জীবিকার তাগিদে পূর্ণ পর্দার সহিত ১৪/১৫ বছর বয়সী ছেলে ছাত্রকে টিউশনি পড়ানো যাবে কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2985
Questioner: 0577
Question Asked: 22 Jul 2026, 12:48 AM
Reviewed & Published: 22 Jul 2026, 01:28 AM
Views: 16
Tokens: 4,575
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

জীবিকার তাগিদে টিউশনি করানোটা একান্ত জরুরত হয়ে পরেছে। তাই পূর্ণ পর্দার সহিত কোনো ছেলে ছাত্র পড়ানো যাবে কি??
বয়স বড়জোর ১৪/১৫ হবে, এর বেশি নয়।

Answer

উত্তর: পূর্ণ পর্দার সাথে বালেগ ছেলে ছাত্র পড়ানো

প্রশ্ন: জীবিকার তাগিদে টিউশনি করানো একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই পূর্ণ পর্দার সহিত কোনো ছেলে ছাত্র (বয়স বড়জোর ১৪/১৫ বছর) পড়ানো যাবে কি?

উত্তর:

ইসলামী শরিয়তে নারী-পুরুষের মাঝে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা ও গোপনীয়তা (খলওয়াত) নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজন ও জরুরতের ভিত্তিতে কিছু শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। নিচে বালেগ ও নাবালেগ ছাত্রের ক্ষেত্রে হানাফি ফিকহের বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হলো।

১. সাধারণ নীতি

মহিলা শিক্ষিকার জন্য অমাহরাম পুরুষ বা বালেগ ছেলেকে পড়ানো শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। কারণ এতে ফিতনার আশঙ্কা থাকে। কুরআন ও হাদিসে নারী-পুরুষের মাঝে পর্দা ও সংযমের নির্দেশ এসেছে:

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ... (সূরা আন-নূর: ৩১) "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত করুক এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করুক এবং তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করুক..."

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ (সূরা আল-আহযাব: ৫৩) "আর তোমরা তাদের (নবীপত্নীদের) কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে।"

হাদিসে এসেছে, "যখন কোনো পুরুষ ও নারী গোপনে মিলিত হয়, তখন তৃতীয়জন হয় শয়তান।" (সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস: ১১৬৫)

২. ছাত্রের বয়স ও বালেগ হওয়ার বিধান

হানাফি ফিকহে ছেলেদের বালেগ হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১২ বছর, সাধারণত ১৫ বছর। যদি ছেলেটি ১৪/১৫ বছর বয়সী হয়, তবে সে সম্ভবত বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়ে গেছে। বালেগ হওয়ার লক্ষণ না থাকলেও বয়স ১৫ পূর্ণ হলে তাকে বালেগ গণ্য করা হয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪১৯)

৩. নাবালেগ ছেলেকে পড়ানো

যদি ছেলেটি নাবালেগ হয় (বয়স ১২ বছরের কম বা বালেগের লক্ষণ না থাকে), তবে পূর্ণ পর্দা (ঢাকাঢাকি) ও নিরাপদ পরিবেশে (যেমন: দরজা খোলা, মাহরামের উপস্থিতি) তাকে পড়ানো জায়েজ। কারণ নাবালেগ ছেলের প্রতি আকর্ষণ বা ফিতনার আশঙ্কা কম থাকে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২২৮; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৯)

৪. বালেগ ছেলেকে পড়ানো (জরুরতের অবস্থা)

বালেগ ছেলের ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষাদান সাধারণত নাজায়েজ, এমনকি পূর্ণ পর্দার সাথেও। তবে যদি তা জীবিকার জন্য একান্ত জরুরি (দারুরাত) হয় এবং নিম্নোক্ত শর্তগুলো পালন করা সম্ভব হয়, তবে কিছু হানাফি আলিম শিথিলতার অনুমতি দিয়েছেন:

  • পূর্ণ পর্দা: শিক্ষিকা সম্পূর্ণ ঢাকা থাকবেন, চেহারা ও হাতের পাঞ্জা ছাড়া কিছু প্রকাশ করবেন না।
  • খলওয়াত (গোপন মিলন) না হওয়া: দরজা খোলা রাখতে হবে বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তি (মাহরাম বা অন্য মহিলা) উপস্থিত থাকতে হবে।
  • কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখা: আকর্ষণীয় বা নরম সুরে কথা বলা যাবে না। (সূরা আল-আহযাব: ৩২)
  • প্রয়োজনের সীমা: টিউশনির সময় কেবল পাঠদানের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, অনর্থক কথাবার্তা নয়।
  • মাহরামের অনুমতি: যদি সম্ভব হয়, স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া।

তবে অধিকাংশ হানাফি ফকীহর মতে, বালেগ ছেলের জন্য এই শিথিলতা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রযোজ্য। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতানুযায়ী অমাহরাম পুরুষের সাথে পুরোপুরি পর্দা করলেও শারীরিক মেলামেশা ও দৃষ্টি বিনিময় হরাম। (আল-হিদায়া, ৪/৪৫৮; রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭১)

৫. উত্তম পন্থা

যেহেতু বালেগ ছেলের ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা বেশি, তাই উত্তম হবে:

  • ছাত্রী বা নাবালেগ ছেলেদের টিউশনি করা।
  • যদি বালেগ ছেলেই পড়াতে হয়, তবে পর্দার পর্দার ব্যবস্থা (যেমন: পর্দার আড়ালে বা ভিডিও কলে) করা।
  • ক্লাসে অন্য কোনো ব্যক্তি (মাহরাম বা বিশ্বস্ত মহিলা) উপস্থিত রাখা।
  • জরুরত শেষ হলে এই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া।

৬. ফাতাওয়া ভিত্তিক সিদ্ধান্ত

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) এবং মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.)-এর ফাতাওয়ায় এসেছে, মহিলাদের জন্য অমাহরাম পুরুষ বা বালেগ ছেলেকে পড়ানো জায়েজ নয়, যদি না চরম জরুরি অবস্থা হয় এবং সে অবস্থায়ও সম্পূর্ণ পর্দা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। (মাআরিফুল কুরআন, ৭/২৯৯; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৬১)

সারসংক্ষেপ

| ছাত্রের অবস্থা | বিধান | শর্ত | |---------------|--------|------| | নাবালেগ (বালেগ নয়) | জায়েজ | পূর্ণ পর্দা, খলওয়াত না থাকা | | বালেগ (১৪/১৫ বছর) | সাধারণত নাজায়েজ; জরুরতের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে জায়েজ | পূর্ণ পর্দা, মাহরামের উপস্থিতি, প্রয়োজন সীমিত |

সুপারিশ: যেহেতু আপনার জন্য এটি জীবিকার জরুরি প্রয়োজন, তাই যদি ছেলেটি বালেগ না হয় (শারীরিকভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক), তবে পূর্ণ পর্দা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে পড়াতে পারেন। আর যদি বালেগ হয়, তবে সম্ভব হলে অন্য ব্যবস্থা (মহিলা ছাত্রী, ভিডিও ক্লাস, বা পর্দার ব্যবস্থা) করুন। অন্যথায়, উপরোক্ত শর্তগুলো কঠোরভাবে পালন করলে জরুরতের ভিত্তিতে কিছু আলিম অনুমতি দিয়েছেন। সর্বাবস্থায় আল্লাহর ভয় ও ফিতনা থেকে বাঁচার চেষ্টা করা জরুরি।

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.