কেউ যদি বিয়ের পূর্বে বলে, "আমি যে মেয়েকে বিয়ে করব, সে যদি অমুক কাজ করে, তবে তার তালাক," অতঃপর সে ওই মেয়েকেই বিয়ে করে এবং শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তালাক পতিত হবে।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2607
Questioner: Ll
Question Asked: 12 Jul 2026, 06:45 PM
Reviewed & Published: 12 Jul 2026, 06:50 PM
Views: 62
Tokens: 5,921
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সম্মানীয় মুফতিয়ানে কেরামগণ , একটা ফতওয়া জানার বিষয় এই যে। একজন ছেলে তার এখন বিয়ে হয়নি, ছেলেটি এক দিন রাস্তা থেকে আসছিলো সেদিন আসার সময় বলেছিল আমার বোও আমার মা সাথে খারাপ আচরণ বা কিছু বলে তালাক তার পড় বলে বিয়ের পর বলে কটা একটাই তো বিয়ে করবো তার পড় বলে কিছুবলে বলতে যদি কথা বলে কথা ফের বলবে না কথা বলবে তার পড় বলে আমার বিয়ের পর আমার বোও যদি আমার মা সাথে চিলামিলি ঝগড়া ছামেলা অতিরিক্ত পড়িমানে করে তাহলে তালাক হয়ে যাবে

কটা তার পড় এক দুই পা হেটে গিয়ে নিজে নিজেই হিসেব করতে ছিল মুখ দিয়ে বলে 3 টেই 1টা 1টাই 1টা হয় 1টাই ঠিক আছে বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
একজন অবিবাহিত যুবক ভবিষ্যতের স্ত্রী সম্পর্কে শর্তারোপ করে বলেছে, "আমার বউ যদি আমার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বা কিছু বলে, তাহলে তার তালাক পড়ে যাবে। বিয়ের পর সে যদি মায়ের সাথে অতিরিক্ত ঝগড়া-ঝামেলা করে, তাহলে তালাক হয়ে যাবে।" এরপর সে কিছুক্ষণ হেঁটে নিজে নিজে গণনা করতে করতে মুখে বলেছে, "৩ টেই ১টা, ১টাই ১টা হয়, ১টাই ঠিক আছে, বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না।" এখন জানতে চাওয়া হয়েছে, এতে কী তালাকের কোনো প্রভাব পড়বে? বিয়ের পর শর্ত পূরণ হলে কি তালাক হবে?


উত্তর:

১. বিয়ের পূর্বে ভবিষ্যতের স্ত্রীর জন্য তালাকের শর্তারোপ

হানাফি ফিকহের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, কেউ যদি বিয়ের পূর্বে বলে, "আমি যে মেয়েকে বিয়ে করব, সে যদি অমুক কাজ করে, তবে তার তালাক," অতঃপর সে ওই মেয়েকেই বিয়ে করে এবং শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তালাক পতিত হবে। এটি একটি তালাকে মু'আল্লাক (শর্তসাপেক্ষ তালাক) যা ইসলামি শরিয়তে বৈধ।

রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) ৩/২৭৪-এ বর্ণিত হয়েছে:
"إذا قال لامرأته: إن دخلت الدار فأنت طالق، أو قال لأجنبية: إن تزوجتك فأنت طالق ثم تزوجها، فإن الشرط إذا وجب يقع الطلاق"
অর্থ: "যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে, তুমি যদি ঘরে প্রবেশ কর তবে তুমি তালাক, অথবা কোনো অপরিচিত নারীকে বলে, আমি তোমাকে বিয়ে করলে তুমি তালাক, অতঃপর তাকে বিয়ে করে, তবে শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হবে।"

এছাড়াও ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৩৭৬ এবং ইমদাদুল ফতোয়া ২/২৬৪-এও অনুরূপ বক্তব্য রয়েছে।

২. প্রশ্নে বর্ণিত বক্তব্যের বিশ্লেষণ

প্রশ্নে যুবকটি বলেছে:

"আমার বউ আমার মা সাথের খারাপ আচরণ বা কিছু বলে তালাক তার পড় বলে বিয়ের পর বলে... আমার বিয়ের পর আমার বউ যদি আমার মা সাথে চিলামিলি ঝগড়া ছামেলা অতিরিক্ত পড়িমানে করে তাহলে তালাক হয়ে যাবে।"

এটি স্পষ্টতই একটি শর্তসাপেক্ষ তালাক। যুবকটির বক্তব্যে তালাক শব্দটি সুস্পষ্ট (সরীহ) ব্যবহার হয়েছে। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন নেই। বক্তব্যটি দ্বারা এক তালাকই উদ্দেশ্য বলে গণ্য হবে।

৩. গণনা বা বিড়বিড় করা অংশটির বিধান

যুবকটি বিয়ের পর একা একা হাঁটতে হাঁটতে মুখে বলেছে:

"৩ টেই ১টা, ১টাই ১টা হয়, ১টাই ঠিক আছে, বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না।"

