Last time ask

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2798
Questioner: Alisha Tasnim
Question Asked: 17 Jul 2026, 11:54 AM
Reviewed & Published: 17 Jul 2026, 01:44 PM
Views: 49
Tokens: 24,278
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার ওয়াসওয়াসা (মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা অবসেসিভ থট)-এর সমস্যার কারণে স্বামীকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যার ফলে আমাদের মধ্যে একটি বড় ধরণের ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।, আমাদের ঝগড়াটি শুরু হয়েছিল আমার স্বামী প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসেজে লিখেন"Just leave me alone"। তিনি আরও লিখেন "Jkhni vabi kichu bolbo na r, Tkni tor natok suru hoi" এবং চরম হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, "Tor sathe 3/4 mas ai thakte parchi na, Baki jobon ki aksathe somvob?"। তার এই ভবিষ্যৎ নিয়ে করা প্রশ্ন ও দূরত্বের কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি জানতে চাই, "To ki korte chaisen, Bolen suni"। জবাবে তিনি আমাকে বলেন, "Tui kor"। আমি জানতে চাই, "Ki korbo?" (এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ), তখন তিনি রেগে গিয়ে বলেন, "Ja Kore baracchis" এবং ওসব বিষয় নিয়ে তাকে আর কোনো মানসিক চাপ না দিতে বারণ করে বলেন, "But amke para dibi na oisob nia"। তখন আমি প্রশ্ন করি, তুই কর বলার দ্বারা "Eta diye ki apnk bad dite bolsilen" অর্থাৎ আমি জানতে চাই যে তিনি তাঁর এই কথার দ্বারা আমাকে বা আমাদের সম্পর্ককে তাঁর জীবন থেকে বাদ দিতে বলছেন কি না? তখন তিনি উত্তর দেন, "Iccha hole dibi" এবং জানান যে তিনি তা মেনে নেবেন অর্থাৎ "Accept kore nibo"। সবশেষে আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়ে বলি, "Iccha nai kono"( এইটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ) এবং "Dewar iccha nai"। এগুলো দিয়ে উনি আমাকে বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারি আমাকে জোর করে ধরে রাখবেন না এগুলো দিয়ে উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা বুঝায় নি বা গ্রহন করতে বলেন নি ।এগুলো বলার পরে উনি আমাকে বলেন যে তোকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে রাখালাম তুই ও ডিভোর্স দিতে পারবি আমি বলি নিবনা এই অধিকার এবং উনি বার বার বলতে থাকে আর আমি বার বার বলি নিবো না জোর করে দিবেন নাকি এগুলা বলার দ্বারা উনি শুধুমাত্র রাগ প্রকাশ করেছেন আমাকে সত্যি সত্যি তালাকের অধিকার দেন নি মেসেজ লিখলেও উনি পরে ফোন কলে বিষয়টা পরিষ্কার করেছেন। ।আমাদের মধ্যকার এই ভুল বোঝাবুঝি আরও জটিল আকার ধারণ করে । উনি আবার ও বলেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম আমি তখন বলি যে নিবো না জোর করে দিবেন নাকি উনি বলেন যে হ্যাঁ আমি বলি জোর করে দেওয়া যায়না আমি নিলাম না তিনি আবার ও বলেন যে তোকে তালাকের পাওয়ার দিয়ে রাখছি তুই ও ডিভোর্স দিতে পারবি আমি বলি জোর করে দিবেন নাকি এগুল এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন আমাকে অধিকার দেন নি শুধু রাগে বলেছেন ।১. উনি এগুলো রাগ করে বলেছেন মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি বা নিয়ত ছিলোনা মেসেজে লিখলেও অধিকার দেন নি রাগ করে বলেছেন আমার অধিকার কি ছিল? আমি না বলে দেওয়ার পরেও মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত? । আমি যখন আবারও নিশ্চিত হতে জানতে চাই, তুই কর বলার দ্বারা"Amk ki nije thake dite bolsilen ETA jante chaisi", তখন তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আরও বলেন, "Dia deh to dia sesh kor(আমাকে অধিকার দেন নি নরমালি রেগে বলেছেন )"। এর উত্তরে আমি সরাসরি জানিয়ে দিই, "Dibona"( এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল) তখন তিনি আমাকে তাঁর নিজের এলাকায় আসার কথা বলে লেখেন, "Rajshahi ay"। পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি মূল বিষয়ে ফিরে এসে তাকে বলি tui kor বলার দ্বারা কি বুঝিয়েছে তাই জিজ্ঞাসা করি "Ami ki ask korchi setar uttor den"। আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "Ay bollam na oita mean kori ni" । কথা গুলো দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারব জোর করে রাখবেন না আর ২.