রাগের মাথায় স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিলে সে অধিকার পাবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
2638
Questioner:
Alisha Tasnim
Question Asked:
13 Jul 2026, 10:30 AM
Reviewed & Published:
13 Jul 2026, 10:45 AM
Views:
50
Tokens:
21,396
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আমি আমার ওয়াসওয়াসা (মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা অবসেসিভ থট)-এর সমস্যার কারণে স্বামীকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যার ফলে আমাদের মধ্যে একটি বড় ধরণের ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।, আমাদের ঝগড়াটি শুরু হয়েছিল আমার স্বামী প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসেজে লিখেন"Just leave me alone"। তিনি আরও লিখেন "Jkhni vabi kichu bolbo na r, Tkni tor natok suru hoi" এবং চরম হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, "Tor sathe 3/4 mas ai thakte parchi na, Baki jobon ki aksathe somvob?"। তার এই ভবিষ্যৎ নিয়ে করা প্রশ্ন ও দূরত্বের কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি জানতে চাই, "To ki korte chaisen, Bolen suni"। জবাবে তিনি আমাকে বলেন, "Tui kor"। আমি জানতে চাই, "Ki korbo?" (এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ), তখন তিনি রেগে গিয়ে বলেন, "Ja Kore baracchis" এবং ওসব বিষয় নিয়ে তাকে আর কোনো মানসিক চাপ না দিতে বারণ করে বলেন, "But amke para dibi na oisob nia"। তখন আমি প্রশ্ন করি, তুই কর বলার দ্বারা "Eta diye ki apnk bad dite bolsilen" অর্থাৎ আমি জানতে চাই যে তিনি তাঁর এই কথার দ্বারা আমাকে বা আমাদের সম্পর্ককে তাঁর জীবন থেকে বাদ দিতে বলছেন কি না? তখন তিনি উত্তর দেন, "Iccha hole dibi" এবং জানান যে তিনি তা মেনে নেবেন অর্থাৎ "Accept kore nibo"। সবশেষে আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়ে বলি, "Iccha nai kono"( এইটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ) এবং "Dewar iccha nai"। এগুলো দিয়ে উনি আমাকে বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারি আমাকে জোর করে ধরে রাখবেন না এগুলো দিয়ে উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা বুঝায় নি বা গ্রহন করতে বলেন নি ।এগুলো বলার পরে উনি আমাকে বলেন যে তোকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে রাখালাম তুই ও ডিভোর্স দিতে পারবি আমি বলি নিবনা এই অধিকার এবং উনি বার বার বলতে থাকে আর আমি বার বার বলি নিবো না জোর করে দিবেন নাকি এগুলা বলার দ্বারা উনি শুধুমাত্র রাগ প্রকাশ করেছেন আমাকে সত্যি সত্যি তালাকের অধিকার দেন নি মেসেজ লিখলেও উনি পরে ফোন কলে বিষয়টা পরিষ্কার করেছেন। ।আমাদের মধ্যকার এই ভুল বোঝাবুঝি আরও জটিল আকার ধারণ করে । উনি আবার ও বলেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম আমি তখন বলি যে নিবো না জোর করে দিবেন নাকি উনি বলেন যে হ্যাঁ আমি বলি জোর করে দেওয়া যায়না আমি নিলাম না এগুল এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ।১. উনি এগুলো রাগ করে বলেছেন মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি মেসেজে লিখলেও অধিকার দেন নি রাগ করে বলেছেন আমার অধিকার কি ছিল? আমি না বলে দেওয়ার পরেও মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত? । আমি যখন আবারও নিশ্চিত হতে জানতে চাই, তুই কর বলার দ্বারা"Amk ki nije thake dite bolsilen ETA jante chaisi", তখন তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আরও বলেন, "Dia deh to dia sesh kor(আমাকে অধিকার দেন নি নরমালি রেগে বলেছেন )"। এর উত্তরে আমি সরাসরি জানিয়ে দিই, "Dibona"( এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল) তখন তিনি আমাকে তাঁর নিজের এলাকায় আসার কথা বলে লেখেন, "Rajshahi ay"। পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি মূল বিষয়ে ফিরে এসে তাকে বলি tui kor বলার দ্বারা কি বুঝিয়েছে তাই জিজ্ঞাসা করি "Ami ki ask korchi setar uttor den"। আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "Ay bollam na oita mean kori ni" । কথা গুলো দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারব জোর করে রাখবেন না আর ২.