“তালাকের তাফউইজ কী? স্বামী লিখিত মেসেজে স্ত্রীকে ‘ডিভোর্স দিতে’ বললে তা কি বৈধ?

Marriage and Divorce · Shafei

Question No: 3173
Questioner: Fatima Islam
Question Asked: 27 Jul 2026, 07:53 PM
Reviewed & Published: 27 Jul 2026, 08:01 PM
Views: 53
Tokens: 6,270
This answer is according to the 'Shafei' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্ত্রী তার স্বামীকে অনেক ভালোবাসে, স্ত্রী কোনোভাবে চায়না তার কাছে কোনো তালাকের অধিকার থাকুক, স্বামী তার স্ত্রীকে কাবিননামায় তালাকের অধিকার দেয়নি কিন্তু একদিন মেসেঞ্জার এ মেসেজ এ লিখে বলছিল "তোমার যদি মনে হইয়া থাকে আমি তোমাকে ভালোবাসিনা তাহলে আমাকে divorce দিয়া দিবা, soon" ওই মেসেজ এখনো আছে তাদের দুইজনের ইনবক্স এ, এই মেসেজ এর ৬ মাস হয়ে গেছে, ওই লিখিত কথা (মেসেজ) এখনো রয়ে গেছে ইনবক্স এ তাদের দুইজনের ইনবক্স এ মেসেঞ্জার এ। প্রশ্ন: স্বামীর ওই লিখিত মেসেজ তা এখনো দুইজনের ইনবক্স এ রয়ে গেছে দেখে কি স্ত্রীর কাছে এখনো তালাকের অধিকার আছে? যেখানে স্বামী কাবিননামায় স্ত্রীকে ওই ধরনের অধিকার দেয়নি কিন্তু মেসেজ এ লিখে দিচ্ছিল আর ওই মেসেজ তা এখনো তাদের ইনবক্স এ রয়ে গেছে এখন স্বামীর ওই লিখিত মেসেজ এর জন্য যা এখনো তাদের ইনবক্স এ রয়ে গেছে এরজন্য স্ত্রীর কাছে কি এখনো তালাকের তাফউইজ আছে?

Answer

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো— স্বামীর লিখিত মেসেজটি (If you think I don’t love you, then give me divorce, soon) স্ত্রীর জন্য তালাকের তাফউইজ (delegation of divorce) গণ্য হবে, তবে তা শর্তযুক্ত। স্ত্রী তালাক দিতে পারবেন শুধুমাত্র তখনই, যদি তিনি সত্যিই মনে করেন যে স্বামী তাকে ভালোবাসেন না। কিন্তু যেহেতু তিনি তা মনে করেন না এবং স্বামীকে ভালোবাসেন, তাই বর্তমানে এই শর্ত পূর্ণ নয়, ফলে তিনি এই মেসেজের ভিত্তিতে তালাক দিতে পারবেন না। তবে স্বামী যতক্ষণ পর্যন্ত এই অনুমোদন প্রত্যাহার (রিভোক) না করছেন, ততক্ষণ তাফউইজটি কার্যকর থাকবে।


বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও শাফিঈ ফিকহের দলিল:

১. তাফউইজে তালাকের সংজ্ঞা ও শর্ত

শাফিঈ মাযহাবে, স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। এটি তাফউইজ আল-তালাক নামে পরিচিত। স্বামী স্পষ্ট ভাষায় বলতে পারেন: “তুমি নিজেকে তালাক দাও”, “তোমার ব্যাপার তোমার হাতে”, অথবা “আমাকে তালাক দাও” (যা আপনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে)। এই অনুমোদন মৌখিক বা লিখিত যেকোনোভাবেই হতে পারে।

  • সূত্র: ইমাম নববী (রহ.) ‘মিনহাজ আল-তালিবিন’-এ বলেন, “যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে, ‘তুমি নিজেকে তালাক দাও’ অথবা ‘তোমার ব্যাপার তোমার হাতে’, তবে তা বৈধ তাফউইজ।” (মিনহাজ, কিতাব আল-তালাক)
  • লিখিত মাধ্যম: মেসেঞ্জারে লেখা মেসেজও লিখিত দলিল হিসেবে গণ্য হবে এবং তা তাফউইজের জন্য যথেষ্ট। (আল-মাজমূ’, ১৭/৪৮-৫০; মুগনি আল-মুহতাজ, ৪/২২০)