আমার স্বামী জানতেন না যে তালাকের অধিকার শুধু স্বামীর থাকবে বউকে অধিকার দিলে বউ সেটা ব্যবহার করতে পারবে তার আগে পারবেন না আজকে আমার মুখে ফার্স্ট শুনলেন তাই এগুলো বলার সময় অধিকার দিচ্ছেন এটা বুঝায় নি । ৩.আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে তাই আমি কথা গুলো বলার সময় মনের মধ্যে স্ত্রীর তালাক গ্রহণের কথা গুলো মাথায় ঘুরছিল মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয়নি মনে মনে বলছিলাম আর ঢোক গিলছিলাম । কথা গুলো বলার দ্বারা উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা গ্রহন করতে বলেন নি। ৪. আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত ? উনি মুখে বললেও উনি কোন অধিকার দেন নি ।৫.আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে আর উনি যেহেতু অধিকার দেন নি মন থেকে শুধু রাগে বলেছেন তাহলে কি সমস্যা হবে মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে? ৬.আর অধিকারের কথা বলার সময় আমি না করে দিয়েছিলাম তাহলে কি মুখ ফসকে কিছু বার হয়ে গেলে সমস্যা হত ঝগড়া শেষ হলে আমি আবার বলি যে আমি এই অধিকার নিবো না আপনি দিয়েন না উনি বলেন ওকে । এবং আজকেও হামি দিচ্ছিলাম তখন আল্লাহ বলছিলাম কিন্তু মনে মনে ওই একই কথা ঘুরছিল। ৭.গতকাল আগের দিনের ওই ঘটনা নিয়ে স্বামীকে প্রশ্ন করায় স্বামী রেগে গিয়ে বলেন যে "তুই বাদ দে আমাকে" "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম বা তোকে পাওয়ার দিয়ে দিলাম" আমি তখন বলি যে" দিবনা" " তোর অধিকারের মুখে মুতি" ।আমি স্বামীকে পরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে আপনি কি আমাকে কালকের ঘটনার পরে অধিকার দিয়েছিলেন আর উনি বলেন যে না আবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে কালকের ওই অধিকারটা কি শুধু ওই সময়ের জন্যে ছিল উনি বলেন যে হ্যাঁ উনি আরও বলেন যে উনি মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি আগের দিন এবং গত দিন রাগ করে বলেছেন শুধু মন থেকে দেইনি কোনো অধিকার। ৮.যেহেতু উনি অধিকার দেন নি এমনি রাগে বলেছেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম তাহলে কি আমি অধিকার পেয়েছিলাম? এবং আমি যদি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে কি বৈধ হতো। ৯.আমার স্বামী বলেছেন যে তালকের অধিকার দিলাম বা দিয়ে রাখলাম এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন অধিকার দেন নি আমাকে মন থেকে দেন নি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ইচ্ছা বা নিয়ত ছিলোনা অধিকার দেওয়ার আর যেহেতু আমি অধিকার পাই নি তাহলে তো আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো না কারণ আমার কোন ইচ্ছা ছিল না১০. আমার স্বামী বলেছেন যে তালাকের অধিকার দিলাম বা দিয়ে রাখলাম এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন অধিকার দেন নি আমাকে মন থেকে দেন নি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ইচ্ছা বা নিয়ত ছিলোনা অধিকার দেওয়ার আর যেহেতু আমি অধিকার পাই নি তাহলে তো আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো আমি প্রত্যাখ্যান না করলেও ?১১. উনি বলেছেন তালাকের অধিকারের কথা নিয়ত ছাড়া এবং তিনি মন থেকে কোন অধিকার দেন নি অধিকারের কথা বললেও উনি অধিকার দেন নি তাহলে আমি গ্রহণ করে নিয়েছিলাম তাহলে কি বৈধ তালাক হয়েছে ? উনি ফোন কলে বিষয়টা পরিষ্কার করে বলেছেন যে উনি তালাকের অধিকারের কথা বললেও উনি কোন অধিকার দেন নি। আমি আল্লাহর আইন জানতে চায় দয়া করে আমার প্রশ্নগুলো সিরিয়াল নম্বর করে দিয়েছি দয়া করে একটু সহজ উত্তর দিয়ে সাহায্য করেন । আমার স্বামী মুখে রাগ করে এইসব বললেও মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি নিয়ত ও ছিলোনা ইচ্ছাও ছিলো না শুধু মাত্র আমাকে রাগ করে বলেছেন "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম বা তালাকের পাওয়ার দিয়ে রাখলাম " আমার সামনে ও বিষয়টা পরিষ্কার করেছেন যে উনি তালাকের অধিকারের কথা রাগে বলেছেন নিয়ত বা ইচ্ছা ছিলো না । আমাকে একটু সহজ সমাধান দিলে উপকার হয়। ১২. এই ঘটনা গুলার সময় আমার কি অধিকার ছিলো ? ১৩.এখন আছে কি? আমাকে একটু সহজ সমাধান দিলে উপকার হয় অনেক সিরিলা করে একটু উত্তর দিলে ভালো হতো

