দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য কি আর্থিক নিরাপত্তার অপেক্ষা করা উচিত?
Business and Job · Hanafi
Question
২৯ বছর বয়সী একজন নারী যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তাঁর আয় তাঁর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি।
তবে আল্লাহ তাঁর জীবনে, বিশেষ করে পরিবারের মাধ্যমে, অনেক পরীক্ষা নিচ্ছেন। তাঁর বাবা-মা মুসলিম হলেও তাঁদের কাছে ইসলাম ও আখিরাত জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নয়; বরং ইসলামকে তাঁরা অনেকটা ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে তাঁর বাবা অত্যন্ত কঠোর স্বভাবের এবং তাঁর প্রতি অনেক যুলুম করেছেন। ফলে নিজের ভরণ-পোষণের জন্য তাঁকে ভালোভাবে পড়াশোনা করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হয়েছে, কারণ তাঁর বাবা তাঁর দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলেন না।
তিনি বিবাহিত ছিলেন, কিন্তু পরে তালাকপ্রাপ্ত হন। এরপর তাঁর ক্ষেত্রে জাদু (সিহর) বা শয়তানের প্রভাবজনিত সমস্যা রয়েছে বলে জানা যায় এবং বর্তমানে তিনি রুকইয়াহ করছেন।
তবে তিনি বিশ্বাস করেন, এই ধারাবাহিক পরীক্ষাগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত; কারণ এগুলোর মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁকে দ্বীনের দিকে ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্বীন শেখা শুরু করেন। দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পর তিনি উপলব্ধি করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে থেকে ইসলামের সব বিধান পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলা তাঁর জন্য কঠিন।
যদিও তিনি যথাসম্ভব পর্দা রক্ষা করেন এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলেন (প্রায় ৯৫% ক্ষেত্রে), তবুও কর্মক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা তিনি পুরোপুরি এড়াতে পারেন না। তাঁর চারপাশের অধিকাংশ মানুষ ইসলামী বিধান অনুসরণ করেন না, তাই তিনি মনে করেন কর্মস্থলে ইসলামের সব বিধান শতভাগ বাস্তবায়ন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
প্রথমে তাঁর পরিকল্পনা ছিল আরও প্রায় ১০ বছর চাকরি করবেন, পাশাপাশি দ্বীন শিখবেন এবং পরে নিজের আয়ের একটি অংশ ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় ব্যয় করবেন। কিন্তু পরে ফিকহ অধ্যয়নের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, যদি কোনো আয় হালাল না হয়, তবে সেই আয় থেকে করা সদকা আল্লাহ কবুল করেন না।
তিনি মনে করেন, তাঁর আয়ের অধিকাংশই হালাল, কারণ তিনি হালাল বিষয় পড়ান, পর্দা রক্ষা করেন এবং অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের কিছু অনিবার্য বিষয়ে তাঁর মনে সংশয় রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিতে টিকে থাকতে তাঁকে চুক্তিতে উল্লেখিত সময়ের চেয়েও অনেক বেশি সময় ও পরিশ্রম দিতে হয়, যার ফলে কখনো কখনো সালাত এবং দ্বীনি ইলম অর্জনে ব্যাঘাত ঘটে।
এ কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর এক বা দুই বছর চাকরি করে কিছু অর্থ সঞ্চয় করবেন, তারপর দক্ষিণ এশিয়ায় নিজ দেশে ফিরে একটি মাদরাসায় ভর্তি হবেন। সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় কম, দ্বীনদার বোনদের ও উস্তাদদের সান্নিধ্যে থাকা সহজ, পর্দা রক্ষা সহজ এবং দ্বীন শেখার পরিবেশও অনুকূল।
তিনি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন ছেড়ে খুব সাধারণ ও যুহদের জীবনযাপন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর শুধু মৌলিক চাহিদা—খাবার এবং মাদরাসার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা—হলেই যথেষ্ট। তিনি যাকাতও দিতে চান। তিনি মনে করেন তাঁর আয়ের একটি অংশ হালাল এবং একটি অংশ সন্দেহযুক্ত। তাই তিনি সন্দেহযুক্ত অংশ ব্যক্তিগত সম্পদ, যেমন জমি কেনা বা বিলাসিতার কাজে ব্যবহার করতে চান না; বরং যতটা সম্ভব হালাল অংশ থেকেই জীবনযাপন করতে চান।
পড়াশোনা শেষ করে তিনি ইসলাম ও মুসলিমদের সেবা করতে চান, দ্বীন শিক্ষা দিতে চান এবং ইসলামী গবেষণায় অবদান রাখতে চান। অল্প কিন্তু সম্পূর্ণ হালাল আয়ে জীবনযাপন করতেও তিনি সন্তুষ্ট।
তিনি ব্যক্তিগত কিছু কারণে, যার মধ্যে রুকইয়াহ-সংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে, বর্তমানে পুনরায় বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন না। তাঁর লক্ষ্য হলো সম্পূর্ণ হিফজ সম্পন্ন করা, দাওরায়ে হাদীস শেষ করা এবং এরপর দ্বীনের খিদমতে আত্মনিয়োগ করা।
