গর্ভাবস্থায় রোজা না রেখে কাফফারা দিলে কি হবে?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 2706
Questioner: Fatema
Question Asked: 14 Jul 2026, 04:11 PM
Reviewed & Published: 14 Jul 2026, 04:15 PM
Views: 27
Tokens: 4,962
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
আমি হাই রিক্স প্রেগ্ন্যাসির কারণে এই রমজান মাসে কোনো রোজা রাখতে পারিনি।এর কাফফারা হিসেবে আমি আমার এক আত্মীয়ার বিয়েতে ৩ হাজার টাকা দিয়েছিলাম।সাথে ১হাজার টাকা আলাদা করে হাদিয়া হিসেবে দিয়েছিলাম(উনার টাকার খুব প্রয়োজন ছিলো)কাফফরা কি আদায় হয়েছে? মিড ট্রাইমেস্টারে প্রেগন্যান্সি লস হওয়াতে শারীরিক কন্ডিশন এখনো ভালো না আর বিভিন্ন রকম অসুস্থতার জন্য কাযা রোজা আদায় করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।এখন এই অবস্থায় আমার করনীয় কি?

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই জেনে নিন, রমজানে সফর, অসুস্থতা, গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানের কারণে রোজা না রাখার অনুমতি শরিয়ত দিয়েছে। আপনার ক্ষেত্রে ‘হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি’ একটি বৈধ ওজর (অজুহাত) ছিল। তাই এ রোজাগুলোর শুধু কাযা (পরবর্তীতে আদায়) করা আবশ্যক, কাফফারা নয়। কাফফারা তো শুধু তখনই ওয়াজিব হয়, যখন কোনো বৈধ কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের রোজা ভঙ্গ করা হয়। আপনি তো রোজাই রাখতে পারেননি, তাই এখানে কাফফারার প্রশ্নই আসে না।

আপনি যে ৩০০০ টাকা বিয়েতে ও ১০০০ টাকা হাদিয়া হিসেবে দিয়েছেন, তা সাদাকাহ বা হাদিয়া হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলেও রোজার কাযা বা কাফফারার কোনো বিকল্প নয়। বরং আপনার ওপর এখনও ওই মিস করা রোজাগুলোর কাযা করা ফরজ রয়ে গেছে।

বর্তমানে আপনার করণীয়

  • আপনি ‘মিড ট্রাইমেস্টারে গর্ভপাত’-এর পর এখনো শারীরিকভাবে দুর্বল এবং বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। তাই কাযা রোজা আদায় করা আপনার পক্ষে বর্তমানে সম্ভব হচ্ছে না।
  • যদি ডাক্তাররা নিশ্চিত হন যে আপনার এই শারীরিক অবস্থা শীঘ্রই ভালো হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে রোজা রাখতে পারবেন, তাহলে সে পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। যখন সুস্থ হবেন, তখন যতগুলো রোজা ছুটেছে, সেগুলো কাযা করে নিন।
  • কিন্তু যদি চিকিৎসকের পরামর্শ ও বাস্তব অভিজ্ঞতায় এই সিদ্ধান্ত হয় যে আপনি আর কখনও রোজা রাখার শক্তি ফিরে পাবেন না (অর্থাৎ অসুস্থতা বা দুর্বলতা স্থায়ী), তাহলে আপনার ওপর ফিদইয়া ওয়াজিব হবে। প্রতি মিস রোজার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে দু’বেলা পেট ভরে খাওয়াতে হবে অথবা তার জন্য গম বা চালের মূল্য হিসাবে সাদাকাহ দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের হিসাবে প্রতিদিনের ফিদইয়া প্রায় ৬০-৭০ টাকা (বা কোনো কোনো আলেমের মতে আধা সা’ গমের মূল্য) হতে পারে।

প্রাসঙ্গিক হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি

  • রদ্দুল মুহতার (২/৪১৯): গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিণী যদি নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় রোজা না রাখে, তবে শুধু কাযা ওয়াজিব, কাফফারা নয়।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২০৭): যে ব্যক্তি রোজা রাখতে সম্পূর্ণ অক্ষম (যেমন বার্ধক্য বা অসুস্থতা স্থায়ী), তার জন্য ফিদইয়া দেওয়া জায়েজ।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৩৭-২৩৯): হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর মতে, যদি কোনো নারী পরবর্তীতে কাযা করার সক্ষমতা লাভ করে, তবে ফিদইয়া যথেষ্ট নয়; কাযা করতেই হবে।

সারসংক্ষেপ
১. আপনি সঠিক কারণেই রোজা রাখেননি, তাই কাফফারা আপনার ওপর ওয়াজিব নয়
২. আপনি যে টাকা দিয়েছেন, তা সাদাকাহ হিসাবে গণ্য হবে, রোজার পরিবর্তে নয়।
৩. যতদিন শারীরিকভাবে সক্ষম না হচ্ছেন, ততদিন অপেক্ষা করুন। সুস্থ হলে কাযা আদায় করুন।
৪. যদি স্থায়ী অক্ষমতা প্রমাণিত হয়, তবে ফিদইয়া আদায় করবেন।

আল্লাহ আপনার অসুস্থতা দূর করুন এবং কষ্ট লাঘব করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.