মেয়ে শিশুর আকিকার ক্ষেত্রে একটি বকরী না দুইটি? দাদা ও নানার বাসায় ভিন্ন জায়গায় আকিকা করা জায়েয কী না?
Family Life · Hanafi
Question
মুহতারাম মুফতি সাহেব,
১) একজন শিশু কন্যার জন্য তো একটি খাসী দ্বারা আকিকা করতে হয় । কোন সামর্থবান ব্যক্তি কন্যাশিশুর জন্য দুটো খাসী দিয়ে আকিকা করতে পারবেন কী না?
২) কন্যাশিশুর নানার বাসা থেকে চাইছে ওখানে আকিকা দেওয়া হোক, দাদার বাসা থেকে চাইছে যে তাদের ওখানেই আকিকা করা হোক । শিশুর দাদা ও নানার পরিবার দুটো ভিন্ন জেলায় অবস্থিত । কন্যাশিশুর মা-বাবা বিপাকে পড়েছেন এবং তারা জোর দিয়ে অভিভাবকদের উপর কিছু বলতেও পারছেন না । এক্ষেত্রে, দাদার বাসায় একটি খাসী দিয়ে ও নানার বাসায় আরেকটি খাসী দিয়ে আকিকা করা যাবে কী না?
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তর:
শিশু সন্তানের আকিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত। হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, পুত্র সন্তানের জন্য দুটি এবং কন্যা সন্তানের জন্য একটি বকরী (ছাগল/দুম্বা) যবেহ করা সুন্নত। তবে যদি কোনো ব্যক্তি সামর্থ্যবান হয় এবং অধিক সওয়াবের উদ্দেশ্যে কন্যাশিশুর জন্য দুটি বকরী দিয়ে আকিকা করতে চান, তাহলে তা জায়েয আছে। তবে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় বকরীটি আকিকার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না, বরং তা নফল কুরবানী বা সদকারূপে গণ্য হবে। সুন্নত আদায়ের জন্য একটি বকরীই যথেষ্ট।
প্রথম প্রশ্নের উত্তর:
হ্যাঁ, কন্যাশিশুর জন্য দুটি বকরী দিয়ে আকিকা করা যাবে। তবে সুন্নত হচ্ছে একটি বকরী। যদি কেউ দুটি দেয়, তাহলে একটি আকিকার সুন্নত আদায় হবে, আর অপরটি নফল সদকার সওয়াবে গণ্য হবে। এতে কোনো গুনাহ নেই। বরং বেশি সওয়াবের আশা করা যায়। তবে সুন্নতের অনুসরণ উত্তম।
প্রমাণ:
- হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "পুত্র সন্তানের জন্য দুটি এবং কন্যা সন্তানের জন্য একটি বকরী আকিকা করা সুন্নত।" (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
- হানাফী ফিকহের গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (৬/২৯৮) এ উল্লেখ আছে: "কন্যার জন্য একটি বকরী যথেষ্ট। বেশি করা মাকরূহ নয় বরং মুস্তাহাব।"
- মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) ফাতাওয়া উসমানী (২/১৬১) এ লিখেছেন: "কন্যার জন্য একটি বকরী সুন্নত। অধিক দিলে তা নফল সদকা হিসেবে গণ্য হবে।"
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর:
শিশুটির দাদা ও নানা উভয় পক্ষ যদি নিজ নিজ বাসায় আকিকা করার জন্য জোর দেয় এবং মা-বাবা বিপাকে পড়েন, তাহলে তারা চাইলে দাদার বাসায় একটি বকরী এবং নানার বাসায় আরেকটি বকরী দিয়ে আকিকা করতে পারেন। যেহেতু কন্যাশিশুর জন্য একটি বকরী সুন্নত, দ্বিতীয় বকরীটি নফল কুরবানী বা সদকার উদ্দেশ্যে হবে। তাই স্থান ভিন্ন হলেও কোনো সমস্যা নেই।
তবে উত্তম হলো, মা-বাবা নিজেরা একটি বকরী আকিকা হিসেবে যবেহ করবেন এবং তার গোশত উভয় পরিবারে পাঠিয়ে দেবেন। দাদা ও নানার বাসায় আলাদাভাবে আকিকা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু পারিবারিক শান্তি রক্ষার্থে যদি উভয় স্থানে যবেহ করতেই হয়, তবে তা জায়েয। তবে সেক্ষেত্রে উভয় বকরীর ইন্তেকার সঠিকভাবে বণ্টন করতে হবে।
প্রমাণ:
- আকিকার স্থান নির্ধারিত নয়, বরং যেকোনো বৈধ স্থানে যবেহ করা যায়। ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৩৫৫) এ বলা হয়েছে: "আকিকার যবেহর স্থান নির্ধারিত নেই; যেখানে ইচ্ছা করলেই আদায় হবে।"
- বেহেশতী জেওর (২/১৬৮) এ বর্ণিত: "আকিকার গোশত নিজেরা খাওয়া, আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-মিসকীনকে দান করা মুস্তাহাব। এক জায়গায় না করে দুই জায়গায় করলেও চলবে।"
- উপস্থিত পরিস্থিতিতে দাদা ও নানা উভয়ের সম্মান রক্ষার্থে ভিন্ন জায়গায় বকরী যবেহ করায় বাধা নেই। তবে সুন্নত পদ্ধতি হলো একটিই বকরী যবেহ করা।
পরামর্শ:
মা-বাবার উচিত, উভয় পরিবারের সাথে সদয় ব্যবহার করে বোঝানো যে, একটি বকরী দিয়ে আকিকা করাই সুন্নত এবং তার গোশত উভয় বাড়িতে পাঠানো হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে দুটি বকরী যবেহ করে একটিকে দাদার বাড়িতে, অন্যটিকে নানার বাড়িতে দেওয়া জায়েয আছে। এতে দ্বীনি কোনো অসুবিধা নেই।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।