কিন্তু অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, আরও প্রায় সাত বছর চাকরি করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করুন এবং আরও বেশি অর্থ সঞ্চয় করুন। তাঁদের যুক্তি হলো, ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি; কারণ যদি পরে অর্থ ফুরিয়ে যায়, তাহলে তিনি সমস্যায় পড়তে পারেন।
এই সময়ে তিনি অনলাইনে দ্বীন শেখা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু তাঁর আশঙ্কা, এত দীর্ঘ সময় এই পরিবেশে থাকলে তাঁকে প্রতিনিয়ত ফিতনার সঙ্গে লড়াই করতে হবে এবং তাঁর ঈমান রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
তাঁর পরিবারও তাঁকে সমর্থন করবে না। তাঁর বাবা ইতিমধ্যে তাঁকে বলেছেন যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়া এবং হিজাব বজায় রাখা যথেষ্ট; এর বাইরে দ্বীন নিয়ে বেশি পড়াশোনা করলে সমাজ তাঁকে পাগল মনে করবে। তবে তিনি এখন নিজের উপার্জনে চলেন বলে তাঁর বাবা তাঁকে বাধ্য করতে পারছেন না। অন্যথায় তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর বাবা তাঁকে অনলাইনে দ্বীন শেখা বন্ধ করে এমন একজন ধনী ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য করতেন, যিনি হালাল-হারামের তোয়াক্কা করেন না এবং হয়তো এক রাকআত সালাতও আদায় করেন না।
তিনি মনে করেন, আল্লাহ এই চাকরিটিকে তাঁর জন্য নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার একটি মাধ্যম বানিয়েছেন। কিন্তু এখন তাঁর একমাত্র ইচ্ছা হলো, তিনি যেন শতভাগ ইসলামের পথে চলতে পারেন, সাহাবিদের মতো জীবনযাপন করতে পারেন।
এখন তিনি খুবই দ্বিধায় আছেন। তিনি কি ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও কয়েক বছর চাকরি করবেন, নাকি আল্লাহর ওপর ভরসা করে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করে যত দ্রুত সম্ভব মাদরাসায় ভর্তি হয়ে পূর্ণ সময় দ্বীনি ইলম অর্জন করবেন?
তিনি আন্তরিকভাবে এমন একটি পরিবেশ চান, যেখানে তিনি সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মতো দ্বীনদার মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে পারবেন, ইসলাম ও মুসলিমদের সেবা করতে পারবেন, শতভাগ হালাল উপার্জনে জীবনযাপন করতে পারবেন এবং হযরত ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর আদর্শ অনুযায়ী পর্দা রক্ষা করতে পারবেন।
আজকের যুগে কি এমন পরিবেশ পাওয়া সম্ভব? যদি সম্ভব হয়, তাহলে কি একটি মাদরাসায় সেই পরিবেশ পাওয়া যেতে পারে?
আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব যদি এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
Answer
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবিক জীবন দ্বন্দ্বের সাথে সম্পর্কিত। আমি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করে উত্তর দিচ্ছি:
১. আর্থিক নিরাপত্তা বনাম দ্বীনি শিক্ষা: মূল নীতি
ইসলামে আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) ও পার্থিব নিরাপত্তা গ্রহণ উভয়েরই গুরুত্ব রয়েছে। তবে কুরআন ও হাদীসে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে:
কুরআন:
"وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ" "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা আত-তালাক: ২-৩)
হাদীস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"لَوْ تَوَكَّلْتُمْ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ، تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا" "যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথার্থ ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদেরকে পাখির মত রিযিক দিতেন—সকালে ক্ষুধার্ত বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট ভরে ফিরে আসে।" (তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)
ইমদাদুল ফাতাওয়া (৫/৪৫৯)-এ হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লিখেছেন:
"দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা একটি শর্ত নয়। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) অধিকাংশই দারিদ্র্যের মধ্যেও দ্বীন শিখেছেন এবং ইসলামের খিদমত করেছেন।"
২. হালাল উপার্জনের গুরুত্ব
হাদীসে এসেছে:
"إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا" "নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।" (মুসলিম)
ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতার (৪/২৯৭)-এ লিখেছেন:
"সন্দেহযুক্ত সম্পদ থেকে দান-সদকা করলে তা কবুল হবে না। তবে নিজের প্রয়োজন মেটানো এবং যাকাত আদায়ের জন্য হালাল অংশ ব্যবহার করা জায়েয।"
