ফিকহের আলোকে কুরআনের আয়াত দিয়ে ঝাড়-ফুঁকের বিধান।
Halal and Haram · Hanafi
Question
একটা বিশেষ আমল এর কথা আমাকে একজন বলেছিলেন।সুরা তাহা এর ৩৯ নং আয়াতের একটা অংশ পড়ে কাউকে ফু দিলে বা তার কথা মনে করে পড়লে তিনি মানে তার মন যে পড়বে তার জন্য নরম হবে এমন কিছু।
আচ্ছা এটা কি কুফরি হয়ে যায়?
Answer
উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
প্রশ্নে উল্লেখিত আমলটি হলো সূরা ত্বাহা-এর ৩৯ নম্বর আয়াতের কিছু অংশ পড়ে কাউকে ফুঁ দেওয়া বা তার কথা স্মরণ করে পড়া, যাতে তার মন নরম হয়। এই আমলটি সম্পর্কে আপনার উদ্বেগের বিষয় হলো— এটি কি কুফরি হয়ে যায়?
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের আয়াত দ্বারা ঝাড়-ফুঁক (রুকইয়াহ) করা জায়েয, যদি তা শিরকি বিশ্বাস বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ উপাদানমুক্ত হয়। হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, কুরআনের আয়াত বা সহীহ দুআ দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ এবং এতে কোনো কুফরি নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) রেখে এবং কুরআনকে শুধুমাত্র শিফা ও রহমতের মাধ্যম হিসেবে বিশ্বাস করে করা হয়।
তবে, এই বিশেষ আমলটি সম্পর্কে হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ যেমন— রাদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, বাহিশতী জেওয়ার ইত্যাদিতে সরাসরি কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এ ধরনের আমল যদি কোনো বুজুর্গ বা আলেম থেকে বর্ণিত হয় এবং তাতে কুরআনের আয়াত ব্যবহার করা হয়, তবে তা সাধারণত জায়েয বলে গণ্য হবে। কিন্তু এটি কুফরি হবে যদি কেউ বিশ্বাস করে যে, আয়াতটি নিজে নিজেই কাজ করে (স্বাধীনভাবে) অথবা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়াই কার্যকর হয়। অথবা যদি আয়াতের মাধ্যমে ফুঁ-দানাকে কোনো প্রকার জাদু বা শিরকের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়।
মূলনীতি:
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"وَ نُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّ رَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ"
"আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৮২)
সুতরাং, কুরআনের আয়াত দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা জায়েয, তবে শর্ত হলো:
- এটি আল্লাহর ইচ্ছাধীন ফলপ্রসূ হয় বলে বিশ্বাস করতে হবে।
- আয়াত বা দুআকে কোনো জাদু বা তাবিজের মতো মনে করা যাবে না।
- শরীয়তবিরোধী কোনো কাজ যুক্ত করা যাবে না।
আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:
আপনি যে আমলের কথা বলেছেন, যদি তা শুধুমাত্র কুরআনের আয়াত পড়ে ফুঁ-দেয়া হয় এবং তাতে তাওয়াক্কুল আল্লাহর ওপর হয়, তবে এটি কুফরি নয়। তবে যদি এটি করার সময় এ বিশ্বাস থাকে যে, আয়াতটির নিজস্ব কোনো জাদুকরী শক্তি আছে বা এটি আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়াই কাজ করে, তাহলে তা শিরকের পর্যায়ে চলে যেতে পারে— যা কুফরির সমতুল্য।
সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা হলো, যে কোনো বৈধ কাজে কুরআনের আয়াত ব্যবহারের সময় শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং নবীজী (ﷺ) ও সাহাবাদের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করা। এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে, কোনো বিশ্বস্ত আলেমের কাছে সরাসরি জেনে নেওয়া ভালো।
সারকথা:
- আমলটি কুফরি নয়, যদি সঠিক নিয়ত ও বিশ্বাস থাকে।
- কুরআনের আয়াতকে শুধুমাত্র শিফা ও রহমতের মাধ্যম মনে করতে হবে।
- শিরকি বিশ্বাস থেকে বিরত থাকা জরুরি।
আল্লাহু আ'লাম (সবচেয়ে ভালো জানেন)।