তালাকের ওয়াসওয়াসা নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
2779
Questioner:
Alisha Tasnim
Question Asked:
16 Jul 2026, 08:44 PM
Reviewed & Published:
16 Jul 2026, 08:53 PM
Views:
7
Tokens:
22,664
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আমি আমার ওয়াসওয়াসা (মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা অবসেসিভ থট)-এর সমস্যার কারণে স্বামীকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যার ফলে আমাদের মধ্যে একটি বড় ধরণের ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।, আমাদের ঝগড়াটি শুরু হয়েছিল আমার স্বামী প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসেজে লিখেন"Just leave me alone"। তিনি আরও লিখেন "Jkhni vabi kichu bolbo na r, Tkni tor natok suru hoi" এবং চরম হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, "Tor sathe 3/4 mas ai thakte parchi na, Baki jobon ki aksathe somvob?"। তার এই ভবিষ্যৎ নিয়ে করা প্রশ্ন ও দূরত্বের কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি জানতে চাই, "To ki korte chaisen, Bolen suni"। জবাবে তিনি আমাকে বলেন, "Tui kor"। আমি জানতে চাই, "Ki korbo?" (এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ), তখন তিনি রেগে গিয়ে বলেন, "Ja Kore baracchis" এবং ওসব বিষয় নিয়ে তাকে আর কোনো মানসিক চাপ না দিতে বারণ করে বলেন, "But amke para dibi na oisob nia"। তখন আমি প্রশ্ন করি, তুই কর বলার দ্বারা "Eta diye ki apnk bad dite bolsilen" অর্থাৎ আমি জানতে চাই যে তিনি তাঁর এই কথার দ্বারা আমাকে বা আমাদের সম্পর্ককে তাঁর জীবন থেকে বাদ দিতে বলছেন কি না? তখন তিনি উত্তর দেন, "Iccha hole dibi" এবং জানান যে তিনি তা মেনে নেবেন অর্থাৎ "Accept kore nibo"। সবশেষে আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়ে বলি, "Iccha nai kono"( এইটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ) এবং "Dewar iccha nai"। এগুলো দিয়ে উনি আমাকে বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারি আমাকে জোর করে ধরে রাখবেন না এগুলো দিয়ে উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা বুঝায় নি বা গ্রহন করতে বলেন নি ।এগুলো বলার পরে উনি আমাকে বলেন যে তোকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে রাখালাম তুই ও ডিভোর্স দিতে পারবি আমি বলি নিবনা এই অধিকার এবং উনি বার বার বলতে থাকে আর আমি বার বার বলি নিবো না জোর করে দিবেন নাকি এগুলা বলার দ্বারা উনি শুধুমাত্র রাগ প্রকাশ করেছেন আমাকে সত্যি সত্যি তালাকের অধিকার দেন নি মেসেজ লিখলেও উনি পরে ফোন কলে বিষয়টা পরিষ্কার করেছেন। ।আমাদের মধ্যকার এই ভুল বোঝাবুঝি আরও জটিল আকার ধারণ করে । উনি আবার ও বলেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম আমি তখন বলি যে নিবো না জোর করে দিবেন নাকি উনি বলেন যে হ্যাঁ আমি বলি জোর করে দেওয়া যায়না আমি নিলাম না এগুল এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ।১. উনি এগুলো রাগ করে বলেছেন মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি মেসেজে লিখলেও অধিকার দেন নি রাগ করে বলেছেন আমার অধিকার কি ছিল? আমি না বলে দেওয়ার পরেও মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত? । আমি যখন আবারও নিশ্চিত হতে জানতে চাই, তুই কর বলার দ্বারা"Amk ki nije thake dite bolsilen ETA jante chaisi", তখন তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আরও বলেন, "Dia deh to dia sesh kor(আমাকে অধিকার দেন নি নরমালি রেগে বলেছেন )"। এর উত্তরে আমি সরাসরি জানিয়ে দিই, "Dibona"( এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল) তখন তিনি আমাকে তাঁর নিজের এলাকায় আসার কথা বলে লেখেন, "Rajshahi ay"। পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি মূল বিষয়ে ফিরে এসে তাকে বলি tui kor বলার দ্বারা কি বুঝিয়েছে তাই জিজ্ঞাসা করি "Ami ki ask korchi setar uttor den"। আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "Ay bollam na oita mean kori ni" । কথা গুলো দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারব জোর করে রাখবেন না আর ২.