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم। আপনার দীর্ঘ প্রশ্নটি আমি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনার ওয়াসওয়াসা (OCD) জনিত সমস্যার কারণে আপনি ও আপনার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছে এবং সেই সময় স্বামী রাগের মাথায় কিছু কথা বলেছেন, যা তালাকের অধিকার দানের মতো মনে হচ্ছে। আসলে ইসলামী ফিকহের আলোকে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচে সিরিয়াল ধরে দেওয়া হলো:

প্রশ্ন ১: উনি রাগ করে বলেছেন, মন থেকে অধিকার দেননি, নিয়ত ছিল না। তাহলে আমার কি অধিকার ছিল? আমি না বলে দেওয়ার পরেও মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত?

উত্তর: হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিতে চান, তাহলে তার জন্য স্পষ্ট ইচ্ছা (নিয়ত) এবং সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। শুধু রাগের মাথায় বলা কথা, যা তিনি পরে অস্বীকার করেন এবং বলেন যে তার কোনো নিয়ত ছিল না, তা দ্বারা স্ত্রী তালাকের অধিকার পায় না। আপনি এই অধিকার পেয়েছিলেন না। তাই আপনার মুখ দিয়ে যদি তালাক গ্রহণের কথা ('আমি তালাক নিলাম' ইত্যাদি) বের হত, তাহলেও তা বৈধ তালাক হত না, কারণ স্বামী আপনাকে অধিকারই দেননি। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩)

প্রশ্ন ২: 'Tu kor' বলার দ্বারা তিনি আমাকে নিজে থাকতে দিতে বলেছেন? তিনি রেগে বলেছেন, অধিকার দেননি।

উত্তর: 'তুই কর' বলার দ্বারা সাধারণত 'তুমি যা ইচ্ছা কর' বা 'তোমার ইচ্ছা' বোঝানো হয়। কিন্তু প্রসঙ্গ ও পরবর্তী ব্যাখ্যা দেখে বোঝা যায়, তিনি রাগের মাথায় এটি বলেছেন এবং পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাই এর দ্বারা তালাকের কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। (সূত্র: আল-হিদায়া, ২/৩০০; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪২)

প্রশ্ন ৩: আমার ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল, মুখে উচ্চারণ করিনি। এটি কি কোনো প্রভাব ফেলবে?

উত্তর: মুখে উচ্চারণ না করলে শুধু মনে মনে কোনো চিন্তা আসা বা সংকল্প করা তালাকের জন্য যথেষ্ট নয়। ইসলামে তালাক সাব্যস্ত হওয়ার জন্য স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ করা জরুরি। তাই আপনার মনে মনে আসা চিন্তা কোনো তালাক সৃষ্টি করেনি। (সূত্র: বাহেশতি জেওর, ৮/১৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩৪৫)

প্রশ্ন ৪ & ৫: স্বামী রাগে 'অধিকার দিলাম' বলেছেন, কিন্তু নিয়ত ছিল না। তাহলে আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে সমস্যা হত? আর আমি প্রত্যাখ্যান না করলেও কি সমস্যা হত?

উত্তর: না, সমস্যা হত না। কারণ স্বামীর বক্তব্য ছিল রাগের মাথায় এবং তিনি পরে তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তার কোনো নিয়ত ছিল না। তাই স্ত্রী তার কথাকে তালাকের অধিকার হিসেবে গণ্য করতে পারেন না। এমন অবস্থায় স্ত্রী যদি মুখে কিছু বলেও ফেলে, তাহলেও তা গণ্য হবে না। (সূত্র: ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৩৭৩; শারহু মাআনি আল-আসার, ৩/২৬)

প্রশ্ন ৬: ঝগড়া শেষে আমি বলেছি 'নিবো না, আপনি দেন না', উনি 'ওকে' বলেছেন। এবং আজকেও হামি দিচ্ছিলাম, কিন্তু মনে মনে তালাকের কথা ঘুরছিল। এর প্রভাব কী?

