তাফওয়ীজে তালাক সম্পর্কে জানতে চাই?
Marriage and Divorce · Shafei
Question
২. স্বামী যদি কাগজ দেখে বলতে গিয়ে "আমি তোমাকে এক বা একাধিকবার যতবার যেভাবে তালাকের অধিকার দিয়েছিলাম সেই সমস্ত অধিকার আমি চিরকালের জন্য বাতিল করলাম" এর জায়গায় যদি "আমি তোমাকে এক বা একাধিকবার যতবার যেভাবে তালাকের অধিকার দিচ্ছিলাম তা আমি চিরকালের জন্য বাতির/বাতিন করলাম" বলে, মানে বাতিলের জায়গাতে বাতিন/বাতির বলে এক্ষেত্রে কি স্ত্রীকে নতুন করে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়? স্বামীর এসব বিষয়ে খুব একটা ধারণা নাই, সে স্ত্রীর বলাতে অনুরোধে কাগজ দেখে কথাগুলো বলছে তাই তার নিয়ত স্পষ্ট না যে সে কি চিন্তা করে বলছে, এক্ষেত্রে কি স্ত্রীকে আবার নতুন করে তালাকের অধিকার/তালাকে তাফউইজ দেওয়া হয়?
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনার আলোকে শাফিঈ মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ী নিচের বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হলো—
১. স্বামীর কাগজের বক্তব্যে “একাধিকবার” শব্দটি ব্যবহার করায় কি নতুন করে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়েছে?
না, কোনো নতুন তালাকের অধিকার দেওয়া হয়নি।
কারণ:
-
স্বামী প্রথমবার যে তালাকে তাফউইজ (স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া) করেছিলেন, তা মজলিশ শেষ হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। শাফিঈ মাযহাবে তালাকে তাফউইজ শুধুমাত্র সেই মজলিশ পর্যন্ত কার্যকর থাকে; মজলিশ শেষ হলে তা আর বলবৎ থাকে না।
(মিনহাজ আল-তালিবীন, মুগনি আল-মুহতাজ, নিহায়াত আল-মুহতাজ – অধ্যায়: তালাক) -
বর্তমানে স্বামী কাগজ পড়ে বলছেন: “আমি তোমাকে এক বা একাধিকবার যতবার যেভাবে তালাকের অধিকার দিচ্ছিলাম…” – এটি শুধু অতীতের ঘটনা বর্ণনা করছে। তিনি নতুন করে কোনো অধিকার দিচ্ছেন না, বরং পূর্বের দেওয়া অধিকার বাতিলের ঘোষণা দিচ্ছেন। এমন বক্তব্য দ্বারা নতুন তালাকের অধিকার সৃষ্টি হয় না।
-
তালাকের অধিকার দেওয়ার জন্য স্বামীকে স্পষ্ট ও সরাসরি ইবারত (বাক্য) ব্যবহার করতে হবে এবং উদ্দেশ্য (নিয়ত) থাকতে হবে। এখানে স্বামী স্ত্রীর অনুরোধে কাগজ পড়ছেন, তার নিজের তালাক দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। শাফিঈ মাযহাবে তালাক বাস্তবায়নের জন্য ইচ্ছা (নিয়ত) ও ইচ্ছাপ্রকাশ (সরাসরি বাক্য) উভয়ই শর্ত।
(আল-উম্ম, কিতাব আল-তালাক; ফাতহ আল-মুইন) -
তাই “একাধিকবার” শব্দটি অতীতের বিবরণ মাত্র, এটি নতুন কোনো অধিকার প্রদান নয়।
২. “বাতিল” এর জায়গায় “বাতিন/বাতির” বললে কি কিছু হয়?
- শাফিঈ মাযহাবে তালাক বা তালাকের অধিকার বাতিলের জন্য নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করা আবশ্যক নয়, তবে অর্থ বোঝানোর জন্য স্পষ্টতা জরুরি।
- “বাতিন” (باطن) শব্দের অর্থ “অভ্যন্তরীণ” বা “গোপন” – যা বাতিল করার অর্থ বহন করে না। সুতরাং এটি দ্বারা তালাকের অধিকার বাতিল হয় না।
- কিন্তু এখানে স্বামী কোনো নতুন তালাকের অধিকার দিচ্ছেন না; তিনি কেবল অতীতের অধিকার বাতিলের চেষ্টা করছেন। যেহেতু ঐ অধিকার আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল, তাই তার বক্তব্যে কোনো প্রভাব পড়ে না।
- আর যদি স্বামী ভুলবশত “বাতিন” বলে ফেলে, তবুও তা দ্বারা নতুন কোনো তালাকের অধিকার সৃষ্টি হয় না। কারণ তালাকের ইচ্ছা (নিয়ত) ছাড়া কোনো উচ্চারণই তালাক বাস্তবায়ন করে না।
(তুহফাত আল-মুহতাজ, বাব আল-তালাক; মাজমু’, ১৭/৮০)
৩. স্বামীর নিয়ত স্পষ্ট না থাকায় কি নতুন করে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়?
না, দেওয়া হয় না।
শাফিঈ মাযহাবে তালাক বা তালাকের অধিকার প্রদানের জন্য ইচ্ছা (নিয়ত) জরুরি।
-
স্বামী এখানে স্ত্রীর চাপে বা অনুরোধে কাগজ পড়ছেন; তার নিজের কোনো ইচ্ছা নেই তালাক দেওয়ার বা তালাকের অধিকার দেওয়ার।
-
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন:
“তালাক কেবল তখনই সংঘটিত হয় যখন তালাকদাতা তার বক্তব্য বুঝে এবং তালাক দেওয়ার ইচ্ছা রাখে।”
(মিনহাজ আল-তালিবীন, বাব আল-তালাক; রওদা আল-তালিবীন, ৮/৫০) -
যেহেতু স্বামী শুধু স্ত্রীর লেখা পড়ছেন, তার নিজের কোনো সিদ্ধান্ত বা ইচ্ছা নেই, তাই এটি নতুন কোনো তালাকের অধিকার প্রদান নয়।
সারসংক্ষেপ
| ক্রম | প্রশ্ন | উত্তর | |------|--------|--------| | ১ | “একাধিকবার” বলায় নতুন অধিকার সৃষ্টি? | না, এটি অতীতের বিবরণ। স্বামী বাতিল করছেন, দিচ্ছেন না। | | ২ | “বাতিন” বলায় কী প্রভাব? | কোনো প্রভাব নেই। এটি তালাকের শব্দ নয়, এবং নতুন অধিকার সৃষ্টি করে না। | | ৩ | স্বামীর নিয়ত না থাকায় কী হয়? | যেহেতু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তালাক দিচ্ছেন না, তাই কোনো নতুন তালাকের অধিকার হয় না। |
পরামর্শ
- স্ত্রীর ভয়টি ভিত্তিহীন; পূর্বের তালাকের অধিকার আগেই বাতিল হয়েছে।
- স্বামী যদি চান, তিনি স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতে পারেন যে তিনি তাকে আর কখনো তালাকের অধিকার দেবেন না। এতে স্ত্রীর মন থেকে দ্বিধা দূর হবে।
- ভবিষ্যতে তালাকের বিষয়ে কোনো ঝামেলা এড়াতে স্বামী-স্ত্রী সরাসরি ও স্পষ্টভাবে কথা বলুন এবং দালিলিক সাক্ষী রাখুন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।