আমার স্বামী জানতেন না যে তালাকের অধিকার শুধু স্বামীর থাকবে বউকে অধিকার দিলে বউ সেটা ব্যবহার করতে পারবে তার আগে পারবেন না আজকে আমার মুখে ফার্স্ট শুনলেন তাই এগুলো বলার সময় অধিকার দিচ্ছেন এটা বুঝায় নি । ৩.আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে তাই আমি কথা গুলো বলার সময় মনের মধ্যে স্ত্রীর তালাক গ্রহণের কথা গুলো মাথায় ঘুরছিল মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয়নি মনে মনে বলছিলাম আর ঢোক গিলছিলাম । কথা গুলো বলার দ্বারা উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা গ্রহন করতে বলেন নি। ৪. মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত ।৫.আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে আর উনি যেহেতু অধিকার দেন নি মন থেকে শুধু রাগে বলেছেন তাহলে কি সমস্যা হবে মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে? ৬.আর অধিকারের কথা বলার সময় আমি না করে দিয়েছিলাম তাহলে কি মুখ ফসকে কিছু বার হয়ে গেলে সমস্যা হত ঝগড়া শেষ হলে আমি আবার বলি যে আমি এই অধিকার নিবো না আপনি দিয়েন না উনি বলেন ওকে । এবং আজকেও হাম উঠছিল তখন আল্লাহ বলছিলাম কিন্তু মনে মনে ওই একই কথা ঘুরছিল। ৭.গতকাল আগের দিনের ওই ঘটনা নিয়ে স্বামীকে প্রশ্ন করায় স্বামী রেগে গিয়ে বলেন যে "তুই বাদ দে আমাকে" "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম বা তোকে পাওয়ার দিয়ে দিলাম" আমি তখন বলি যে" দিবনা" " তোর অধিকারের মুখে মুতি" ।আমি স্বামীকে পরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে আপনি কি আমাকে কালকের ঘটনার পরে অধিকার দিয়েছিলেন আর উনি বলেন যে না আবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে কালকের ওই অধিকারটা কি শুধু ওই সময়ের জন্যে ছিল উনি বলেন যে হ্যাঁ উনি আরও বলেন যে উনি মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি আগের দিন এবং গত দিন রাগ করে বলেছেন শুধু মন থেকে দেইনি কোনো অধিকার। ৮.যেহেতু উনি অধিকার দেন নি এমনি রাগে বলেছেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম তাহলে কি আমি অধিকার পেয়েছিলাম? এবং আমি যদি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে কি বৈধ হতো। ৯.আমার স্বামী বলেছেন যে তালকের অধিকার দিলাম বা দিয়ে রাখলাম এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন অধিকার দেন নি আমাকে মন থেকে দেন নি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ইচ্ছা বা নিয়ত ছিলোনা অধিকার দেওয়ার আর যেহেতু আমি অধিকার পাই নি তাহলে তো আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো না কারণ আমার কোন ইচ্ছা ছিল না১০. আমার স্বামী বলেছেন যে তালাকের অধিকার দিলাম বা দিয়ে রাখলাম এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন অধিকার দেন নি আমাকে মন থেকে দেন নি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ইচ্ছা বা নিয়ত ছিলোনা অধিকার দেওয়ার আর যেহেতু আমি অধিকার পাই নি তাহলে তো আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো আমি প্রত্যাখ্যান না করলেও ?১১. উনি বলেছেন তালাকের অধিকারের কথা নিয়ত ছাড়া এবং তিনি মন থেকে কোন অধিকার দেন নি অধিকারের কথা বললেও উনি অধিকার দেন নি তাহলে আমি যদি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে কি বৈধ হতো তালাক ? উনি ফোন কলে বিষয়টা পরিষ্কার করে বলেছেন যে উনি তালাকের অধিকারের কথা বললেও উনি কোন অধিকার দেন নি। আমার প্রশ্নগুলো সিরিয়াল নম্বর দিয়ে লিখে দিয়েছি দয়া করে একটু সহজ উত্তর দিয়েন।
Answer
প্রশ্নের উত্তর – সহজ ভাষায় (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)
নিচে আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সিরিয়াল অনুযায়ী দেওয়া হলো:
১. উনি শুধু রাগ করে বলেছেন, মন থেকে অধিকার দেননি। আমার অধিকার কী ছিল? আমি না বলার পরেও মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হতো?