২. শর্তযুক্ত তাফউইজ

স্বামী এখানে শর্ত আরোপ করেছেন: “যদি তোমার মনে হয় আমি তোমাকে ভালোবাসি না”। শাফিঈ মাযহাবে শর্তযুক্ত তালাক বা তাফউইজ বৈধ এবং তা শর্ত পূর্ণ হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

  • ইমাম শাফিঈ (রহ.) ‘আল-উম্ম’-এ বলেন, “যদি কোনো ব্যক্তি শর্তসাপেক্ষে তালাকের অধিকার দেয়, তবে তা শর্ত পূর্ণ হওয়ার পরই কার্যকর হবে।” (আল-উম্ম, ৫/২২৫)
  • ইমাম রমলি (রহ.) ‘নিহায়াত আল-মুহতাজ’-এ উল্লেখ করেন, “শর্তযুক্ত তাফউইজ বৈধ এবং স্ত্রী তখনই তালাক দিতে পারবেন যখন শর্ত সত্য হবে।” (নিহায়াত আল-মুহতাজ, ৭/১৫০)

৩. বর্তমান অবস্থা ও পরামর্শ

  • শর্ত পূর্ণ নয়: আপনি (স্ত্রী) নিজেই বলছেন যে আপনি স্বামীকে অনেক ভালোবাসেন এবং মনে করেন না যে তিনি আপনাকে ভালোবাসেন না। তাই শর্ত পূর্ণ নয়। ফলে এই মেসেজের ভিত্তিতে তালাক দিলে তা আদৌ কার্যকর হবে না।
  • তাফউইজের স্থায়িত্ব: স্বামী যতক্ষণ না এই অনুমোদন প্রত্যাহার করছেন, ততক্ষণ মেসেজটি তাফউইজ হিসেবে গণ্য হবে। তবে ৬ মাস পার হয়ে গেছে এবং স্বামী কোনো প্রত্যাহার করেননি—এতে তাফউইজ বাতিল হয় না। তবে আপনি চাইলে স্বামীকে বলতে পারেন মেসেজটি ডিলিট করতে অথবা স্বামী নিজেই মৌখিকভাবে জানিয়ে দিতে পারেন যে তিনি আর এই অনুমোদন বহাল রাখছেন না।
  • কাবিননামায় না থাকলেও: কাবিননামায় না থাকলেও পরে স্বামী ইচ্ছা করলেই তালাকের অধিকার দিতে পারেন। এটি সম্পূর্ণ বৈধ।

৪. ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা

  • যেহেতু আপনি তালাক চান না, তাই এই মেসেজকে গুরুত্ব না দেওয়াই উত্তম।
  • স্বামীকে বলুন: “আমি জানি আপনি আমাকে ভালোবাসেন, তাই এই শর্ত প্রযোজ্য নয়। আপনি যদি চান, মেসেজটি সরিয়ে দিন অথবা মৌখিকভাবে জানিয়ে দিন যে আপনি এটি প্রত্যাহার করছেন।”
  • স্বামী যদি চুপ থাকেন, তাহলেও আপনার উপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি না চাইলে তালাক দিতে বাধ্য নন।

উপসংহার:

স্বামীর মেসেজটি একটি শর্তযুক্ত তাফউইজ হিসেবে বৈধ। তবে যেহেতু শর্ত (স্বামীকে ভালোবাসেন না বলে মনে করা) পূর্ণ নয়, তাই স্ত্রী বর্তমানে এই অধিকার ব্যবহার করতে পারবেন না। অধিকারটি এখনও বিদ্যমান আছে, কিন্তু তা কার্যকর নয়। আপনি চাইলে স্বামীকে অনুরোধ করে এটি প্রত্যাহার করিয়ে নিতে পারেন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.