিষিদ্ধ, কারণ তা খালওয়াতের পর্যায়ভুক্ত।
আপনার কর্তব্য ছিল বাবা মাকে বোঝানো যে এটি শরী‘আতসম্মত নয়। এখন আপনি বুঝতে পারছেন, তাই আপনাকে তওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
হানাফী ফিকহের কিতাবাদিতে স্পষ্ট বিধান এসেছে:
-
“রদ্দুল মুহতার” (كتاب النكاح, باب المحرمات) এ উল্লেখ আছে: কোনো পুরুষের জন্য অ-মাহরাম নারীর সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ বা কথাবার্তা বলা জায়েয নয়, যদিও তা ফোনের মাধ্যমেই হোক।
-
“ইমদাদুল ফাতাওয়া” (২/২৫০) তে বলা হয়েছে: “বিবাহের চুক্তি হওয়ার পরও যতক্ষণ নিকাহ না পড়ে, ততক্ষণ উভয়ের জন্য মাহরাম ব্যতীত কথা বলা বা দেখা জায়েয নয়।”
-
“ফাতাওয়া উসমানী” (২/৪৩৬) তে এসেছে: “প্রয়োজনীয় কথাবার্তা যদি বিনা কুমন্ত্রণায় হয়, তবে তা মাহরামের উপস্থিতিতে সীমিত করা যেতে পারে, কিন্তু একাকী কথোপকথন জায়েয নয়।”
আপনার করণীয়:
১. আপনি আপনার বাবা-মাকে ইসলামী শরী‘আতের এই বিধানটি বিনম্রভাবে বোঝানোর চেষ্টা করুন। বলুন যে, আল্লাহ ও রাসূল ﷺ অ-মাহরাম নারী-পুরুষের নির্জনে মেলামেশা নিষিদ্ধ করেছেন, আর বিয়ের পূর্বে ফোনে একাকী কথা বলাও সেই পর্যায়ের। আপনি তাদেরকে কোনো বিখ্যাত আলেমের ফতোয়া বা হাদীসের কিতাব দেখাতে পারেন অথবা একজন আলেমের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বোঝাতে পারেন।
২. যদি বাবা-মা জোর করেন, তাহলে আপনি বিনয়ের সাথে বলেন যে, ইসলামী বিধান মানা আমার ঈমানের অংশ; আমি চাই এই সম্পর্কটি বরকতময় হোক এবং আল্লাহর নাফরমানি থেকে বাঁচতে চাই।
৩. বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনি যতবার একাকী কথা বলেছেন, ততবারের জন্য তওবা করুন (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন) এবং পুনরায় এরূপ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন।
والله أعلم بالصواب