উত্তর:
- আপনি কোনো অধিকার পাননি, কারণ স্বামীর নিয়ত ছাড়া কেবল রাগের বশে বলা কথায় অধিকার দেওয়া হয় না (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭২)।
- আপনি মুখ দিয়ে কিছু না বলায় কোনো সমস্যা হয়নি। আপনি যদি ওয়াসওয়াসাবশত মনে মনে তালাকের কথা ভেবেও থাকেন, তাতে কোনো প্রভাব পড়ে না; কারণ মনের কথা শরিয়তে গণ্য হয় না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫২৮)।
২. স্বামী কি আমাকে তালাকের অধিকার দেওয়ার অর্থ বুঝিয়ে বলেছেন?
উত্তর:
- না। তিনি শুধু রাগে কথাগুলো বলেছেন। পরে ফোনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কোনো অধিকার দেননি এবং তাঁর ইচ্ছাও ছিল না। তাই আপনার জন্য কোনোরূপ অধিকার তৈরি হয়নি।
৩. ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে তালাকের কথা আসছিল, মুখে উচ্চারণ করিনি, ঢোক গিলছিলাম। এতে কি তালাক হয়েছে?
উত্তর:
- তালাক হয়নি। তালাকের জন্য মুখে উচ্চারণ বা লিখিত ঘোষণা জরুরি। কেবল মনের কথা বা ঢোক গিলা তালাক নয় (ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৯; বাহেশতি জেওর, ৮/২২)।
৪. মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হতো?
উত্তর:
- আপনি যদি স্বামীর কথার জবাবে মুখে কোনো তালাকের শব্দ (যেমন: "আমি তালাক দিলাম" বা "আমি ডিভোর্স দিলাম") উচ্চারণ করতেন, তাহলে সেটি তালাক গণ্য হতো, তবে শর্ত ছিল যে স্বামী আপনাকে আগে স্পষ্ট করে অধিকার দিয়ে থাকেন। যেহেতু তিনি অধিকার দেননি, তাই আপনার কথায় তালাক হতো না। কিন্তু আপনি তো বলেননি, তাই সমস্যা নেই।
৫. ওয়াসওয়াসার সমস্যা থাকায় মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও কি সমস্যা হতো?
উত্তর:
- ওয়াসওয়াসা থাকলেও মুখ দিয়ে স্পষ্ট তালাকের শব্দ উচ্চারণ করলে তা কার্যকর হয় (ফাতাওয়া শামি, ১/৪৩৮)। তবে আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু স্বামী অধিকার দেননি, তাই আপনার কথা দিয়ে তালাক হতো না। আর আপনি তো উচ্চারণই করেননি।
৬. অধিকারের কথা বলার সময় আমি না করে দিয়েছিলাম। তাহলে মুখ ফসকে কিছু বার হয়ে গেলে সমস্যা হতো? ঝগড়া শেষে আমি আবার বলি নিব না। আজকেও হাম উঠলে 'আল্লাহ' বলছিলাম, কিন্তু মনে মনে ওই একই কথা ঘুরছিল।
উত্তর:
- না, সমস্যা হতো না। কারণ আপনি স্বামীর দেওয়া অধিকার স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অধিকার প্রত্যাখ্যান করায় তা বাতিল হয়ে গেছে (ফাতাওয়া শামি, ৩/২৪৪)। আজকের দিনেও আপনি যদি মুখে উচ্চারণ না করে থাকেন, তাহলে কিছুই হয়নি।
৭. স্বামী রেগে বলেন "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম" – আমি বলি "দিবনা", "তোর অধিকারের মুখে মুতি"। পরে জানতে চাইলে তিনি বলেন – শুধু ওই সময়ের জন্য, অধিকার দিইনি।
উত্তর:
- আপনার প্রত্যাখ্যান এবং স্বামীর পরবর্তী বিবৃতি মিলিয়ে স্পষ্ট যে কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আপনি "মুখে মুতি" বলে অপমান করলেও তা তালাকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি অশালীন কথা, যা থেকে বিরত থাকা উচিত।
৮. তিনি রাগে অধিকার দেওয়ার কথা বললেও আমি কি অধিকার পেয়েছিলাম? আমি যদি গ্রহণ করতাম তাহলে কি বৈধ হতো?
