ফোনে নিজেরা "কবুল" বলা ও শারীরিক সম্পর্ক কি বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
একজন মেয়ের তার কাজিনের সাথে রিলেশন ছিলো, মেয়ের বাবা-মা পরিবার সবাই জানতো যে কাজিনের সাথে সম্পর্ক আছে,, কিন্তু এই মেয়ে ও তার কাজিন নিজেরা নিজেরাই ফোনে কবুল বলছিলো,, এরপর কাজিনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে(এটা পরিবার জানতো না) পরে আবার ওই মেয়ের অন্য ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছে এখন তার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি তার কাজিনের সাথে ফোনে যে কবুল বলেছিলো + শারীরিক সম্পর্ক তার কি ওটা বিয়ে হিসেবে গন্য হবে?? পরে যে বিয়ে হলো অন্য আরেকজনের সাথে এটার ব্যাপার এ কি বলবেন??
Answer
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, একটি মেয়ে তার কাজিনের সাথে প্রেমের সম্পর্কে ছিল। পরিবার জানত। পরে ঐ মেয়ে ও কাজিন নিজেরাই ফোনে একে অপরকে "কবুল" বলেছে। তারপর তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। এরপর মেয়েটির অপর এক যুবকের সাথে বিয়ে হয়েছে। এখন জানতে চান, ফোনে "কবুল" বলা এবং শারীরিক সম্পর্ক কি বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে? এবং পরবর্তী বিয়ের বিধান কী?
১. ফোনে নিজেরা নিজেরাই "কবুল" বলা কি বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে?
না, এটি কোনোভাবেই বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ:
- সাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় না: হানাফি ফিকহের মতে, বিয়ের জন্য কমপক্ষে দুইজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি জরুরি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "لا نكاح إلا بولي وشاهدين" (অর্থ: "পিতার অনুমতি ও দুই সাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় না।") — (শারহে মা'আনিল আছার, তহাবী; রদ্দুল মুহতার, ৩/১৩)
- অভিভাবকের অনুমতি: কুমারী মেয়ের বিয়ের জন্য অভিভাবকের (ওয়ালি) অনুমতি আবশ্যক। ফোনে নিজেরা নিজেরাই "কবুল" বলার সময় কোনো সাক্ষী বা অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন না, তাই এটি একেবারেই অবৈধ।
- ফোনের মাধ্যমে বিয়ে: ফোনের মাধ্যমে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য একই মজলিসে ইজাব-কবুলের ধারাবাহিকতা এবং সাক্ষীদের উপস্থিতি প্রয়োজন এখানে তা ছিল না।
- শারীরিক সম্পর্ক: শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার পরেও তা বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে না, বরং এটি জিনা (ব্যভিচার) হিসেবে গণ্য হবে। বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষী ও অভিভাবকের শর্ত পূরণ না হলে শারীরিক সম্পর্ক বিয়েতে পরিণত করে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৭০; রদ্দুল মুহতার, ৩/১০)
সুতরাং, ফোনে "কবুল" বলা এবং শারীরিক সম্পর্ক দ্বারা কোনো বিয়ে সংঘটিত হয়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ও গুনাহের কাজ।
২. পরবর্তী বিয়েটি কি সহিহ হবে?
হ্যাঁ, পরবর্তী বিয়েটি সম্পূর্ণ সহিহ ও বৈধ হবে। কারণ:
- পূর্বের ফোন "কবুল" কোনো বিয়েই ছিল না, তাই মেয়েটি দ্বিতীয় বিয়ের সময় অবিবাহিত ছিলেন।
- দ্বিতীয় বিয়েটি যদি শরয়ি শর্তাবলী (সাক্ষী, অভিভাবকের সম্মতি, ইজাব-কবুল) মেনে সম্পন্ন হয়, তবে তা সহিহ।
- যেহেতু পূর্বের সম্পর্কটি জিনা ছিল, তা দ্বিতীয় বিয়েতে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, তবে বিয়ে ভঙ্গ হবে না। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/২২৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩২১)
৩. গুরুত্বপূর্ণ নসিহত
- মনে রাখতে হবে, ইসলামে প্রেম-প্রীতি ও গোপনে সম্পর্ক রাখা হারাম। বিয়ের নামে সাক্ষী-অভিভাবক ছাড়া কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
- কাজিনের সাথে ব্যভিচার অত্যন্ত জঘন্য গুনাহ। উভয়ের উচিত তাওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা।
- পরিবারের সম্মতি ও সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে করা যাবে না। (মা'আরিফুল কুরআন, সূরা নূর: ৩২)
উপসংহার: প্রশ্নোক্ত মেয়েটির ফোনে "কবুল" বলা এবং শারীরিক সম্পর্ক কোনো বিয়েই নয়। তাই দ্বিতীয় বিয়েটি বৈধ। তবে তাকে পূর্বের পাপের জন্য তওবা করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে হিদায়াত দান করুন। (আমিন)