ফেইসবুকের ভিডিও এর মাধ্যমে ইনকাম করার হুকুম
Halal and Haram · Shafei
Question
যদি হারাম হয় তো তা হালাল করার উপায় কি আছে?
Answer
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ, আপনাকে শাফেয়ী মাযহাবের (নিম্নোক্ত কিতাবসমূহ: আল-উম্ম, আল-মাজমূ‘, মিনহাজ আল-তালিবিন, মুগনি আল-মুহতাজ, নিহায়াত আল-মুহতাজ, ফাতহ আল-মু‘ইন, তুহফাত আল-মুহতাজ ও ইমাম নববী, ইমাম রাফেঈ, ইবনে হাজার আল-হায়তামী, ইমাম রামলি, যাকারিয়া আনসারি প্রমুখ শাফেয়ী বিদ্বানের মতামত) ভিত্তিতে জবাব দেওয়া হবে।
১. ইসলামিক ভিডিও তৈরি ও প্রচার করা:
ইসলামিক শিক্ষা, কুরআনের আয়াত, হাদিস, ইসলামি আলোচনা ইত্যাদি ভিত্তিক ভিডিও তৈরি করা এবং সেগুলো পোস্ট করা মূলত জায়েজ বরং সওয়াবের কাজ। তবে শর্ত হলো—ভিডিওতে যেন কোনো হারাম উপাদান (যেমন: গান-বাজনা, অশ্লীলতা, মিথ্যা তথ্য) না থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“এবং তোমরা পরস্পর অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভক্ষণ করো না।” (সূরা বাকারা: ১৮৮)
সুতরাং বৈধ উপায়ে উপার্জন করলে তা হালাল।
২. ইসলামিক নাশীদ ব্যবহার:
শাফেয়ী মাযহাবে, বাদ্যযন্ত্রবিহীন (শুধু কণ্ঠ বা দফের অনুমতি ব্যতীত) নাশীদ ব্যবহার করা জায়েজ। ইমাম নববী (রহ.) আল-মাজমূ‘ (৪/৪৩৭)-এ বলেন:
“বাদ্যযন্ত্র (দফ ছাড়া) শোনা হারাম। তবে যদি নাশীদ বাদ্যযন্ত্র ছাড়া হয়, তবে তা নাজায়েয নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিষয়বস্তু শরিয়তসম্মত হয়।”
(আরো বিস্তারিত: আল-উম্ম, ইমাম শাফেয়ী; নিহায়াত আল-মুহতাজ, ইমাম রামলি)
সতর্কতা:
- নাশীদে যদি কোনো বাদ্যযন্ত্র (ড্রাম, গিটার, ইলেক্ট্রনিক বিট ইত্যাদি) থাকে, তবে তা ব্যবহার করা হারাম, কারণ এতে গান-বাজনার শামিল হবে।
- নাশীদে যদি অশ্লীল বা মিথ্যা কথা থাকে, তাও হারাম।
সারসংক্ষেপ: বাদ্যযন্ত্রমুক্ত, শরিয়তসম্মত নাশীদ ব্যবহার করা জায়েজ। অন্যথায় হারাম।
৩. ভিডিও থেকে ইনকাম (যেমন: ইউটিউব অ্যাডস):
ইসলামিক ভিডিও পোস্ট করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইনকাম করার বিধান নির্ভর করে বিজ্ঞাপনের প্রকৃতির ওপর।
- যদি বিজ্ঞাপন হারাম পণ্য/সেবার (যেমন: সুদ, মদ, জুয়া, অশ্লীলতা) হয়, তাহলে সেই ইনকাম হারাম। কারণ আল্লাহ বলেন:
“তারা মদ, জুয়া ও পাথরের পূজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, এতে মহাপাপ রয়েছে।” (সূরা বাকারা: ২১৯) - যদি বিজ্ঞাপন হালাল হয় (যেমন: বই, শিক্ষা, খাদ্য), তাহলে ইনকাম হালাল। তবে বর্তমানে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, তাই সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে যাতে হারাম বিজ্ঞাপন না দেখানো হয়। শাফেয়ী ফকিহগণ বলেন: “যদি আয়ের উৎস সন্দেহজনক হয়, তবে তা এড়িয়ে চলাই উত্তম।” (মুগনি আল-মুহতাজ, ২/২৫৬)
৪. যদি বিদ্যমান ইনকাম হারাম হয়, তাহলে হালাল করার উপায়:
যদি নাশীদে বাদ্যযন্ত্র থাকে বা বিজ্ঞাপনে হারাম পণ্য থাকে, তাহলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিন:
ক. হারাম উপাদান অপসারণ:
- বাদ্যযন্ত্রযুক্ত নাশীদ সরিয়ে ফেলুন এবং বাদ্যযন্ত্রমুক্ত নাশীদ ব্যবহার করুন।
- ইউটিউব সেটিংসে গিয়ে বিজ্ঞাপন ফিল্টার করুন অথবা বিজ্ঞাপনবিহীন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন।
খ. অতীতের হারাম আয় দান করে দিন:
ইমাম নববী (রহ.) আল-মাজমূ‘ (৪/২৬৮)-এ বলেন:
“যার কাছে হারাম মাল আছে এবং সে তার মালিক চিহ্নিত করতে না পারে, তবে সে তা সদকা করে দেবে এবং তওবা করবে।”
সুতরাং আগের হারাম আয়ের পরিমাণ হিসাব করে তা ফকির-মিসকিনকে নিয়্যাত ছাড়াই (শুধু আর্থিক দায়মুক্তির জন্য) দান করে দিন।
গ. বৈধ মাধ্যম গ্রহণ:
- সরাসরি দর্শকের দান (ডোনেশন) বা সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে ইনকাম করুন।
- নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করুন।
সংক্ষেপে:
- নাশীদ: বাদ্যযন্ত্রমুক্ত ও শরিয়তসম্মত হলে জায়েজ, অন্যথায় হারাম।
- ভিডিও: ইসলামিক কনটেন্ট জায়েজ, তবে বিজ্ঞাপন হারাম হলে ইনকাম হারাম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল রিজিক দান করুন এবং হারাম থেকে দূরে রাখুন।
আরও বিস্তারিত জানতে:
- আল-মাজমূ‘ (ইমাম নববী)
- নিহায়াত আল-মুহতাজ (ইমাম রামলি)
- তুহফাত আল-মুহতাজ (ইবনে হাজার আল-হায়তামী)
- SeekersGuidance.org ও IslamQA.info (শাফেয়ী ফতোয়া অনুযায়ী)