স্বামী ভরণপোষণ না দিলে স্ত্রী কী করতে পারে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, **স্বামী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর ভরণপোষণ (নাফাকা) না দেয়, তাহলে স্ত্রী সরাসরি খোলা তালাক বা ফাসখ (বিবাহ বিচ্ছেদ) পেতে পারেন ।
আপনার প্রশ্নের উত্তর:
১. স্ত্রীকে কি প্রতিবারই আদালতে যেতে হবে?
স্বামী যদি জেনে শুনে এমনটা করে, তাহলে স্ত্রীর জন্য খোলা তালাক গ্রহণ বা কোর্টে স্থায়ী বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে।
২. স্বামী জেল থেকে বেরিয়ে আবার একই কাজ করলে উপায় কী?
এক্ষেত্রে স্ত্রী তিনটি বিকল্পর যেকোনো একটি গ্রহণ করবে:
- খোলা (ফিদয়া): স্ত্রী স্বামীকে কিছু অর্থ বা সম্পদ দিয়ে তালাক নিতে পারেন। এটি ইসলামী আইনে অনুমোদিত।
- আদালতে পুনরায় মামলা: স্বামী জেল থেকে বেরিয়ে নাফাকা দিতে ব্যর্থ হলে, স্ত্রী আবার আদালতে যেতে পারেন এবং জেল বা জরিমানার জন্য আবেদন করতে পারেন।
- স্থায়ী বিচ্ছেদ: যদি স্বামী ক্রমাগত নাফাকা না দেয় এবং স্ত্রীকে ক্ষুধার্ত রাখে, তাহলে স্ত্রী কারণ দর্শিয়ে কোর্টে স্থায়ী বিচ্ছেদের আবেদন করবেন।
৩. স্ত্রী কি কখনো এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাবেন না?
হ্যা, নিম্নলিখিত উপায়ে স্ত্রী অবশ্যই স্থায়ী সমাধান পাবে:
- স্বামীর সম্মতিতে তালাক নেওয়া (খোলা)
- সাক্ষী ও প্রমাণসহ আদালতে স্থায়ী বিচ্ছেদের আবেদন করা
- স্বামীর গায়েবি হলে আদালত থেকে তালাকের অনুমতি নেওয়া। -**গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা।
কুরআন ও হাদিসের রেফারেন্স:
- কুরআন:
- সূরা আত-তালাক (৬৫:৭): "সচ্ছল ব্যক্তি তার সচ্ছলতা অনুযায়ী ব্যয় করবে..."
- সূরা আন-নিসা (৪:৩৪): "পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল... আর যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের সাবধান করো, শয্যা ত্যাগ করো এবং প্রহার করো।" (এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নাফাকা স্বামীর দায়িত্ব)
- হাদিস:
- বুখারি ও মুসলিম: "তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার আছে, আর তোমাদের উপর তাদের অধিকার আছে যে, তোমরা তাদের খাদ্য ও বস্ত্র দেবে।"
- তিরমিজি: "স্বামী যে স্ত্রীর নাফাকা দেয় না, সে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।"
উপসংহার:
স্ত্রীর জন্য সর্বোত্তম পথ হলো:
- স্বামীর সাথে বোঝাপড়া করে নাফাকা নিয়মিত দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
- যদি সম্ভব না হয়, তাহলে খোলা (স্বামীকে অর্থ দিয়ে তালাক নেওয়া) অথবা আদালতের মাধ্যমে স্থায়ী ফাসখ (যেখানে প্রযোজ্য) এর জন্য আবেদন করা।
- প্রয়োজনে আলেম বা মুফতির সাহায্য নেওয়া, যাতে ইসলামী আইন অনুযায়ী সঠিক সমাধান বের করা যায়।
মনে রাখবেন: ইসলামে নাফাকা স্বামীর উপর ফরজ। যদি স্বামী সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নাফাকা না দেয়, তবে সে গুনাহগার এবং স্ত্রী আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।