তালাকের পর পুন:বিবাহ প্রসঙে

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3121
Questioner: Sanjida Faruk
Question Asked: 25 Jul 2026, 10:34 PM
Reviewed & Published: 25 Jul 2026, 10:39 PM
Views: 12
Tokens: 6,618
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
গত বছরের শেষ দিকে আমার স্বামীর সাথে আমার তালাক হয়ে যায়। মুখে বা মেসেজে বা ইশারা ইঙিতে কিছু হয় নি, সে সরাসরি কাজি অফিসে গিয়ে তালাক দিয়ে আসে। এর মাঝে তালাক কার্যকর হবার আগে যে ৩মাস সময় থাকে তখনও দু পক্ষ আলাপ করে কোনো সুরহা হয় না। তো এভাবেই আইনিভাবে আমাদের তালাক হয়৷।
এখন এসে সে আবার আমাকে বিয়ে করতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে। এমতাবস্থায় আমি বুঝতে পারছি না আমাদের ৩তালাক কি এইভাবে যেভাবে তালাক হয়েছে তাতে হয়ে গেছে নাকি এখনো বিয়ের অবকাশ আছে? অর্থাৎ আমার প্রশ্ন হলো আমাদের কি ৩ তালাক হয়ে গেছে নাকি এখনো আমরা আবার বিয়ে করতে পারব?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনার আলোকে আপনার তালাকটি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী কতটি তালাক হয়েছে এবং পুনরায় বিয়ে করা যাবে কি না—তা নির্ভর করছে কাজি অফিসে স্বামী কী বলেছেন বা লিখেছেন তার উপর। সাধারণত বাংলাদেশের কাজি অফিসে তালাক দিতে গিয়ে স্বামী একটি লিখিত আবেদন বা মৌখিক ঘোষণা দিয়ে থাকেন, যাতে তিনি এক তালাক বা তিন তালাক উল্লেখ করেন।

মূল নীতি:

  • যদি স্বামী শুধু একবার "তালাক" বলেছেন বা লিখেছেন, তবে তা এক তালাক (তালাকে আহসান বা তালাকে হাসান) গণ্য হবে।
  • যদি তিনি স্পষ্টভাবে "তিন তালাক" বলেন বা লিখেন বা একসঙ্গে তিনবার "তালাক" শব্দটি উচ্চারণ করেন, তবে তা তিন তালাক হয়ে যাবে (তালাকে বিদ‘আত) এবং পুনরায় বিয়ে হারাম হবে—যতক্ষণ না স্ত্রী হালালা (অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বিয়ে ও তারপর তালাক) না করে।

আপনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অবস্থা:

যেহেতু আপনি বলছেন যে "মুখে বা মেসেজে বা ইশারায় কিছু হয়নি, সরাসরি কাজি অফিসে গিয়ে তালাক দিয়ে আসে", সেহেতু ধারণা করা যায় যে তিনি কাজি অফিসে উপস্থিত হয়ে তালাকের ঘোষণা দিয়েছেন (মৌখিক বা লিখিত)। দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাজি অফিসে সাধারণত এক তালাক দেওয়া হয় এবং ৯০ দিনের পুনর্মিলনের সময়সীমা (মুসলিম ফ্যামিলি ল অর্ডিন্যান্স) শেষে তা কার্যকর হয়। আপনার বর্ণনায় সেই সময়ের কথাও বলা আছে—"তালাক কার্যকর হওয়ার আগে ৩ মাস সময় থাকে"—এটি ঐ আইনগত অপেক্ষাকাল।

তাই সম্ভাবনা বেশি যে এটি এক তালাক এবং ইদ্দত (তিন মাস বা তিন হায়েজ) শেষ হওয়ার পর আপনি ও আপনার স্বামী নতুন করে বিয়ে করতে পারবেন। তবে আপনি নিশ্চিত নয় বলেই আমরা নিচের পরামর্শ দিচ্ছি:

আপনার করণীয়:

  1. কাজি অফিস থেকে জানুন: আপনি যে কাজি অফিসে তালাক রেজিস্টার হয়েছে, সেখান থেকে তালাকনামা বা রেজিস্টার কপি সংগ্রহ করুন। দেখুন সেখানে স্বামী "এক তালাক" লিখেছেন না "তিন তালাক"।
  2. স্বামীকে জিজ্ঞেস করুন: তিনি সেখানে কী বলেছেন বা লিখেছেন তা সরাসরি জানতে পারেন।
  3. যদি এক তালাক হয়ে থাকে: তাহলে ইদ্দত (তিন মাস) শেষ হওয়ার পর নতুন মোহর ও সাক্ষীর মাধ্যমে পুনরায় নিকাহ করা যাবে। কোনো হালালার প্রয়োজন নেই।
  4. যদি তিন তালাক হয়ে থাকে: তাহলে পুনরায় বিয়ে হারাম; স্ত্রীকে আগে অন্য এক পুরুষের সাথে বিয়ে করতে হবে, তারপর সেই স্বামী তালাক দিলে ইদ্দত শেষে প্রথম স্বামীর সাথে বিয়ে হতে পারে (হালালা)। এটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় ও কঠিন, তাই এড়িয়ে চলা উচিত।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, এক বৈঠকে তিন তালাক দেওয়া তিনটাই গণ্য হয় এবং তা বিদ‘আত (গুনাহ) হলেও কার্যকর হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২০)
  • কাজি অফিসে লিখিত বা মৌখিক তালাক বৈধ, যদি তা স্বামীর ইচ্ছায় ও সচেতনভাবে হয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪১০; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪২৫)
  • এক তালাকের পর স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হলে স্বামী-স্ত্রী চাইলে ইজতিমা’ ও নতুন নিকাহ করতে পারবে। (সূরা বাকারা: ২৩১; আল-হিদায়া, ২/২১০)

সারকথা:

আপনাদের তালাকটি এক তালাক হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি, কারণ কাজি অফিসে সাধারণত এক তালাকই দেওয়া হয়। তাই আপনি নিশ্চিত হয়ে নিন। যদি এক তালাক হয়, তাহলে ইদ্দত (আপনার ক্ষেত্রে গত বছর শেষে ইদ্দত শেষ) অতিবাহিত হওয়ার পর পুনরায় বিয়ে জায়েজ আছে। নতুন নিকাহ পড়াতে কোনও বাধা নেই—তবে শুধু নবায়ন করতে হবে।

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.