বিয়ের আগে পাত্রীর ছবি দেওয়া কি জায়েজ?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার বিয়ের জন্য পাত্রের মা এসে সরাসরি দেখে যাওয়ার পরো পাত্র ছবি দেখতে চাইলে ছবি দেয়া জায়েয হবে? পাত্র দ্বীনদার হয়েও ছবি দেখতে চাওয়া কি ঠিক?
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নের সারমর্ম: বিয়ের জন্য পাত্রের মা সরাসরি পাত্রী দেখার পর পাত্র (যিনি দ্বীনদার) পাত্রীর ছবি দেখতে চাইলে তা দেওয়া কি জায়েজ? এবং পাত্রের এই চাওয়া কি সঠিক?
মূল কথা: ইসলামে জীবন্ত প্রাণীর ছবি তোলা, রাখা এবং দেখা সাধারণত নিষিদ্ধ (হারাম)। তবে প্রয়োজনের তাগিদে (যেমন: পাসপোর্ট, আইডি কার্ড, প্রয়োজনীয় পরিচয়) কিছু হানাফি আলিম ছবির অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি দেখা সম্ভব হলে ছবি দেখা জরুরি নয়। পাত্রীর মা পাত্রীকে দেখার পর পাত্রের ছবি চাওয়া অপ্রয়োজনীয় এবং শরিয়তসম্মত নয়।
হানাফি ফিকহের দলিল
১. ছবি (তাসবির) নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ:
- কুরআন: সূরা আল-আ‘রাফ ৭:১৮০, সূরা আল-হিজর ১৫:৫২-৫৪ (মূর্তি পূজার প্রসঙ্গে)।
- হাদিস:
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “যারা ছবি তৈরি করে, কিয়ামতের দিন তাদের সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৫০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১০৯)
- “ফেরেশতা সেই ঘরে প্রবেশ করেন না যেখানে ছবি থাকে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১১২)
২. হানাফি ফিকহের গ্রন্থের বক্তব্য:
- রদ্দুল মুহতার (৬/৩৭৩): লেনদেন বা প্রয়োজনে ছবি অনুমোদিত নয়; শুধু প্রাণহীন বস্তুর ছবি জায়েজ।
- ফাতাওয়া উসমানি (২/১৯৮): ছবি তোলা হারাম; তবে প্রয়োজনে (যেমন: পরিচয়পত্র) জায়েজ বলে মত আছে, কিন্তু তা উত্তম নয়।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/৪৭২): বিয়ের প্রস্তাবে সরাসরি দেখা সম্ভব হলে ছবি দেখা জায়েজ নয়।
- বেহেশতী জেওর (ছবি সংক্রান্ত অধ্যায়): জীবন্ত প্রাণীর ছবি ঘরে রাখা বা দেখা গুনাহ।
৩. পাত্রী দেখার শরিয়তসম্মত পদ্ধতি:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “তোমাদের কেউ কোনো নারীর বিয়ে করার ইচ্ছা করলে সে যেন তার দিকে তাকায়।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৭; ইবনে মাজা, হাদিস: ১৮৬৫)
- হানাফি ফিকহ অনুসারে, পাত্র পাত্রীর চেহারা ও হাত দেখতে পারে (শরহু মা‘আনিল আসার, ৩/২৮০) সরাসরি, পর্দার আড়ালে বা মাহরামের উপস্থিতিতে। ছবি দেখার এখতিয়ার নেই।
৪. ছবি না দিয়ে সরাসরি দেখার সুযোগ:
পাত্রের মা পাত্রী দেখেছেন, কিন্তু পাত্র নিজে দেখেননি। তাই পাত্র চাইলে সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে (যেমন: পাত্রীকে মাহরামের সাথে বসিয়ে, পাত্র মাহরামের উপস্থিতিতে দেখতে পারে)। ছবি দেওয়া বা নেওয়া উভয়ই গুনাহের কাজ।
পাত্রের দ্বীনদারি ও ছবি চাওয়া
পাত্র যদি দ্বীনদার হয়, তাহলে তার উচিত শরিয়তের সীমা মেনে চলা। ছবি চাওয়া তার দ্বীনদারির পরিপন্থী। বরং তাকে বোঝানো উচিত যে, সরাসরি দেখা সম্ভব হলে ছবি দেখা জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “দ্বীনদার ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২)
শেষ সিদ্ধান্ত
- পাত্রীকে সরাসরি দেখার পর পাত্রের জন্য ছবি চাওয়া বা নেওয়া জায়েজ নয়।
- পাত্রের মা পাত্রী দেখেছেন, তাই পাত্র নিজেও সরাসরি দেখতে পারেন (ইসলামের নিয়ম মেনে)। ছবির প্রয়োজন নেই।
- পাত্র যদি দ্বীনদার হয়, তাহলে তার উচিত ছবি চাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সরাসরি দেখা পছন্দ করা।
পরামর্শ: পাত্রীকে ছবি না দিয়ে পাত্রকে সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করুন। যদি পাত্র সরাসরি দেখতে না চায়, তবে তার দ্বীনদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ছবি দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই গুনাহ, বিশেষত যখন বিকল্প সম্ভব।
والله أعلم بالصواب