হায়েজ থেকে পবিত্র অর্জনের সময় যদি ওই ফরজ গোসল আমরা যোহরের যোহরের নামাজের সময় করি তাহলে সকালের ফজরের নামাজ কি কাযা পড়তে হবে??
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর ফজরের নামাজের হুকুম
প্রশ্ন:
যদি কোনো মহিলা হায়েজ (মাসিক) থেকে পবিত্র হন এবং তিনি ফরজ গোসল যোহরের সময় করেন, তবে সকালের ফজরের নামাজ কি কাযা পড়তে হবে?
উত্তর:
হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার অর্থ হলো রক্তপাত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া। ফরজ গোসল করার পূর্বেই মহিলা পবিত্র গণ্য হন; গোসল শুধুমাত্র নামাজের জন্য শারীরিক পবিত্রতা অর্জনের শর্ত। তাই নামাজের দায়িত্ব নির্ভর করে রক্তপাত বন্ধ হওয়ার সময়-এর ওপর, গোসল করার সময়ের ওপর নয়।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি
হানাফি মতে, হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর নিম্নোক্ত নিয়ম প্রযোজ্য:
-
যদি কোনো মহিলা ফজরের সময়ের মধ্যে (অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের আগে) পবিত্র হন এবং তার কাছে গোসল করে অন্তত এক রাকাত নামাজ পড়ার মতো সময় থাকে, তবে তার ওপর ফজরের নামাজ ফরজ। তিনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অলসতার কারণে গোসল দেরি করে ফজরের নামাজের সময় পার করে দেন, তবে তা কাযা করতে হবে। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/৫১৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)
-
যদি তিনি সূর্যোদয়ের পর পবিত্র হন, তবে ফজরের নামাজ তার ওপর ফরজ ছিল না। তাই ফজরের নামাজ কাযা করতে হবে না। (সূত্র: আল-হিদায়া, ১/৫৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৮১)
-
যোহরের সময় গোসল করা—এর দ্বারা বোঝা যায় না যে তিনি ঠিক কখন পবিত্র হয়েছেন। তাই প্রয়োজন:
- যদি রক্তপাত বন্ধ হয় ফজরের সময়ে (সুবহে সাদিকের পর) অথবা তার আগে (যেমন শেষ রাতে), তাহলে ফজর কাযা করতে হবে।
- যদি রক্তপাত বন্ধ হয় ফজরের সময় পার হওয়ার পর (সূর্যোদয়ের পর থেকে যোহরের আগে পর্যন্ত), তাহলে ফজর কাযা করতে হবে না।
গুরুত্বপূর্ণ টিকা
- পবিত্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোসল করা ওয়াজিব (অবশ্য কর্তব্য) নয়, তবে নামাজের সময় হওয়ার আগেই গোসল করে নেওয়া উচিত।
- অনেক মহিলা ভেবে থাকেন যে গোসলের আগ পর্যন্ত তারা অপবিত্র, যা ভুল। বাস্তবে রক্ত বন্ধ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই তারা পবিত্র এবং নামাজের সময়সীমার মধ্যে নামাজ পড়া ফরজ।
সারসংক্ষেপ
| পরিস্থিতি | ফজরের নামাজের হুকুম | |-----------|----------------------| | ফজরের সময়ের মধ্যে (সুবহে সাদিক-সূর্যোদয়) পবিত্র হয়েছে এবং গোসলের সুযোগ ছিল | কাযা করতে হবে (যদি সময়মতো না পড়ে) | | সূর্যোদয়ের পর পবিত্র হয়েছে | কাযা করতে হবে না |
অতএব, প্রশ্নকারিণীকে প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে— ঠিক কখন রক্তপাত বন্ধ হয়েছে। যদি তা ফজরের সময় বা তার আগে হয়, তবে ফজরের নামাজ কাযা পড়তে হবে। আর যদি ফজরের সময় পার হওয়ার পর হয়, তবে কাযা পড়তে হবে না।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি শফী)
- বাহিশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী)
আল্লাহই সবচেয়ে বেশি জানেন।