ফিকহের নীতি অনুযায়ী, নিজের মনে বা একাকী অবস্থায় বিড়বিড় করে বলা কথাবার্তা তালাক হিসাবে গণ্য হয় না যদি না তাকে শুনে কেউ সাক্ষী থাকে বা সে ইচ্ছাকৃতভাবে তালাকের নিয়তে তা বলে। এখানে এটি একটি মানসিক হিসাব-নিকাশ বা আত্মস্থিরকরণ বলে প্রতীয়মান হয়, যা তালাকের জন্য যথেষ্ট নয়।

ফতোয়ায়ে উসমানী ১/৪৬৫-এ উল্লেখ রয়েছে:
"নিজের মনে নিজে কথা বলা বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য না করে সাধারণভাবে বলা তালাক হিসাবে গণ্য হয় না।"

৪. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

১. যুবকটির বিয়ের পূর্বে ভবিষ্যত স্ত্রীর জন্য শর্তসাপেক্ষ তালাকের বক্তব্যটি (মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে তালাক) শরিয়তে বৈধ এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তা কার্যকর হবে।

২. বিয়ের পর যদি স্ত্রী সত্যিই উগ্র, অতিরিক্ত ও অসহনীয় মাত্রায় শাশুড়ির সাথে ঝগড়া-ঝামেলা করে এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে এক তালাকে বায়িন (অপুনর্বিবেহযোগ্য তালাক) পতিত হবে। তবে সাধারণ ঝগড়া-বিবাদ বা ছোটখাটো কথাকাটাকাটি তালাকের কারণ হবে না। শর্ত পূরণের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে, সন্দেহ বা অনুমান যথেষ্ট নয়।

ফতোয়ায়ে শামী ৩/২৭৪-এ এসেছে:
الشرط إذا وجد يقع الطلاق، لكن لا بد من تحقق الشرط يقينا
অর্থ: "শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হবে, তবে শর্ত পূরণ নিশ্চিত হতে হবে।"

৩. যুবকটির একা একা গণনার কথা (৩ টেই ১টা ইত্যাদি) তালাকের কোনো প্রভাব ফেলে না। এটি কেবল তার নিজস্ব মানসিক হিসাব।

৫. গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

  • যুবকটির এখনো বিয়ে হয়নি, তাই বর্তমানে কোনো তালাক পতিত হয়নি।

★বিয়ের পর স্ত্রী যদি মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে, সেক্ষেত্রে এক তালাক পতিত হবে।

  • বিয়ের পর স্ত্রী যদি মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করে এবং কোনো প্রকার অতিরিক্ত ঝগড়া-ঝামেলা না করে, তাহলে তালাক হবে না।
  • স্ত্রীকে সুস্পষ্ট ও সাবধান করে দেওয়া উচিত যে, বিয়ের পূর্বে এ ধরনের একটি শর্ত দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি সতর্ক থাকেন।
  • এই ধরনের শর্তসাপেক্ষ তালাক দেওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপজ্জনক। কারণ এটি পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এজাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত এবং যদি পূর্বে বলে ফেলে থাকেন, তবে আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করা প্রয়োজন।

রেফারেন্স সমূহ

  • আল-হিদায়া (২/৪০০): شروط الطلاق ووقوعه
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন, ৩/২৭৪-২৭৬): باب الطلاق بالشرط
  • ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (১/৩৭৬): الطلاق المعلق بالشرط
  • ইমদাদুল ফতোয়া (২/২৬৪-২৬৫)
  • ফতোয়ায়ে উসমানী (১/৪৬৫-৪৬৭)
  • আহসানুল ফতোয়া (৫/২৩০)

সারসংক্ষেপ

| বিষয় | সিদ্ধান্ত | |-------|-----------| | বিয়ের পূর্বে ভবিষ্যৎ স্ত্রীর জন্য শর্তসাপেক্ষ তালাক | বৈধ, শর্ত পূরণে তালাক পতিত হবে | | বিয়ের পর স্ত্রী যদি উত্তম ব্যবহার করে | তালাক পতিত হবে না | | স্ত্রী অতিরিক্ত ঝগড়া করলে | এক তালাকে বায়িন পতিত হবে | | একাকী গণনার কথা (৩ টেই ১টা ইত্যাদি) | তালাকের জন্য অগ্রাহ্য | | শর্ত পূরণের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া জরুরি | হ্যাঁ |

উপদেশ: যুবকটির উচিত তালাকের শর্ত প্রত্যাহার করে নেওয়ার নিয়তে আল্লাহর কাছে তাওবা করা। তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, শর্ত অপসারণ করা সম্ভব নয়; বরং এটি একটি অঙ্গীকার যা পূর্ণ হলে কার্যকর হবে। তাই স্ত্রীকে সতর্ক রাখা এবং উত্তম আচরণের মাধ্যমে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

والله أعلم بالصواب
ওয়া মা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.