রোজার কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
কাফফারার পদ্ধতি ও হুকুম (হানাফি মাযহাব)
প্রশ্ন: রমজানের ৩টি ভিন্ন রোজা (বিভিন্ন বছর) ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কীভাবে কাফফারা দিতে হবে?
উত্তর
হানাফি মাযহাবের বিধান অনুসারে, রমজানের কোনো ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করলে দুটি বিষয় আবশ্যক হয়:
- ক্বাযা (قضاء) – ভাঙা রোজার পরিবর্তে আরেকটি রোজা রাখা (রমজানের পর যেকোনো দিন)।
- কাফফারা (كفارة) – বিশেষ প্রায়শ্চিত্ত।
কাফফারা তিন প্রকার, যেকোনো একটি কুরআনে বর্ণিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আদায় করতে হবে:
| ক্রম | কাফফারার ধরন | বিস্তারিত | |------|--------------|-----------| | ১ | একজন দাস/দাসী মুক্ত করা | বর্তমানে প্রযোজ্য নয়। |
| ২ | ৬০ দিন একটানা রোজা | একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। মাঝে কোনো দিন ছুটে গেলে পুনরায় শুরু করতে হবে। | | ২ | ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ানো | প্রতিদিন দুই বেলা পেট ভরে খাওয়ানো অথবা একজন মিসকিনকে ১ সা’ (প্রায় ২.৫ কেজি) গম বা তার সমমূল্যের খাদ্য দান করা। |
হানাফি ফকিহগণ বলেন: শারীরিকভাবে অক্ষম না হলে প্রথম পদ্ধতি (৬০ দিন রোজা) পালন করাই উত্তম। দুর্বল বা অসুস্থ ব্যক্তি দ্বিতীয় পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন।
৩টি ভিন্ন রমজানের ৩টি রোজা ভাঙার ক্ষেত্রে কাফফারার সংখ্যা
** রোযা রেখে দুইভাবে ভঙ্গ করা হয়। (১) খাবার দাবারের মাধ্যমে (৩) সহবাসের মাধ্যমে রোযা ভঙ্গ করার কারণ বা মাধ্যম একই প্রকারের হলে উক্ত রোযা গুলির জন্য একটি কাফফারা আসবে। কারণ ভিন্ন হলে একাধিক কাফফারা আসবে। সুতরাং যেই সব রোযাকে খাবার দাবারের মাধ্যমে ভঙ্গ করা হয়েছে, ঐ সব রোযার জন্য একটি কাফফারা আসবে। এবং যেই সব রোযাকে সহবাসের মাধ্যমে ভঙ্গ করা হয়েছে, সেগুলির জন্য একটি কাফফারা আসবে।
ক্বাযা রোজা: ৩টি ভিন্ন রমজানের ৩টি রোজার পরিবর্তে আরও ৩টি ফরজ রোজা রাখতে হবে (যেকোনো সময়ে)।
পদ্ধতি
- প্রথমে ৩টি ভাঙা রোজার ক্বাযা আদায় করুন (রমজানের বাইরে অন্য দিনে)।
- তারপর প্রথম কাফফারা শুরু করুন – একটানা ৬০টি রোজা রাখুন। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রোজা ভাঙবেন না। যদি কোনো কারণে (যেমন- অসুস্থতা, ভুলে) রোজা ভেঙে যায়, তাহলে নতুন করে শুরু করতে হবে।
অথবা অক্ষমতার দরুণ রোযার পরিবর্তে ৬০ জন করে মিসকিনকে খাওয়াতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
- একটানা রোজা রাখার সময় শুধু ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা নিষিদ্ধ। শরিয়ত অনুমোদিত কারণে (যেমন- অসুস্থতা, সফর, হায়েজ-নেফাস) রোজা ছুটে গেলে তা পরবর্তীতে পূরণ করলে কাফফারার ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে না। তবে অতিরিক্ত দিন পূরণ করতে হবে।
- যদি ব্যক্তি অপরিণত বয়সে বা বাধ্য হয়ে রোজা ভেঙে থাকে, তবে কাফফারা নেই, শুধু ক্বাযা আছে।
- কাফফারা দেওয়ার নিয়ত করতে হবে: "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা এই রমজানের ফরজ রোজার কাফফারা স্বরূপ ৬০টি একটানা রোজা রাখার নিয়ত করছি।"
দলিল (হানাফি কিতাব থেকে)
-
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন): "ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের রোজা ভাঙলে ক্বাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব। কাফফারা হলো ৬০ দিন একটানা রোজা অথবা ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ানো।" (২/৪০৭)
-
আল-হিদায়া: "কাফফারা শুধু ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙার জন্যই নির্ধারিত, ভুলে বা বাধ্য হয়ে ভাঙলে নয়।" (১/১২৭)
সহিহ নিয়ত ও তওবা
যেহেতু ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙা কবিরা গুনাহ, তাই কাফফারা ও ক্বাযার পাশাপাশি আন্তরিক তওবা করাও জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَى التَّائِبِينَ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের তওবা কবুল করেন।" (সূরা তওবা: ১০৪)
উপরোক্ত আমল করলে ইনশাআল্লাহ গুনাহ মাফ হবে এবং কর্তব্য আদায় হবে।
আরও জানতে:
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানি)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী)
- বাহিশ্তি জেওর (মুফতি শফি উসমানি)
প্রার্থনা: আল্লাহ তাআলা আমাদের নেক আমল কবুল করুন এবং গুনাহ মাফ করুন। আমিন।