উত্তর:
- আপনি অধিকার পাননি, কারণ রাগের কথা এবং নিয়তের অভাবের কারণে এটি কার্যকর হয়নি (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩৭; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৫০)।
- আপনি যদি তা গ্রহণ করে নিজেকে তালাক দিতেন, তাহলে তালাক পতিত হতো যদি স্বামীর ইচ্ছা ও নিয়ত থাকত। কিন্তু যেহেতু তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না এবং পরে অগ্রাহ্য করেছেন, তাই গ্রহণ করলেও তালাক পতিত হওয়া নিয়ে মতভেদ আছে। তবে আপনার না করায় এই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক নয়।
৯. স্বামী বলেছেন শুধু রাগে বলেছেন, নিয়ত ছিল না। তাই আমি অধিকার পাইনি। আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো না – এই কথা কি সঠিক?
উত্তর:
- হ্যাঁ, সঠিক। যেহেতু পূর্ণ অধিকার আপনার প্রতি হস্তান্তরিত হয়নি, তাই আপনার নিজের কথায় তালাক হতো না। তবে যদি আপনি "আমি তালাক নিলাম" বলে তালাক গ্রহণ করতে চাইতেন, তাহলে স্বামী যদি পরে অস্বীকার করেন, বিচারকের মাধ্যমে সমাধান নিতে হতো। কিন্তু আপনি তো গ্রহণ করেননি।
১০. অধিকার না পেয়ে থাকলে মুখ দিয়ে কিছু বার হলেও সমস্যা হতো না। আমি প্রত্যাখ্যান না করলেও কি একই কথা?
উত্তর:
- প্রত্যাখ্যান না করলেও, কারণ অধিকারই ছিল না। মুখ দিয়ে বের হলে তা তালাক হতো না। তবে প্রত্যাখ্যান করায় তো আরও নিশ্চিত।
১১. তিনি বলেছেন অধিকার দেওয়ার কথা, কিন্তু নিয়ত ও ইচ্ছা ছিল না। আমি যদি গ্রহণ করতাম তাহলে কি বৈধ হতো? ফোনে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে কোনো অধিকার দেননি।
উত্তর:
- হানাফি ফিকহের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী: যদি স্বামী আসলেই তালাকের অধিকার দেওয়ার ইচ্ছা না করে শুধু রাগের বশে বলে ফেলে, তাহলে সেই অধিকার কার্যকর হয় না – যদিও স্ত্রী তা গ্রহণ করে (ফাতাওয়া শামি, ৩/২৪৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪০)।
- যেহেতু স্বামী পরে ফোনে পরিষ্কার বলেছেন যে তিনি কোনো অধিকার দেননি, সেহেতু আপনার তরফ থেকে সেই অধিকার গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। আপনার বর্তমান বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ ও অবিচ্ছিন্ন।
সারসংক্ষেপ:
- আপনার ও আপনার স্বামীর মধ্যে কোনো তালাক হয়নি।
- আপনার স্বামী আপনাকে তালাকের অধিকার দেননি; যা বলেছেন সব রাগের বশে।
- আপনার ওয়াসওয়াসা থাকা সত্ত্বেও আপনি তালাকের কোনো শব্দ মুখে উচ্চারণ করেননি, তাই কোনো সমস্যা নেই।
- আপনি স্বামীর কথায় সাড়া না দিয়ে বা প্রত্যাখ্যান করে সঠিক কাজই করেছেন।
- এখন থেকে এসব নিয়ে আর ঘাটাঘাটি না করে নিজেদের মধ্যে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করুন। ওয়াসওয়াসা এলে "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম" পড়ুন এবং কাজের কথা ভাবুন।
আল্লাহ আপনাদের সম্পর্ক ভালো করুন। আমিন।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া শামি (রদ্দুল মুহতার) ৩/২৪৩-২৪৪
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৭২
- ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৩৭-৪০
- ফাতাওয়া উসমানি ২/২৯, ২/৩৫০
- বাহেশতি জেওর (তালাক অধ্যায়)
- সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫২৮