৩. পরিস্থিতি বিশ্লেষণ
আপনার বর্ণিত নারীর ক্ষেত্রে:
চাকরি ধরে রাখার পক্ষে যুক্তি:
- বর্তমান আয়ের অধিকাংশ হালাল (৯৫% সতর্কতা)
- আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা
- পরিবারের বিরোধিতার ঝুঁকি
চাকরি ছেড়ে মাদরাসায় যাওয়ার পক্ষে যুক্তি:
- দ্বীনের পূর্ণ অনুশীলনের পরিবেশ নেই
- ইমান রক্ষার ঝুঁকি
- পরকালের চিন্তা ও আল্লাহর নৈকট্যের আকাঙ্ক্ষা
- হালাল উপার্জনের নিশ্চয়তা
৪. ফিকহী নির্দেশনা
প্রথমত: আপনার আয়ের সন্দেহযুক্ত অংশ সম্পর্কে—বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, চাকরি করার ক্ষেত্রে যদি আপনার ব্যক্তিগত পর্যায়ে পর্দা, গায়রাহ (অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা থেকে বিরত থাকা) ইত্যাদি পালন করেন এবং আপনার শিক্ষাদানের বিষয়টি হালাল হয়, তাহলে আপনার আয় মূলত হালাল। তবে কর্মক্ষেত্রে কিছু অনিবার্য বিষয় থাকলেও তা পুরো আয়কে হারাম করে না। (ফাতাওয়া শামী, ৬/৩৮৪)
দ্বিতীয়ত: ফিতনার পরিবেশে ইমান রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসে এসেছে:
"يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ" "শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ হবে সেই ছাগল যা সে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যাবে এবং বৃষ্টির স্থানে, নিজের দ্বীনকে ফিতনা থেকে বাঁচানোর জন্য।" (বুখারী)
তৃতীয়ত: দুনিয়াবী নিরাপত্তার জন্য দ্বীনি অগ্রগতি বিলম্বিত করা উচিত নয়। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন-এ বলেছেন:
"দ্বীনি ইলম অর্জন প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয। এটাকে দুনিয়ার কাজের জন্য বিলম্বিত করা মুমিনের জন্য সঙ্গত নয়।"
৫. ব্যবহারিক পরামর্শ
আমার বিবেচনায়, আপনার জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত হবে:
ক. অল্প সময়ের জন্য (১-২ বছর) একটি পরিমিত সঞ্চয় করুন—যা মাদরাসায় প্রথম বছরের জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু এত বেশি সঞ্চয়ের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করবেন না যে আপনার ইমান বিপন্ন হয়ে যায়।
খ. তাওয়াক্কুলের সাথে মাদরাসায় ভর্তি হন। বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের প্রচলিত মাদরাসাগুলিতে দ্বীনি পরিবেশ, পর্দার ব্যবস্থা এবং ন্যূনতম খরচের ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন: জামিয়া কাসিমুল উলুম (দেওবন্দ), জামিয়া রহমানিয়া (ঢাকা), মাদরাসাতুল বানাত ইত্যাদি।
গ. আপনার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এই পরিকল্পনা করুন:
- হিফজুল কুরআন সম্পন্ন করুন
- দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করুন
- তাফসীর ও ফিকহে বিশেষায়িত হন
- ইসলামী গবেষণা ও দাওয়াতে আত্মনিয়োগ করুন
ঘ. পরিবারের বিরোধিতা সত্ত্বেও আপনার দায়িত্ব হল দ্বীন অর্জন করা। যদি পিতা আপনাকে জোর করে বাধ্য না করতে পারেন (যেহেতু আপনি স্বাবলম্বী), তাহলে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে।
৬. গুরুত্বপূর্ণ হাদীস ও উক্তি
হযরত ফাতিমা (রা.)-এর জীবনী আমাদের শিক্ষা দেয় যে, দুনিয়ার স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে দ্বীনের জন্য কষ্ট সহ্য করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। হাদীসে এসেছে:
"طُوبَى لِلْغُرَبَاءِ" "মুবারক তাদের জন্য যারা দ্বীনের কারণে সমাজে অপরিচিত (গারীব)।" (মুসলিম)
উপসংহার:
আপনার বর্ণিত নারীর জন্য আমার নির্দেশনা:
আল্লাহর উপর ভরসা রেখে এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক সঞ্চয় (১-২ বছরের মতো) করে যত দ্রুত সম্ভব মাদরাসায় ভর্তি হওয়াই উত্তম। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার নামে এমন পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকা যেখানে ইমান ও দ্বীন দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আল্লাহ নিজেই তার রিযিকের ব্যবস্থা করবেন।
মনে রাখবেন:
"وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ" "যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" (সূরা আত-তালাক: ৩)
আপনার ইখলাস ও দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা প্রশংসনীয়। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আপনার এই ত্যাগকে কবুল করবেন এবং আপনাকে এমন পরিবেশ দান করবেন যা আপনি চান। সাহাবায়ে কিরাম ও হযরত ফাতিমা (রা.)-এর আদর্শে জীবন যাপনের জন্য আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দান করুন।
والله أعلم بالصواب