আমার স্বামী জানতেন না যে তালাকের অধিকার শুধু স্বামীর থাকবে বউকে অধিকার দিলে বউ সেটা ব্যবহার করতে পারবে তার আগে পারবেন না আজকে আমার মুখে ফার্স্ট শুনলেন তাই এগুলো বলার সময় অধিকার দিচ্ছেন এটা বুঝায় নি । ৩.আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে তাই আমি কথা গুলো বলার সময় মনের মধ্যে স্ত্রীর তালাক গ্রহণের কথা গুলো মাথায় ঘুরছিল মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয়নি মনে মনে বলছিলাম আর ঢোক গিলছিলাম । কথা গুলো বলার দ্বারা উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা গ্রহন করতে বলেন নি। ৪. মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত ।৫.আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে আর উনি যেহেতু অধিকার দেন নি মন থেকে শুধু রাগে বলেছেন তাহলে কি সমস্যা হবে মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে? ৬.আর অধিকারের কথা বলার সময় আমি না করে দিয়েছিলাম তাহলে কি মুখ ফসকে কিছু বার হয়ে গেলে সমস্যা হত ঝগড়া শেষ হলে আমি আবার বলি যে আমি এই অধিকার নিবো না আপনি দিয়েন না উনি বলেন ওকে । এবং আজকেও হামি দিচ্ছিলাম তখন আল্লাহ বলছিলাম কিন্তু মনে মনে ওই একই কথা ঘুরছিল। ৭.গতকাল আগের দিনের ওই ঘটনা নিয়ে স্বামীকে প্রশ্ন করায় স্বামী রেগে গিয়ে বলেন যে "তুই বাদ দে আমাকে" "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম বা তোকে পাওয়ার দিয়ে দিলাম" আমি তখন বলি যে" দিবনা" " তোর অধিকারের মুখে মুতি" ।আমি স্বামীকে পরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে আপনি কি আমাকে কালকের ঘটনার পরে অধিকার দিয়েছিলেন আর উনি বলেন যে না আবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে কালকের ওই অধিকারটা কি শুধু ওই সময়ের জন্যে ছিল উনি বলেন যে হ্যাঁ উনি আরও বলেন যে উনি মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি আগের দিন এবং গত দিন রাগ করে বলেছেন শুধু মন থেকে দেইনি কোনো অধিকার। ৮.যেহেতু উনি অধিকার দেন নি এমনি রাগে বলেছেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম তাহলে কি আমি অধিকার পেয়েছিলাম? এবং আমি যদি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে কি বৈধ হতো। ৯.আমার স্বামী বলেছেন যে তালকের অধিকার দিলাম বা দিয়ে রাখলাম এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন অধিকার দেন নি আমাকে মন থেকে দেন নি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ইচ্ছা বা নিয়ত ছিলোনা অধিকার দেওয়ার আর যেহেতু আমি অধিকার পাই নি তাহলে তো আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো না কারণ আমার কোন ইচ্ছা ছিল না১০. আমার স্বামী বলেছেন যে তালাকের অধিকার দিলাম বা দিয়ে রাখলাম এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন অধিকার দেন নি আমাকে মন থেকে দেন নি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ইচ্ছা বা নিয়ত ছিলোনা অধিকার দেওয়ার আর যেহেতু আমি অধিকার পাই নি তাহলে তো আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো আমি প্রত্যাখ্যান না করলেও ?১১. উনি বলেছেন তালাকের অধিকারের কথা নিয়ত ছাড়া এবং তিনি মন থেকে কোন অধিকার দেন নি অধিকারের কথা বললেও উনি অধিকার দেন নি তাহলে আমি যদি গ্রহণ করে নিয়েছিলাম তাহলে কি বৈধ তালাক হয়েছে ? উনি ফোন কলে বিষয়টা পরিষ্কার করে বলেছেন যে উনি তালাকের অধিকারের কথা বললেও উনি কোন অধিকার দেন নি। আমি আল্লাহর আইন জানতে চায় দয়া করে আমার প্রশ্নগুলো সিরিয়াল নম্বর করে দিয়েছি দয়া করে একটু সহজ উত্তর দিয়ে সাহায্য করেন
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তর:
আপনার বর্ণিত দীর্ঘ ঘটনা ও প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছি। আশা করি, সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী উত্তরগুলো আপনার জন্য সহায়ক হবে।
১. আপনার অধিকার কী ছিল? আপনি না বলার পরেও মুখ দিয়ে কিছু বের হলে কী সমস্যা হতো?
