রাগের মাথায় স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া প্রসঙ্গে
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার বর্ণিত পুরো ঘটনা বিশ্লেষণ করে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছি—
**১. আপনার স্বামী রাগে “তোকে তালাকের অধিকার দিলাম” বললে আপনি তালাকের অধিকার প্রাপ্তা হবেন।
২. আপনার ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে তালাকের চিন্তা আসা এবং ঢোক গেলা—এতে কোনো তালাক হয় না।
- তালাক কেবল মুখের উচ্চারণ বা স্পষ্ট ইঙ্গিত দ্বারা হয়, মনের কথা দ্বারা নয়। (হেদায়া ২/২৪০, শামী ৩/২৪২)
- আপনি যখন “দিবোনা”, “নিবো না” ইত্যাদি বলেছেন, তা তালাকের ইচ্ছা না থাকায় কেবল প্রত্যাখ্যান। এতে কোনো সমস্যা নেই।
৩. আপনি যদি মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা ভেবেও থাকেন, কিন্তু মুখে উচ্চারণ না করেন, তাহলে তা কোনো তালাক নয়।
- মনের সংকল্প তালাকের জন্য যথেষ্ট নয়; উচ্চারণ বা লিখিত রূপ আবশ্যক। (শরহু মাআনিল আসার ২/২৮৮, উসুলুশ শাশী)
৪. আপনি যখন বারবার “নিবো না” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তখন অধিকার ফুরিয়ে গেছে। পরবর্তীতে আপনার মুখ ফসকে কিছু বললেও (যেমন ‘দিবি’ ইত্যাদি) কোনো তালাক হবে না, কারণ আপনি অধিকার গ্রহণকারিণী ছিলেন না।
৫. “তোর অধিকারের মুখে মুতি” —এই কথার দ্বারাও আপনি তালাক দেননি; বরং অধিকারকে তুচ্ছ করেছেন। ফলে কোনো তালাক হয়নি।
৬. স্বামী ফোনে পরিষ্কার বলেছেন যে তিনি কোনো অধিকার দেননি, শুধু রাগের বশে বলেছেন। সুতরাং আপনার প্রতি কোনো অধিকার অর্পিত হয়নি।
৭. আপনি যদি অধিকার না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনি তালাক দিতে পারবেন না। আর আপনি দিলেও তা বৈধ হবে না। যেহেতু অধিকার ছিলই না, আপনার “দিলাম” বলাটি অর্থহীন।
৮. আপনার মুখ দিয়ে কোনো কিছু বের হয়ে গেলেও (যেমন ‘দিলাম’ বা ‘নিলাম’) তালাক হবে না, কারণ আপনার ইচ্ছা ছিল না এবং অধিকারও ছিল না। হানাফী মতে তালাকের জন্য ইচ্ছা (নিয়ত) জরুরি। (রদ্দুল মুহতার ৩/২৬০)
৯. আপনার স্বামী “তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম” বললেও পরবর্তী স্পষ্টীকরণে তিনি জানিয়েছেন যে তার নিয়ত ছিল না—সুতরাং তা কার্যকর হয়নি। কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি।
সারসংক্ষেপ:
- কোনো তালাক হয়নি। আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল রয়েছে।
- আপনার ওয়াসওয়াসার সমস্যার জন্য মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পাশাপাশি দ্বীনি জ্ঞান অর্জন ও জিকির-আযকারের মাধ্যমে শয়তানের ওয়াসওয়াসা দূর করার চেষ্টা করুন।
- স্বামীর সাথে কথোপকথনে ধৈর্য ধারণ করুন। ঝগড়ার সময় উত্তেজনাপূর্ণ কথা না বলে পরে শান্তভাবে সমাধানের চেষ্টা করুন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (শামী) ৩/২৪৪, ২৬০
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী) ১/৩৭৩
- ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৪৫০
- ফাতাওয়া উসমানী ২/২৫৫
- হেদায়া ২/২৪০
- শরহু মাআনিল আসার ২/২৮৮