সুদের টাকা কি করবো?

Zakat and Charity · Hanafi

Question No: 3044
Questioner: Amatullah
Question Asked: 23 Jul 2026, 07:09 PM
Reviewed & Published: 23 Jul 2026, 07:17 PM
Views: 19
Tokens: 3,588
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, আমার একাউন্টে কিছু টাকা আছে,যেটা আমার পড়াশোনায় খরচ করি,সেভিংস একাউন্ট।একদিন দেখি একাউন্টে খুবই সামান্য ইন্টারেস্ট আসছে যেটা আমি খেয়াল করি নি এতদিন।এই টাকা কি কোথাও দেওয়া যাবে?আর দিলেও কাদেরকে দিব?আমার একজন পরিচিত বোনের বাচ্চা অসুস্থ সাহায্য দরকার,তাকে কি দেওয়া যাবে?একটু বলবেন প্লিজ?

Answer

উত্তর: সুদের টাকা (ইন্টারেস্ট) খরচ করার হুকুম

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة

প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা রেখেছেন যা পড়াশোনার জন্য ব্যবহার করেন। কিন্তু অ্যাকাউন্টে সামান্য পরিমাণ ইন্টারেস্ট (সুদ) জমা হয়েছে, যা আপনি আগে খেয়াল করেননি। এখন সেই সুদের টাকা কী করবেন এবং তা কারও অসুস্থ সন্তানের জন্য দেওয়া যাবে কিনা—এ নিয়েই আপনার জিজ্ঞাসা।

প্রথমত: সুদের টাকার শরয়ী বিধান

সুদ (রিবা) হারাম। সুদের টাকা নিজের ব্যক্তিগত কাজে বা পড়াশোনার খরচে ব্যবহার করা জায়েজ নেই। এটি পবিত্র কুরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশ।

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا “আল্লাহ তা‘আলা ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন।” (সূরা বাকারা: ২৭৫)

সুদের টাকা গ্রহণকারী ব্যক্তি তার নিজের সম্পদে পরিণত করতে পারে না। বরং এই টাকা ফেলে দেওয়া বা কোনো কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা জরুরি। তবে সওয়াবের নিয়তে নয়, বরং পাপমুক্ত হওয়ার জন্য।

দ্বিতীয়ত: সুদের টাকা কোথায় এবং কাদেরকে দেওয়া যাবে?

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, সুদের টাকা গরিব-মিসকিন, এতিম, অসহায়কে দেওয়া যাবে। তবে এটি সাদাকাহ বা যাকাত হিসেবে গণ্য হবে না, বরং এটি “তাসাদ্দুক” (পবিত্রকরণ) হিসেবে খরচ করতে হবে। অর্থাৎ, এই টাকা দেওয়ার সময় সওয়াবের নিয়ত না করে শুধু আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার জন্য তা অন্যকে দিয়ে দেওয়া।

وَلَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَنْتَفِعَ بِهَا بَلْ يَصْرِفُهَا فِي وُجُوهِ الْخَيْرِ وَالصَّدَقَاتِ عَلَى الْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ “সুদের টাকা নিজে ভোগ করা জায়েজ নয়; বরং তা খাইরাত ও সদকা হিসেবে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে ব্যয় করতে হবে।” (রদ্দুল মুহতার, ৪/১৮৭)

তৃতীয়ত: কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

  1. সুদের টাকা নিজের বা পরিবারের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে না — যেমন আপনার পড়াশোনার খরচে বা ব্যক্তিগত কোনো কাজে।
  2. সুদের টাকা নিজের নিকটাত্মীয়কে দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা — যাদের ভরণপোষণ আপনার ওপর ওয়াজিব (যেমন মা-বাবা, সন্তান, স্ত্রী) তাদের দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ এতে আপনি নিজেই উপকৃত হবেন। কিন্তু এই বোন আপনার পরিচিত, তবে আপনার ওপর তার ভরণপোষণ ওয়াজিব নয়—সুতরাং আপনি তাকে দিতে পারেন।
  3. অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা পরিবর্তন করুন — ভবিষ্যতে আর সুদের লেনদেন থেকে বাঁচতে সুদমুক্ত ব্যাংকিং বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাই উত্তম। সেভিংস অ্যাকাউন্টে সাধারণত সুদ জমা হয়। তাই আপনি চাইলে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে একটি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, যাতে সুদ না আসে। অথবা সুদমুক্ত ইসলামী ব্যাংকিং-এ স্থানান্তর করুন।
  4. সামান্য পরিমান হলেও তা ফেলে দেওয়া বা খরচ করা জরুরি — ছোট হলেও তা হালাল নয়।

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا “হে আমাদের রব, যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করো না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)

আপনি আগে খেয়াল করেননি—এজন্য আপনি দোষী নন। কিন্তু এখন জানার পর তা পরিত্যাগ করা এবং সঠিক পথে খরচ করা আপনার ওপর আবশ্যক।

সারসংক্ষেপ

  • সুদের টাকা নিজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম।
  • সুদের টাকা **গরিব-মিসকিনকে ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া ** দেওয়া যাবে।
  • আপনার পরিচিত গরিব বোনের অসুস্থ শিশু,যদি সেই শিশুর বাবা যাকাত গ্রহনের উপযুক্ত হয়, সেক্ষেত্রে সেই শিশুকে সাহায্য করা জায়েজ আছে।
  • তবে সওয়াবের নিয়ত না করে শুধু পাপমুক্তির জন্য দিন।
  • ভবিষ্যতে সুদমুক্ত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন।

আল্লাহ তাআলা তওবা কবুল করুন এবং হালাল রিজিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.