- আপনার স্বামী রাগের মাথায় "তোকে তালাকের অধিকার দিলাম" বলেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর নিয়ত (ইচ্ছা) ছিল না অধিকার দেওয়ার। হানাফী ফিকহ অনুসারে, স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার জন্য (تفویض الطلاق) স্বামীর স্পষ্ট নিয়ত ও ইচ্ছা জরুরি। যদি তিনি শুধু রাগের বশবর্তী হয়ে বলেন এবং পরিষ্কারভাবে বলেন যে তাঁর ইচ্ছা ছিল না, তাহলে তা কার্যকর হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪৫৮)
- অতএব, আপনার কোনো অধিকার তৈরি হয়নি। তাই আপনি না বলার পরেও যদি আপনার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হতো (যেমন "আমি নিলাম" বা "তালাক"), তবুও তা বৈধ হতো না, কারণ আপনার কাছে কোনো অধিকারই ছিল না। আর ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে চিন্তা করা কোনো তালাক নয়।
২. আপনার স্বামী কি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি অধিকার দিচ্ছেন?
- তিনি নিজেই বলেছেন যে তিনি তালাকের অধিকার দেওয়ার নিয়ত করেননি এবং পরে ফোনে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। হানাফী ফিকহে, স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার জন্য স্বামীর স্পষ্ট উক্তি ও ইচ্ছা একসঙ্গে থাকতে হবে। যেহেতু তাঁর ইচ্ছা ছিল না, তাই অধিকার দেওয়া হয়নি। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৮০; আল-হিদায়া, ২/২৮৫)
৩. ওয়াসওয়াসার কারণে আপনি মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে চিন্তা করছিলেন – এর কি কোনো প্রভাব আছে?
- না, কোনো প্রভাব নেই। ইসলামে তালাক শুধু স্পষ্ট উচ্চারণ বা ইশারায় হয়, যা অন্য ব্যক্তি বুঝতে পারে। মনে মনে চিন্তা করা বা অন্তরে তালাকের কথা আসা তালাক গণ্য হয় না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬৬৯; বাহেশ্তি জেওর, ৭/২২)
৪. মুখ দিয়ে কিছু ভুলে বের হয়ে গেলে কী সমস্যা হতো?
- যদি ভুলবশত (অর্থাৎ আপনি ইচ্ছা না করে) মুখ দিয়ে কোনো তালাকের শব্দ বের হতো, তাহলে হানাফী মতে তা কার্যকর হবে না। যেমন: কেউ হাঁচি বা কাশির সময় "তালাক" বলে ফেলে, তা গণ্য হয় না। তবে যদি আপনি সচেতনভাবে বলেন, তাহলে তা গণ্য হতে পারে। কিন্তু এখানে যেহেতু আপনার কাছে অধিকার ছিল না, তাই আপনার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হলেও কোনো তালাক সংঘটিত হতো না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৬৫)
৫. ওয়াসওয়াসার রোগ থাকায় এবং স্বামী অধিকার না দেওয়ায় মুখ দিয়ে কিছু বের হলে কি সমস্যা হতো?
- না, সমস্যা হতো না। কারণ:
(ক) স্বামী অধিকার দেননি, তাই আপনার তালাক দেওয়ার ক্ষমতাই ছিল না।
(খ) ওয়াসওয়াসার কারণে আপনি যদি অনিচ্ছাকৃত কিছু বলেন, তাও তালাক নয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩০০)
৬. আপনি অধিকার প্রত্যাখ্যান করার পরেও মুখ ফসকে কিছু বের হলে কি হতো?
