বিয়ের সময় কাজী ও এক মহিলা সাক্ষী থাকলে কি বিয়ে শুদ্ধ হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2933
Questioner: JOYNON Begum
Question Asked: 20 Jul 2026, 09:52 PM
Reviewed & Published: 20 Jul 2026, 10:05 PM
Views: 16
Tokens: 3,946
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। আমার বিয়ে ঠিক হয় সম্পূর্ন পারিবারিকভাবে। বিয়ের দিন দুই পক্ষের ঝামেলার কারনে আমাকে যখন বিয়ে পড়ানো হয় তখন আমাার কবুল শুনেছে শুধু কাজি আর আমার ২০ বয়সি অবিবাহিত চাচাতো বোন। আমাকে কাজি কবুল বলতে বলেছে একবার। কিন্তু ছেলেকে যখন বিয়ে পড়ানো হয় তখন কবুল বলতে অনেকেই শুনেছে। আর অনেক উপস্থিতও ছিল। এই বিয়ে কি শুদ্ধ হবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী, আপনার (কনের) পক্ষ থেকে কবুল বলার সময় শুধু কাজী এবং আপনার ২০ বছরের অবিবাহিত চাচাতো বোন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ছেলের কবুল বলার সময় অনেক লোক উপস্থিত ছিল এবং তারা শুনেছেন।

হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, নিকাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) একই মজলিসে সম্পন্ন হতে হবে এবং তা শুনতে হবে কমপক্ষে দু’জন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা সাক্ষী (যারা প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের ও মুসলিম)। সাক্ষীদের উভয় পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করা জরুরি।

আপনার ক্ষেত্রে:

  • কনের কবুল শুনেছেন মাত্র একজন পুরুষ (কাজী) ও একজন মহিলা (চাচাতো বোন)। হানাফী মতে, এটি অপর্যাপ্ত। কেননা কমপক্ষে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা অথবা দুজন পুরুষ সাক্ষী থাকা বাধ্যতামূলক।
  • ছেলের কবুল শুনেছেন অনেকেই, কিন্তু তারা কনের কবুল শুনেননি। তাই তারা সম্পূর্ণ চুক্তির সাক্ষী নন।

সুতরাং এই নিকাহ শুদ্ধ হয়নি। এটি পুনরায় সঠিক পদ্ধতিতে আয়োজন করা জরুরি।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৪/৯৬): নিকাহের সাক্ষ্যদানের শর্তে বলা হয়েছে, দু’জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা সাক্ষী হওয়া আবশ্যক।
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/৭৮): যদি সাক্ষীর সংখ্যা অপর্যাপ্ত হয়, তবে নিকাহ সহীহ হবে না।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৮৮): নিকাহের সময় সাক্ষীদের অবশ্যই ইজাব-কবুল উভয়টি শুনতে হবে।
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/২৭২): সাক্ষীদের উপস্থিতি ব্যতীত নিকাহ বাতিল।

পরামর্শ:
আলাদাভাবে নিকাহের আয়োজন করুন, যেখানে কমপক্ষে দু’জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা সাক্ষী থাকবেন এবং তারা স্পষ্টভাবে ইজাব-কবুল শুনবেন। এক্ষেত্রে পুনরায় মোহরানাও ধার্য করতে হবে না (পুরনো মোহরই বহাল থাকবে)।

উত্তর প্রদানে:
শাইখুল হাদিস হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর বিখ্যাত ফতোয়া "ইমদাদুল ফাতাওয়া" এবং মুফতি শফি উসমানী (রহ.)-এর "ফাতাওয়া উসমানী" থেকে বিশেষভাবে নির্দেশনা গ্রহণ করা হয়েছে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.