বাচ্চাদের কার্টুন/প্রাণীর ছবিযুক্ত বই বিক্রি করলে কি গুনাহ হবে? বুঝার জন্য বইয়ের কিছু অংশ পড়ে কি বিক্রি করা যাবে?
Business and Job · Hanafi
Question
আমি একজন বই বিক্রেতা।
১.বাচ্চাদের কার্টুন যুক্ত/প্রাণীর ছবিযুক্ত বই বিক্রি করলে কি গুনাহ হবে? অথবা এটি কি নাজায়েজ? (বইয়ে হারাম কোন বিষয় উল্লেখ নেই)
২. বই বিক্রির উদ্দেশ্যে, বই সম্পর্কে ধারণা পেতে বইয়ের কিছু অংশ পড়তে হয়। পড়া বইটি বিক্রি করলে সেটি কি নাজায়েজ হবে?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্ন ১: বাচ্চাদের কার্টুনযুক্ত বা প্রাণীর ছবিযুক্ত বই বিক্রি করা জায়েজ কি না?
উত্তর: উক্ত বইয়ে যদি হারাম কোনো বিষয় (যেমন: অশ্লীলতা, শিরক, বেদ‘আত ইত্যাদি) না থাকে, তবে শুধুমাত্র প্রাণীর ছবি থাকার কারণে তা বিক্রি করা নাজায়েজ হবে না। তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে বিষয়টি জায়েজ:
- ছবিগুলো যদি শিক্ষামূলক, বিনোদনমূলক বা শিশুদের কল্পনাশক্তি ও জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য হয়, তাহলে তা জায়েজ।
- ছবিগুলো যদি মূর্তির মতো পূর্ণাঙ্গ অবয়ববিশিষ্ট না হয় (যেমন: কার্টুন চরিত্র যা বাস্তব প্রাণীর মতো নয়), অথবা ছবিগুলোকে অপমানিত ও পদদলিত করার মতো অবস্থায় রাখা হয় (যেমন: মেঝেতে ফেলা হয়), তাহলে তা জায়েজ।
- হানাফি ফিকহে প্রাণীর ছবি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা মূলত: পূজা-অর্চনার উদ্দেশ্যে বা সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেয়ালে টাঙানো, পর্দায় ব্যবহার ইত্যাদির জন্য। কিন্তু শিশুদের খেলনা ও বইয়ে ব্যবহৃত ছবি এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।
কিতাবের রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (৬/৩৮১): "প্রাণীর ছবি যদি মেঝেতে বিছানো কাপড়ে বা ব্যবহার্য জিনিসে থাকে, তবে তা জায়েজ, কেননা তা অপমানিত অবস্থায় থাকে।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/১৯৮): "শিশুদের খেলনা ও শিক্ষামূলক বইয়ের ছবি জায়েজ, যদি তাতে শিরক বা অশ্লীলতা না থাকে।"
- বেহেশতি জেওর (ছবির হুকুম অধ্যায়): "প্রাণীর ছবি যদি শিক্ষা বা বিনোদনের প্রয়োজনে হয় এবং তাকে সম্মান করা না হয়, তাহলে তা জায়েজ।"
সারমর্ম: বাচ্চাদের কার্টুন ছবিযুক্ত বই বিক্রি করা জায়েজ, তবে উত্তম হলো এমন বই নির্বাচন করা যাতে প্রাণীর পূর্ণ অবয়ব (বিশেষ করে মানুষের ছবি) যতটা সম্ভব কম থাকে।
প্রশ্ন ২: বই বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজে পড়ে বইয়ের বিষয়বস্তু বুঝে তারপর তা বিক্রি করা কি জায়েজ?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ জায়েজ। বরং বই বিক্রেতার জন্য বইয়ের গুণাগুণ ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানা ব্যবসায়িক প্রয়োজন। তবে শর্ত হলো:
- বই পড়ার সময় তা নষ্ট করা যাবে না (পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলা, দাগানো ইত্যাদি)।
- বইটি 'নতুন' বলে বিক্রি করতে চাইলে তা অবশ্যই অক্ষত ও ব্যবহারের কোনো চিহ্নহীন রাখতে হবে।
- যদি বইয়ের কিছু অংশ পড়ার পর সেটি পড়া অবস্থায় থাকে (যেমন: পৃষ্ঠা ভাঁজ হওয়া, কিছু লেখা দাগ দেওয়া), তবে তা ক্রেতার কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে অথবা দাম কমিয়ে বিক্রি করতে হবে।
কিতাবের রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৪/৪৪০): "বিক্রেতার জন্য পণ্য পরীক্ষা করা জায়েজ, যদি তা নষ্ট না করে।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/৪৫৯): "বই পড়ে দেখা ব্যবসায়িক প্রয়োজন; যদি বই অক্ষত থাকে, তবে বিক্রি করা জায়েজ।"
- আল-হিদায়া (বাবুল বুয়ু‘): "ক্রয়-বিক্রয়ের আগে পণ্য দেখা জায়েজ, এমনকি তা ব্যবসায়িক প্রথা।"
সারমর্ম: বই পড়ে বিক্রি করা জায়েজ, তবে প্রতারণা বা ক্ষতি না করার শর্তে।
উপসংহার:
১. বাচ্চাদের প্রাণীর ছবিযুক্ত বই (হারাম বিষয়বিহীন) বিক্রি করা জায়েজ, তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ছবি পরিহার করা উত্তম।
২. বই বিক্রির উদ্দেশ্যে পড়ে তা বিক্রি করা জায়েজ, যদি বই অক্ষত থাকে ও ক্রেতাকে সঠিক অবস্থা জানানো হয়।