- আপনি স্পষ্টভাবে "নিবো না" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। হানাফী ফিকহে, স্ত্রীকে অধিকার দেওয়ার পর তিনি যদি গ্রহণ না করেন, তাহলে তা বাতিল হয়ে যায়। (আল-হিদায়া, ২/২৮৭) ফলে পরবর্তীতে আপনার মুখ দিয়ে কিছু বের হলেও তা গ্রাহ্য হতো না।
৭. পরের দিন স্বামী আবার "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম" বললে এবং আপনি "দিবনা" বললে কি হলো?
- এটিও আগের মতোই অকার্যকর, কারণ স্বামী জানিয়েছেন যে তিনি রাগের মাথায় বলেছেন, নিয়ত করেননি। আপনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই কোনো অধিকার সৃষ্টি হয়নি। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪৬০)
৮. স্বামী যদি রাগে অধিকারের কথা বলে থাকেন, তাহলে কি আপনি অধিকার পেয়েছিলেন? এবং আপনি গ্রহণ করলে কি বৈধ হতো?
- আপনি অধিকার পাননি, কারণ তাঁর নিয়ত ছিল না। হানাফী ফিকহের বিশুদ্ধ মতে, স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার জন্য স্বামীর ইচ্ছা (নিয়ত) আবশ্যক। যদি তিনি ইচ্ছা না করেন, তবে শুধু কথার দ্বারা তা কার্যকর হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯৪; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪৬৮)
- যদি আপনি গ্রহণও করতেন, তবুও তা বৈধ হতো না, কারণ স্বামীর ইচ্ছা ও গ্রহণযোগ্য নিয়ত ছাড়া স্ত্রীর পক্ষে তালাক নেওয়া সম্ভব নয়। পরে স্বামী ফোনে বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তিনি নিয়ত করেননি।
৯. স্বামী বলেছেন অধিকার দেননি, তাহলে আপনার মুখ দিয়ে কিছু বের হলেও কি সমস্যা হতো?
- সমস্যা হতো না। কারণ:
(ক) আপনার কাছে কোনো অধিকার ছিল না।
(খ) আপনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
(গ) ওয়াসওয়াসার কারণে অনিচ্ছাকৃত উচ্চারণ তালাক নয়।
১০. আপনি প্রত্যাখ্যান না করলেও কি মুখ দিয়ে কিছু বের হলে সমস্যা হতো?
- স্বামী যেহেতু প্রকৃতপক্ষে অধিকার দেননি (নিয়তের অভাবে), তাই আপনি প্রত্যাখ্যান করুন বা না করুন, আপনার তালাক দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। তাই মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হলে তা তালাক গণ্য হতো না। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৮৫)
১১. স্বামী বলেন, তিনি অধিকারের কথা বললেও অধিকার দেননি। আপনি যদি গ্রহণ করে নিতেন, তাহলে কি বৈধ তালাক হতো?
- যেহেতু স্বামী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তাঁর ইচ্ছা ও নিয়ত ছিল না, তাই তিনি প্রকৃতপক্ষে অধিকার দেননি। হানাফী মতে, এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী গ্রহণ করলেও কোনো তালাক সংঘটিত হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯৫) পরে ফোনে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া আপনার জন্য আরও নিরাপদ।
সারসংক্ষেপ:
- আপনার স্বামীর রাগের বাক্যগুলো দ্বারা কোনো তালাক বা অধিকার সৃষ্টি হয়নি।
- আপনি মনে মনে তালাকের চিন্তা করলেও তা তালাক নয়।
- আপনার ওয়াসওয়াসার কারণে কোনো অসাবধানতাবশত উচ্চারণও তালাক হবে না।
- সুতরাং আপনাদের বিবাহ অটুট আছে। আপনারা চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন।
উল্লেখ্য: যেহেতু আপনার ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে, তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ও ধৈর্যের সাথে ইবাদত করা আপনার জন্য উপকারী হবে।
আল্লাহ তাআলা আপনাদের মাঝে শান্তি দান করুন।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (৩/২৯৩-২৯৫)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৪৫৮-৪৬০)
- ফাতাওয়া উসমানী (২/২৮০-২৮৫)
- বাহেশ্তি জেওর (৭/২২, ২৪)
- ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৪৬৮)