রোজা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে শিলা (বরফ) চলে গেলে রোজা ভঙ্গ হয় কি?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় আপনার মুখে একটি ছোট শিল (বরফের টুকরো) চলে গেছে এবং সেটি আপনি গিলে ফেলেছেন। এটি আপনার ইচ্ছায় বা স্মরণে না থাকলেও, যেহেতু এটি একটি বস্তু যা সাধারণত খাদ্য বা পানীয় নয়, তাই হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এতে আপনার রোজা ভঙ্গ হয়েছে এবং আপনাকে শুধু একটি কাযা রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে আপনার রোযা রাখার বিষয়টি যদি আপনি ভুলে গিয়ে তাহা খেয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে আপনার রোযা আদায় হয়ে যাবে।সমস্যা হবেনা।
কারণ ও দলিল:
হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো: যদি কোনো অখাদ্য বস্তু (যেমন পাথর, মাটি, কাচ, লোহা, বীজ ইত্যাদি) ভুলক্রমে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে পেটে চলে যায়, তবে রোজা ভঙ্গ হবে এবং শুধু কাযা ওয়াজিব হবে। তবে যদি তা ইচ্ছাকৃত হয়, তবে কাফফারাও ওয়াজিব হতে পারে। যেহেতু আপনি তা গিলে ফেলেছেন আপনার অজান্তে (ভুলে) এবং আপনার রোজার কথাও তখন মনে ছিল না, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গের গুনাহ হবে না, বরং এটি একটি ভুলের কারণে রোজা ভঙ্গ হওয়ার ঘটনা। সেজন্য শুধু কাযা করতে হবে।
কিতাবের উল্লেখ:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "إذا دخل في جوفه شيء من غير قصد، كالحصى أو التراب... فإنه يفسد صومه ويجب عليه القضاء." অর্থ: "যদি কোনো বস্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে পেটে চলে যায়, যেমন পাথর বা মাটি ... তবে তার রোজা নষ্ট হবে এবং কাযা ওয়াজিব হবে।"
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগীরী): "ولو دخل حلقه حصاة أو نواة أو تراب أو دخان أو ذباب أو بعوضة أو ماء المطر بغير اختياره...فسد صومه وعليه القضاء." অর্থ: "যদি তার গলায় পাথর, আঁটি, মাটি, ধোঁয়া, মাছি, মশা বা বৃষ্টির পানি অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রবেশ করে ... তবে তার রোজা নষ্ট হবে এবং কাযা ওয়াজিব হবে।"
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানি): অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো অখাদ্য বস্তু পেটে চলে গেলে রোজা ভঙ্গ হয় এবং কাযা ওয়াজিব হয়।
মনে রাখবেন:
- আপনার ক্ষেত্রে এটি ভুলে হওয়ায় কোনো গুনাহ নেই, তবে রোজার কাযা অবশ্যই আদায় করতে হবে।
- ইফতারের পূর্বে আপনার রোজার কথা মনে পড়ার কারণে আপনার নিয়ত থাকা সত্ত্বেও ভুলবশত শিলা গিলে ফেলায় রোজা নষ্ট হয়েছে। তাই সেই দিনের বাকি সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা এবং পরে একদিন কাযা রাখাই আপনার কর্তব্য।
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
আপনার রোজা নষ্ট হয়েছে, তবে কাফফারা নয়, শুধু একটি কাযা রোজা রাখবেন। আল্লাহ আপনার রোজা কবুল করুন এবং ভুলের জন্য ক্ষমা করুন।
উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে আপনার রোযা রাখার বিষয়টি যদি আপনি ভুলে গিয়ে তাহা খেয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে আপনার রোযা আদায় হয়ে যাবে। সমস্যা হবেনা।