উত্তর: আপনার 'নিবো না' বলা এবং স্বামীর 'ওকে' বলার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আজকেও আপনি শুধু মনে মনে ভেবেছেন, মুখে বলেননি। তাই তালাক বা কোনো অধিকার সাব্যস্ত হয়নি। (সূত্র: বাহেশতি জেওর, ৮/১৮)

প্রশ্ন ৭: স্বামী বলেন 'তুই বাদ দে আমাকে', 'তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম', আমি বলি 'দিবনা', 'তোর অধিকারের মুখে মুতি'। পরে জানতে চাইলে তিনি বলেন অধিকার শুধু ওই সময়ের জন্য ছিল, মন থেকে দেননি।

উত্তর: স্বামী নিজেই যখন বলছেন যে তিনি মন থেকে অধিকার দেননি এবং শুধু ওই সময়ের জন্য রাগে বলেছেন, তখন ইসলামী ফিকহে তা আমলে নেওয়া হয় না। বিশেষ করে স্ত্রী যখন তা প্রত্যাখ্যান করেছে ('দিবনা'), তখন ঐ অধিকার আর কার্যকরী থাকে না। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩)

প্রশ্ন ৮: স্বামী যেহেতু অধিকার দেননি (রাগে বলেছেন), তাহলে যদি আমি গ্রহণ করতাম, তাহলে কি বৈধ হতো?

উত্তর: আপনি যদি তালাক গ্রহণ করতেন (যেমন বলতেন 'আমি তালাক নিলাম'), তাহলে যেহেতু স্বামী সঠিকভাবে অধিকার দেননি, তাই আপনার তালাক পতিত হতো না। অর্থাৎ তা বৈধ হতো না এবং বিবাহ বহাল থাকত। (সূত্র: আল-হিদায়া, ২/৩০০; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪২)

প্রশ্ন ৯ & ১০: যেহেতু অধিকার পাইনি, তাই মুখ দিয়ে কিছু বার হলেও সমস্যা হতো না, আমি প্রত্যাখ্যান না করলেও সমস্যা হতো না?

উত্তর: হ্যাঁ, সমস্যা হতো না। কারণ স্বামীর রাগের বাক্য দ্বারা আপনি কোনো অধিকার পাননি। তাই আপনি সেই অধিকার ব্যবহার করতে পারবেন না, আর আপনি মুখে কিছু বললেও তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। (সূত্র: ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৩৭৩)

প্রশ্ন ১১: স্বামী নিয়ত ছাড়া 'অধিকারের কথা' বলেছেন, তাহলে আমি যদি গ্রহণ করে নিতাম, তাহলে কি বৈধ তালাক হতো? তিনি ফোনে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।

উত্তর: বৈধ হতো না। স্বামীর নিয়ত না থাকা এবং পরবর্তীতে তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাহার করা প্রমাণ করে যে তিনি আপনাকে অধিকার দেননি। তাই আপনি গ্রহণ করলেও তা তালাক হিসেবে গণ্য হতো না। বিবাহ অটুট থাকত। (সূত্র: ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩৪৬; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৩)

প্রশ্ন ১২ & ১৩: ঘটনার সময় এবং এখন আমার কি অধিকার আছে?

উত্তর: ঘটনার সময় আপনার কাছে কোনো তালাকের অধিকার ছিল না। বর্তমানেও আপনার বিবাহ অটুট আছে। কোনো তালাক পতিত হয়নি। স্বামীর রাগের কথা দ্বারা কোনো অধিকার সাব্যস্ত হয়নি। আপনি ও আপনার স্বামী এখনও আইনত স্বামী-স্ত্রী। আপনার উচিত এই বিষয় নিয়ে আর চিন্তা না করে, ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা নেওয়া এবং স্বামীর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা। (সূত্র: বাহেশতি জেওর, ৮/১৮)

সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ:

  • আপনার স্বামী রাগের মাথায় যা বলেছেন, তা দ্বারা আপনাকে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়নি। তিনি পরে তা পরিষ্কার করেছেন।
  • আপনার ওয়াসওয়াসা থাকা সত্ত্বেও আপনি মুখে তালাকের কোনো শব্দ উচ্চারণ করেননি, তাই কোনো তালাক পতিত হয়নি।
  • বর্তমানে আপনার বিবাহ বৈধ ও অটুট রয়েছে।
  • ওয়াসওয়াসা একটি মানসিক রোগ। এর জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি ধৈর্য ও দোয়া প্রয়োজন। আপনি স্বামীকে বুঝিয়ে বলুন আপনার এই সমস্যা সম্পর্কে।
  • ভবিষ্যতে রাগের সময় তালাকের আলোচনা না করাই ভালো। শান্ত মাথায় বসে সমস্যার সমাধান করুন।

উল্লেখিত কিতাব:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২৪৭)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৭৩)
  • আল-হিদায়া (২/৩০০)
  • ফাতাওয়া উসমানি (২/৪২-৪৩)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৩৪৫-৩৪৬)
  • বাহেশতি জেওর (৮/১৭-১৮)
  • শারহু মাআনি আল-আসার (৩/২৬)

দলিল: স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিতে চান, তাহলে তার জন্য স্পষ্ট ইচ্ছা ও জ্ঞান আবশ্যক। রাগের বশে বলা কথা, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়, তা দ্বারা অধিকার সাব্যস্ত হয় না। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩)

আল্লাহ তাআলা আপনাদের সম্পর্ক শান্তি ও স্থিতিশীলতা দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.